বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব টানেল দেশের অর্থনীতিতে ব্যাপক পরিবর্তন আনতে চলেছে। চট্টগ্রামের কর্ণফুলি নদীর তলদেশে নির্মানাধীন রয়েছে এটি। এই টানেল আনোয়ারা উপজেলাকে মূল শহরের সাথে যুক্ত করবে।
ইতিমধ্যে টানেলের দুই পাড়ে ব্যাপক শিল্পায়ন এবং ইপিজেড নির্মান শুরু হয়েছে। যা সার্বিকভাবে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।
এই টানেলকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ পতেঙ্গা, পারকির চরের বিশাল এলাকা জুড়ে বিনোদন কেন্দ্র গড়ে তোলা হচ্ছে।
কর্ণফুলি নদীর পাশে বিশাল এমিউজমেন্ট পার্ক, ক্যাম্পিং প্লেস, ওয়াটার পার্ক গড়ে তোলা হবে। এসব উদ্যোগ চট্টগ্রামকে একটি অন্যতম টুরিস্ট ডেস্টিনেশনে পরিণত করবে।
সেই সাথে সমৃদ্ধ করবে দেশের অর্থনীতিকে। তাছাড়া এসব জায়গায় অনেক মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে। এই টানেলের কারনে গোটা আনোয়ারা এবং তার আশেপাশে অনেক শিল্প এলাকা তৈরি হবে।
বর্তমানে সেখানকার মোট ছয় হাজার পঞ্চান্ন একর জমি শিল্প এলাকা হিসেবে ব্যবহৃত হয়। টানেল চালু হলে প্রায় নয় হাজার একর জমি শিল্পায়নের আওতায় আসবে।
আন্ডার গ্রাউন্ড এই টানেলটি সম্পূর্ণ চালু হবার আগেই কর্ণফুলি নদীর দক্ষিণ তীরে নানা কারখানা গড়ে উঠেছে।
মোস্তফা হাকিম গ্রুপ ইস্পাত ও অক্সিজেন প্লান্ট তৈরি করেছে। বর্তমানে সেখানে দুই হাজার লোক কাজ করছেন।
এছাড়া চট্টগ্রামের জুলহা নামক স্থানে সুপার ফার্মাসিউটিক্যাল, পার্টেক্স, এয়িকন, বিএনও লুব্রিক্যান্টস কোম্পানি গুলোর কারখানা নির্মান চলছে।
ইসানগর ও খোয়াজনগর নামক স্থানে গড়ে উঠেছে বেলামি টেক্সটাইল, এটিপি ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড, জিএসএল এক্সপোর্ট, ইউসা ব্যাটারি সহ আরো কয়েকটি কোম্পানির কারখানা।
টানেলের সংযোগ সড়কের পাশেই তৈরি হচ্ছে এইচএস কোম্পানি টেক্সটাইল। সেখানে ৩-৫ হাজার লোকের কর্ম সংস্থান তৈরি হবে।
আনোয়ারা উপজেলায় আকিজ গ্রুপ, ফোর এইচ গ্রুপ, ডায়মন্ড সিমেন্ট, এস আলম গ্রুপ সহ বড় বড় কোম্পানি গুলো তাদের ফ্যাক্টরি নির্মান করতে চলছে৷
এছাড়াও সেখানে ৭৮১ একর জায়গা জুড়ে জি টু জি চাইনিজ ইকোনমিক জোন তৈরির কাজ চলছে। এই কাজ শেষ হলে দুই লাখ লোকের কর্ম সংস্থান হবে।
এই স্পেশাল ইকোনোমিক জোনে দেশি বিদেশি ৬০ টি কোম্পানি প্রায় ২৮০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করার আগ্রহ দেখিয়েছে।
কর্ণফুলির দুই পাড়ের এমন শিল্পায়ন চট্টগ্রামকে একটি বিজনেস হাবে পরিণত করতে চলেছে। সেই সাথে দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখতে ভূমিকা রাখবে এসব শিল্প প্রতিষ্ঠান।
বঙ্গবন্ধু টানেলটি চালু হওয়ার পরবর্তী পঞ্চাশ বছর সময়ে প্রতি বছর এটি দেশের জিডিপিতে. ১৬৬ শতাংশ অবদান রাখবে৷
টানেল নির্মাণের ফলে চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দর এবং বিমান বন্দরের সাথে দূরত্ব কমবে। ফলে সেখানকার শিল্প প্রতিষ্ঠান গুলো সহজে সমুদ্র বন্দর দিয়ে তাদের কাঁচামাল আমদানি করতে পারবে।
সেই সাথে নিজেদের উৎপাদিত পণ্য রপ্তানিও করতে পারবে। টানেল দিয়ে ভারী পণ্যবাহী যানবাহন চলাচল করলে জানজট বা অন্য কোনো অসুবিধার সম্মুখীন হতে হবে না।
বঙ্গবন্ধু টানেল নির্মানের ফলে ঢাকা থেকে কক্সবাজারের দূরত্ব কমবে। ফলে সেখানে পর্যটকের আগমন বাড়বে৷
একে কেন্দ্র করে নতুন বিনিয়োগ তৈরি হবে। পর্যটন শিল্পে নানা ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটবে। এছাড়া চট্টগ্রাম মূল শহরের সাথে বান্দরবান, কক্সবাজারের যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হবে।
দক্ষিণ এশিয়ার সর্ব বৃহৎ আন্ডার গ্রাউন্ড এই টানেলটি চট্টগ্রাম ও বাংলাদেশের জন্য অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। চট্টগ্রামের মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের পাশাপাশি জাতীয় অর্থনীতিতেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে