বাংলাদেশের উন্নয়ন
শাহজালাল বিমানবন্দরে আসছে নতুন প্রযুক্তি, বিমানে ওঠার আগেই ধরা পড়বেন অপরাধী
বিমানবন্দর দিয়ে চোরাচালান, পালিয়ে যাওয়া আর অন্য দেশ থেকে পালিয়ে অন্য দেশে আশ্রয় নেওয়া হরহামেশাই দেখা যায়। এইসব অসাধু ব্যাক্তিদের ধরতে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষও নানা ধরনের নিরাপত্তামুলক ব্যবস্থা নিয়ে থাকেন।
অপরাধের মাত্রা কমাতে বিমানবন্দর এলাকায় ইমিগ্রেশন পুলিশ, আনসার, কাস্টমস এর কর্মকর্তারাও নানা অভিযান পরিচালনা করে থাকেন। ব্যবহার করেন নানা প্রযুক্তিও।
তবুও কোনো না কোনো ফাঁক ফোকর দিয়ে ঠিকই এই অসাধু ব্যাক্তিরা নিজেদের অপরাধী কার্যক্রম করে পার পেয়ে যান।
তবে এইবার এইসবের শেষ হতে চলছে বলে আশা করা যাচ্ছে। ঢাকার শাহজালাল বিমানবন্দরে অপরাধী ধরার জন্য আনা হচ্ছে নতুন এক প্রযুক্তি। যার মাধ্যমে কোনো অপরাধী বিমানে উঠার আগেই ধরা পড়বেন। সেই সাথে বিদেশী কোনো সন্ত্রাসী যদি কোনো না কোনো ভাবে দেশে প্রবেশের চেষ্টা করে, সেই তথ্যও ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে তৎক্ষণাৎ চলে যাবে।
আধুনিক এই প্রযুক্তির নাম হচ্ছে অ্যাডভান্স প্যাসেঞ্জার ইনফরমেশন সিস্টেম (APIS) । আর শাহজালাল বিমানবন্দরে এই প্রযুক্তির
স্থাপন করতে যাচ্ছে বেসরকারি বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ।
আশা করা যাচ্ছে, এই প্রযুক্তি আসার পর শাহজালাল বিমানবন্দরে যাত্রী বেশে থাকা চোরাকারবারী, মাদক চোরাচালানকারী, মানব পাচারকারী, শীর্ষ অপরাধীর সবাই দেশ ত্যাগ করার আগেই ধরা পড়বেন।
APIS প্রযুক্তির দ্বারা মূলত অন্য কোনো দেশ থেকে আসা যেকোনো বিমান ফ্লাইটের সব যাত্রীদের যাবতীয় তথ্য উপাত্ত বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে সংগ্রহ করে। এসব তথ্য সংগ্রহের কাজ টিকেট কাটার সাথে সাথেই হয়ে যাবে।
তথ্য বিশ্লেষণের জন্য APIS জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অপরাধীদের তালিকার সাথে ফ্লাইটের যাত্রীদের নাম-ঠিকানা যাচাই-বাছাই করবে। সেইসাথে প্রযুক্তিটি নাম, নামের বানান, বানানের বৈচিত্রও বিশেষভাবে বিশ্লেষণ করবে। এই বাছাই কার্যক্রমে যদি কাউকে সন্দেহভাজন হিসেবে পাওয়া যায়, তবে সে ব্যাক্তির তথ্য সরাসরি ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষকে পাঠিয়ে দিবে APIS.
ফলে ওই অপরাধী সহজেই ধরা পড়বে।
আর অপরাধী ধরতে APIS এর যেকোনো তথ্য ইমিগ্রেশন পুলিশ, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট বিভাগ, ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টার, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড, জাতীয় নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থাসমূহ এবং বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ চাইলেই ব্যবহার করতে পারবেন।
প্রযুক্তিটি বাস্তবায়ন করার লক্ষ্যে গত বছরের ডিসেম্বর মাসেই এমিরেটস টেকনলোজিস এর সাথে ৮ বছরের জন্য সমোঝোতা স্মারক সাক্ষর করেছে বেবিচক। এমিরেটস টেকনলোজিস এই প্রযুক্তি বাস্তবায়ন করতে আর্থিক ও টেকনিক্যাল সহায়তা দিবে। আশা করা যাচ্ছে এ বছর থেকেই এই প্রযুক্তির ব্যাবহার করতে পারবে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ।
পুরো প্রযুক্তি বাস্তবায়ন করতে খরচ হবে ৪০ থেকে ৫০ কোটি টাকা। যার পুরোটাই অবশ্য এমিরেটস টেকনলোজিস দিচ্ছে। পরবর্তীতে বেবিচক প্রতিবছর নির্দিষ্ট হারে এমিরেটস টেকনলোজিস কে ফি দিয়ে পাওনা পরিশোধ করবে।
তবে এই প্রযুক্তি চালু হলে যাত্রী প্রতি সাড়ে তিন ডলার চার্জ করবে বেবিচক। যাত্রীদের থেকে পাওয়া এই টাকার ২০ শতাংশ নেবে বেবিচক।
এ হিসেব অনু্যায়ী ৮ বছরে যাত্রীদের থেকে টাকা আয় হবে ১৪০ কোটি টাকা, এমিরেটস টেকনলোজিস কে লভ্যাংশ সহ টাকা ফেরত দেওয়ার পর এখন বেবিচকের কত লাভ হয় সেটাই এখন দেখার বিষয়।
.jpg)
.jpg)


.webp)
.jpg)
.jpg)
.jpg)
.jpg)