বাংলাদেশের উন্নয়ন
খুলছে কালশী ফ্লাইওভার, ১৫ মিনিটেই যাওয়া যাবে মিরপুর-উত্তরা
মিরপুর থেকে উত্তরায় যাওয়া যাবে মাত্র ১৫ মিনিটে। সে লক্ষ্যেই ১৯ ফেব্রুয়ারি যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হচ্ছে, মিরপুর-কালশী ফ্লাইওভার। এই এলাকার যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে, এটি বড় ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ফ্লাইওভারে উঠানামার জন্য রাখা হয়েছে পাঁচটি র্যাম্প। এগুলো মিরপুর, ঢাকা সেনানিবাস, উত্তরা, মহাখালী, রামপুরা এবং বিমানবন্দর এলাকায় যান চলাচলকে সহজ করবে।
ইংরেজি অক্ষর 'Y' এর আকারে ডিজাইন করা, ফ্লাইওভারমূখী চার লেনের রাস্তাগুলোকে, ছয় লেনে প্রশস্ত করা হয়েছে। এসব সড়ক ব্যবহার করে, মিরপুরবাসীরা মাত্র ১৫ মিনিটে বিমানবন্দরে পৌঁছাতে সক্ষম হবে।
গত ৭ই ফেব্রুয়ারি কালশী ফ্লাইওভারের কাজ শেষ হয়েছে। অপেক্ষা ছিলো উদ্বোধনের। এবার ঠিক হয়ে গেছে তারিখ। আগামী ১৯শে ফেব্রুয়ারি উদ্বোধন হতে যাচ্ছে কালশী ফাইওভার। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই ফ্লাইওভার উদ্বোধন করবেন।
মিরপুর থেকে উত্তরা যেতে, ঝামেলা কম পোহাতে হয় না অফিসগামী যাত্রীদের। যাত্রীচাপে সবসময়ই ব্যাস্ত থাকে বনানী-এয়ারপোর্ট রোড। ফলে দফায় দফায় জ্যামের মুখে পড়ে নষ্ট হয় কর্মঘন্টা।
আর এয়ারপোর্ট থেকে মিরপুরে ঢোকার প্রবেশপথ হলো কালশী মোড়। এখানে সবসময় জ্যাম লেগেই থাকতো। প্রায় দশ কিলোমিটার পথ ঘুরে মিরপুরে ঢুকতে হতো বলে, এলাকাবাসীর দাবি ছিলো কালশী ফ্লাইওভার নির্মাণের।
মেয়র আতিকুল ইসলাম জানান, মেট্রোরেলের পর মিরপুরবাসীদের জন্য, প্রধানমন্ত্রী আরো একটি উপহার নিয়ে এসেছেন। এই কালশী ফ্লাইওভার মিরপুর বাসীর জন্য, আশীর্বাদ হিসেবে কাজ করবে।
২ দশমিক ৩৪ কিলোমিটারের এই উড়াল পথটি, মিরপুর ডিওএইচ এস থেকে শুরু হয়ে, শেষ হয়েছে ইসিবির কাছাকাছি এলাকায়। পুরো উড়াল সড়কটি দেখতে ইংরেজি Y আকৃতির মতো। এর সাথে তৈরি করা হয়েছে ৩ দশমিক ৭ কিলোমিটাররে এপ্রোচ সড়ক।
প্রকল্পের আওতায় শুধুমাত্র উড়ালসেতুই নির্মাণ হয়নি। বরং নির্মিত হয়েছে দুটি ফুটওভারব্রিজ, একটি পিসি গার্ডার ব্রিজ, একটি পাবলিক টয়লেট, দুটি পুলিশ বক্স, ৭ দশমিক ৪ কিলোমিটার আরসিসি ড্রেন ও সসার ড্রেন, ১ দশমিক ৭৬ কিলোমিটার পাইপ ড্রেন।
এছাড়াও, সাইকেলের জন্য আলাদা লেন করা হয়েছে। যাত্রী উঠানামার জন্য ছয়টি বাস বে ও যাত্রী ছাউনি নির্মাণ করা হয়েছে।
২০১৮ সালের ৯ জানুয়ারি, ইসিবি চত্বর থেকে মিরপুর পর্যন্ত সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন, এবং কালশী মোড়ে ফ্লাইওভার নির্মাণ প্রকল্প একনেকে অনুমোদন পায়।
প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৩ সালের জুন মাস পর্যন্ত থাকলেও, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত সময়ের চার মাস আগেই সকল কার্যক্রম শেষ করেছে। প্রকল্পটি স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতায়, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তত্বাবধানে বাস্তবায়ন হয়েছে।
শুরুতে প্রকল্পের প্রাক্কালিত ব্যায় ৬১২ কোটি টাকা ধরা হলেও, পরবর্তীতে খরচ বেড়েছে। পুরো প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করতে খরচ হয়েছে ১০০০ কোটি টাকা। সম্পুর্ণ অর্থই সরকারের কোষাগার থেকে যোগান দেয়া হয়েছে।
কয়েকবছর ধরে উন্নয়নমূলক কাজ চলতে থাকায়, এ এলাকার মানুষ ভোগান্তির শিকার হয়েছে অনেক। তবে নতুন রাস্তা, সুপ্রশস্ত ফুটপাত, সাইকেল লেন এবং ফ্লাইওভারটি দেখে, সে কষ্ট অনেকটাই লাঘব হয়েছে বাসিন্দাদের।
ভোগান্তি শেষে এবার সুফল ভোগ করার সময় এসে গেছে। আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি কালশী বালুর মাঠে আয়োজিত হবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। উদ্বোধনের আনুষ্ঠানিকতা ঘিরে এখন চারদিকে চলছে শেষ সময়ের প্রস্তুতি। চলছে ঘষামাজা আর সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ।
.jpg)
.jpg)


.webp)
.jpg)
.jpg)
.jpg)
.jpg)