ভারতের সবচেয়ে দামি এবং বিলাসবহুল ট্রেন মহারাজা এক্সপ্রেস। এটিকে ডাকা হয় চলন্ত রাজপ্রাসাদ নামে।
পৃথিবীর অন্যতম দামি এই ট্রেনের সর্বোচ্চ ভাড়া ২৬ হাজার ডলার। যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ২৭ লক্ষ টাকার বেশি। এর থেকেই ধারণা পাওয়া যায় কতোটা বিলাসবহুল ট্রেন মহারাজা এক্সপ্রেস।
এই ট্রেনের নামের মতো ভিতরের সবকিছুতেও ফুটিয়ে তোলা হয়েছে রাজকীয় আবহ। মনকাড়া ইন্টেরিওর ডিজাইন এবং নান্দনিক সাজসজ্জা মহারাজা এক্সপ্রেসের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
বেডরুমগুলো সাজানো হয়েছে স্বর্ণের প্রলেপ দেয়া কাপড় দিয়ে। যা রাজা বাদশাদের মতো বিলাসিতার অনুভূতি দেয় যাত্রীদের। অপরদিকে রাজপ্রাসাদের মতো এই ট্রেনের যাত্রীদের সেবায় নিয়োজিত থাকে প্রশিক্ষিত খানসামা রা।
ভারতের গর্ব হিসাবে পরিচিত এই ট্রেনে রয়েছে মোট তেইশটি বগি। সাধারন ট্রেনের মতো শত শত আসন দিয়ে এসব বগি ভরে ফেলা হয়নি।
বরং মহারাজা এক্সপ্রেসে রয়েছে ফাইভস্টার হোটেলের মতো বিলাসবহুল কেবিন। যেগুলোর আয়তন ১১২ স্কয়ার ফিট।
রাজকীয় ইন্টেরিওর ডিজাইনে সাজানো এসব কেবিনে রয়েছে আরামদায়ক সুযোগ সুবিধা। হোটেলের মতো ট্রেনের কেবিনেও আছে এলসিডি টিভি, বিশাল বিছানা এবং এটাচড বাথরুম সুবিধা।
ভারতের সবচেয়ে দামি এই ট্রেনে রয়েছে কয়েক ধরণের কেবিন। এর মাঝে অতিধনীদের জন্য বিলাসবহুল সুইট সুবিধাও আছে।
যেগুলোর প্রতিটি কামরায় দুইটি বিছানা থেকে শুরু করে, অ্যাটাচড ওয়াশরুম, বাথটাব, ফ্রি ওয়াইফাই এবং টেলিফোন সুবিধা রয়েছে, যার মাধ্যমে বিনামূল্যে ফোন করা যায় ভারত এবং বিদেশে।
এই ধরণের যাত্রীদের সেবা দেয়া হয় রাজা বাদশাদের মতো। তাদের জন্য ২৪ ঘন্টা নিয়োজিত থাকে প্যারামেডিক সুবিধা। এমনকি যাত্রীদের জরুরি প্রয়োজনে এয়ার এম্বুলেন্স সুবিধাও প্রধান করে মহারাজা এক্সপ্রেস।
ভারতের চলন্ত রাজপ্রাসাদ নামে পরিচিত এই ট্রেনে মূলত আনন্দ ভ্রমনে বের হন অতিধনী যাত্রীরা। যা স্থায়ী হয় কয়েক দিন পর্যন্ত। পুরো সময় জুড়ে বিরতি ছাড়া বাকি সময় ট্রেনেই থাকেন যাত্রীরা।
সেজন্য মহারাজা এক্সপ্রেসে রয়েছে ফাইভস্টার মানের হোটেল সুবিধা। বিলাসবহুল কক্ষের পাশাপাশি ট্রেনের ভিতরেই পাওয়া যায় আন্তর্জাতিক মানের খাবার।
এর মধ্যে রয়েছে ভারত এবং অন্যান্য দেশের বিখ্যাত সব পদ। যা রান্না করার জন্য নিয়োজিত থাকেন আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন শেফ এবং বাবুর্চিরা।
যাত্রাপথে বিভিন্ন পর্যটনকেদ্র বিরতি দেয় মহারাজা এক্সপ্রেস। এসব জায়গায় যাত্রীদের ছবি তোলা কিংবা অন্য গাড়ি প্রয়োজন হলে সেসব বিনামূল্যে সরবরাহ করে ট্রেন কর্তৃপক্ষ।
এছাড়া চা, কফি, মিনারেল ওয়াটার সবকিছুই বিনামূল্যে পাওয়া যায় মহারাজা এক্সপ্রেসে। যাত্রীদের বিনোদনের জন্য ট্রেনের ভিতরে আছে দুইটি ডাইনিং, দুটি বার এবং একটি প্রশস্ত লাউঞ্জ।
ভ্রমন আনন্দদায়ক করার জন্য প্রয়োজনীয় প্রায় সবকিছুর ব্যবস্থা রয়েছে এই ট্রেনে। যাত্রীরা বই পড়তে চাইলে রাজা ক্লাব নামের লাইব্রেরি থেকে সংগ্রহ করতে পারেন বিভিন্ন ধরণের গ্রন্থ। এছাড়া সৌখিন যাত্রীদের রয়েছে বোর্ড এবং কার্ড খেলে সময় কাটানোর সুবিধা।
বিলাসবহুল এই ট্রেন চলাচল করে কয়েকটি রুটে। এর মাঝে হেরিটেজ অব ইন্ডিয়া রুট সবচেয়ে জনপ্রিয়। আটদিন দীর্ঘ এই প্রমোদ ভ্রমনে উদয়পুর, যোধপুর, জয়পুর, এবং তাজমহলের সহ ভারতের বিখ্যাত কয়েকটি জায়গা দেখার সুযোগ পান যাত্রীরা।
তবে জায়গাগুলোর চেয়ে ট্রেনে ভ্রমনটাই সবচেয়ে বেশি আকর্ষণীয়। হেরিটেজ অব ইন্ডিয়া রুটের আট দিনের ভ্রমনে ভারতের পাঁচ ছয়টি রাজ্য অতিক্রম মহারাজা এক্সপ্রেস। এ সময় ট্রেনে বসে বৈচিত্র্যময় ভারতের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারেন যাত্রীরা।