সারাদেশ


অতিরিক্ত ডিআইজির স্ত্রী হতে চান এমপি, সম্পদ কোটি টাকার বেশি


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:০৫ ডিসেম্বর ২০২৩, ১১:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার

অতিরিক্ত ডিআইজির স্ত্রী হতে চান এমপি, সম্পদ কোটি টাকার বেশি
যমুনার নদীর কোলঘেঁষে বগুড়া-১ (সারিয়াকান্দি-সোনাতলা) আসন। এখানকার রাজনৈতিক পরিসংখ্যান বহুমাত্রিক। আওয়ামী লীগের দখলে এই আসন ছিল পাঁচবার। আর বিএনপির দখলেও ছিল পাঁচবার। একবার জাতীয় পার্টিও ক্ষমতার স্বাদ পায়।

বগুড়া বিএনপির ঘাঁটি হলেও নির্বাচনে অংশ না নেয়ার বিভিন্ন সমীকরণে এই আসনে পরিসংখ্যান এভাবে বদলে গেছে। এবারও ভোটে আসছে না বিএনপি। এইখানে আওয়ামী লীগের প্রার্থীসহ ১১ জন নির্বাচনে লড়তে চান।

তার মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী মোছা. শাহাজাদী আলম লিপি একজন। তার স্বামী হামিদুল আলম মিলন বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশে অতিরিক্ত ডিআইজি হিসেবে কর্মরত। চব্বিশের ভোটে নানা কারণে আলোচনায় এসেছেন তিনি। স্বামীর পরিচয়ও আলোচনায় আসার মধ্যে পড়ে। তফসিল ঘোষণার আগে থেকেই ভোটের মাঠে সরব রয়েছেন এই প্রার্থী। এর মধ্যে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়েও বঞ্চিত হন।

নির্বাচনে অংশ নিতে ইসিতে জমা দেয়া হলফনামায় নিজেকে কোটি টাকার সম্পদের মালিক বলে উল্লেখ করেছেন লিপি।

হলফনামায় তিনি পেশা হিসেবে দেখিয়েছেন ব্যবসা। আর শিক্ষাগত যোগ্যতা এইচএসসি পাস। লিপি কৃষি খাত থেকে বছরে আয় করেন ৫০ হাজার ২০০ টাকা। আর তার স্বামীর কৃষি খাত থেকে আয় ৪ লাখ ৫৮ হাজার ২০০ টাকা। লিপি বাড়ি ভাড়া পান ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা। তার স্বামী পান ৬ লাখ ১ হাজার ২০০ টাকা। স্বামীর চাকরি থেকে বছরে ৯ লাখ ৩৫ হাজার ৭৬০ টাকা আয় হয় বলে হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্যান্য খাতে স্বামীর কোনো আয় না থাকলেও লিপি আয় করেন ৫৭ হাজার ৯৬৬ টাকা। লিপির ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থাকলেও এ খাত থেকে আয়ের পরিমাণ উল্লেখ করা হয়নি।

অস্থাবর সম্পত্তির মধ্যে লিপির নগদ টাকা রয়েছে ২৩ লাখ ৪৮ হাজার ৯০৫ টাকা। তার স্বামীর কাছে নগদ টাকা আছে ২ কোটি ১৩ লাখ ৮৯ হাজার ৩০৯। লিপির স্বামী পুলিশ কর্মকর্তা মিলনের ব্যাংকে ৪১ হাজার ৯১৭ টাকা গচ্ছিত থাকলেও লিপির ব্যাংকে রয়েছে ১২ লাখ ৫৩ হাজার ৯০৫ টাকা।

হলফনামা অনুযায়ী স্ত্রী লিপির চেয়ে স্বামীর অলংকার বেশি। লিপির ১০ ভরি অলংকার থাকলেও স্বামী মিলনের রয়েছে ৫০ ভরি। তবে এটি কী ধরনের অলংকার সেটি উল্লেখ নেই হলফনামায়। এমনকি মূল্যও উল্লেখ করা হয়নি।

লিপির ইলেক্ট্রনিক সামগ্রী রয়েছে ৩০ হাজার টাকার। তার স্বামীর রয়েছে ১ লাখ ৪ হাজার টাকার। ২০ হাজার টাকার আসবাবপত্র রয়েছে লিপির। বিপরীতে স্বামীর রয়েছে ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকার আসবাবপত্র।

লিপি হলফনামায় বলেছেন, তার ২৫৯ দশমিক ৬৯ শতক জমি রয়েছে। যার দাম উল্লেখ করা হয়েছে ৪৪ লাখ ৫৬ হাজার ৬০০ টাকা। অন্যদিকে তার স্বামীর কৃষি জমি রয়েছে ১২১৪ শতক। এই জমির দাম মাত্র ৪ লাখ টাকা বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

১০১ দশমিক ৫৭ শতক অকৃষি জমির মালিক লিপি। যার দাম উল্লেখ করা হয়েছে ২৬ লাখ ১০ হাজার ২৪০ টাকা। তার স্বামী মিলনের ২৫২ দশমিক ৫৩৬ শতক জমি রয়েছে। যার মূল্য ১ কোটি ১৫ লাখ ৫৯ হাজার ২৮০ টাকার বলে দাবি করা হয়েছে।

স্থাবর সম্পদের ক্ষেত্রে লিপির একটি পাঁচতলা দালান। এটি হেবা সূত্রে (বিনা মূল্যে দানপত্র) পাওয়া বলে উল্লেখ করেছেন। আছে নির্মাণাধীন আরও একটি বাড়ি। রয়েছে তিনটি দোকান। লিপির স্বামীর রয়েছে একটি পাঁচতলা দালান, একটি আধাপাকা বাড়ি। তবে হেবা বা দানপত্র সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। এ কারণে কোনো মূল্য উল্লেখ করা হয়নি।


জনপ্রিয়


সারাদেশ থেকে আরও পড়ুন

শেরপুর -৩ আসনে কেউ কাউকে ছাড় দিচ্ছেন না ভোটের মাঠে, শেষ পর্যন্ত জিতবেন কে

শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের স্থগিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটের প্রচারণা তুঙ্গে উঠেছে। আগামী ৯ এপ্রিল ভোটের দিন ঘনিয়ে আসায় শেষ মুহূর্তের গণসংযোগ, পথসভা ও উঠান বৈঠক চলছে। ভোটের মাঠে কেউ কাউকে এক চুলও ছাড় দিতে রাজি নয়।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে অটো পাসের দাবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, উপাচার্যকে হেনস্তার অভিযোগ

আজ সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে গাজীপুরের বোর্ডবাজার এলাকায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক (পাস) তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীরা অটো পাসের দাবিতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। এই সময় শিক্ষার্থীরা উপাচার্য এ এস এম আমানুল্লাহকে হেনস্তা করার পাশাপাশি তাঁর গাড়িতে ভাঙচুর করার অভিযোগ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

‘এবার পরীক্ষায় নকল হবে না’– শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন

শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, “আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি এবার পরীক্ষায় নকল হবে না। কারণ নকল মূলত শিক্ষকদের মাধ্যমে পরিচালিত হয়—যারা এটি বন্ধ করেছে, সেই শিক্ষকরাই কখনও নকল করিয়েছে।”

বহিষ্কারের পর ছাত্রদল নেতার দাবি—‘আমি ট্রান্সজেন্ডার নই, গুজব ছড়ানো হচ্ছে’

কসবা উপজেলা-এ ছাত্রদলের এক নেতাকে বহিষ্কারকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হয়েছে নতুন বিতর্ক। বহিষ্কৃত নেতা রেদোয়ান ইসলাম দাবি করেছেন, তিনি ট্রান্সজেন্ডার নন এবং তাকে ঘিরে ছড়ানো তথ্য সম্পূর্ণ গুজব।