সারাদেশ


আগগোর দুঃখ কেউ দেহেনা


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:০৬ মার্চ ২০২৪, ০২:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার

আগগোর দুঃখ কেউ দেহেনা
আরএম সেলিম শাহী, স্টাফ রিপোর্টার: দেশ স্বাধীন অইলো। আমগোর গ্রামডা দুই ভাগ অইলো। অর্ধেক ভারতে। আর অর্ধেক আমরা। ৫০ বছর অইলো। অহনও আমরা আগের মতোই। আমগোর দু:খ কেউ দেহেনা। এডা সেতুর লাইগা আমরা কত নেতা, মেম্বার চেয়ারম্যান গোরে কইলাম। কেউ দিলোনা। এডার লাইগা মেলা কষ্ট অয়। কথা গুলো বলছেন, শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার কাংশা ইউনিয়নের হালচাটি গ্রামের কৃষক আদিবাসী সুরেন্দ কোচ। তিনি বলেন, যাতায়াতের এডা পথ পোলাপানগোরে কষ্ট আরো বেশি। কালাঘোষা নদীর ওপর এডা সেতু অইলে এই কষ্ট করতে অইবো না। তার প্রতিবেশী প্রেমানন্দ কোচ বলেন, ভোটের লাইগা অনেকে আয়ে। মেলা কতা কয়। সেতু দিবো। ভোট অইলে আর আয়েনা্। এই গ্রামেরই আদিবাসী নারী নাইবালী কোচ। তিনি বলেন, বেডা মানুষরা কাপর তুইলা যাইতে পারে। আমরাতো কাপর ভিজাইয়া যাই। এই সেতু অইলে আমগোর মেলা উপকার অইবো। তিনি আরো বলেন, বর্ষাকালে মাঝে মধ্যেই জোয়ার আসে। নদীতে পানি ভইরা যায়। অহন চলাচল করতে পারিনা। কোনো মানুষ অসুখ অইলে চিকিৎসাও করাতে পারি না। ছেলে মেয়েরা পড়া লেহা করতে যাইতে পারে না। হাতির সমস্যাতো আছেই। এভাবেই আক্ষেপ করে ওই নারী আরো বলেন, আমরা কি সারাজীবন এভাবেই কষ্ট করমু? সোমবার (২৬ ফেব্রুয়ারী) বিকালে সরেজমিন গেলে স্থানীয় বাসিন্দা, জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের লোকজনের কথা বলে ওঠে আসে এমন দুভোর্গের চিত্র। 

গ্রামবাসীরা জানান, হালচাটি গ্রাম। এখানে প্রায় অর্ধশত পরিবারের বসবাস। প্রায় সবাই আদিবাসী। তবে কোচ সম্প্রদায়েরই পরিবারের সংখ্যাই বেশি। গ্রামটির উত্তরে ভারতের বারাংগাপাড়ার হালচাটি গ্রাম। স্বাধীনতার আগের একই গ্রাম ছিল। পরে সীমানা ভাগ হলে গ্রামটি ভাগ হয়ে যায়। গ্রামের মাঝ দিয়ে হয় কাটাতারের বেড়া। বিভক্ত হয়ে পড়ে গ্রামবাসীরা। ভারত থেকে এ গ্রামের মাঝ দিয়ে নেমে এসেছে কালাঘোষা নদী। শুকনো মৌসুমে এনদীতে থাকে হাটু পানি। বর্ষা এলে মাঝে মধ্যে আসে জোয়ার। পানিতে কানায় কানায় ভরে ওঠে নদী। কয়েকদিন বন্ধ থাকে হালচাটিসহ আশপাশের গ্রামবাসীদের চলাচল। চরম বিপাকে শতশত মানুষ। তাদের চলাচলের সড়কটিও দু’পায়ে পাহাড়ি পথ। চলেনা কোনো যানবাহন। স্থানীয় এক শিক্ষক যুগল কিশোর কোচ বলেন, কেউ অসুস্থ্য হলে তাকে কাধেঁ করে নিতে প্রায় এক কিলোমিটার। এর পর বর্ডার সড়ক। আমরা জনপ্রতিনিধি ও সরকারি কর্মকর্তাদের দুর্ভোগের কথা বলি। কিন্তু শুধু প্রতিশ্রুতি দেন। বাস্তবায়ন হয় না। এখানে সেতু হলে হালচাটি গ্রামসহ আশপাশের গ্রামবাসীদের চলাচলে দুভোর্গের অবসান হবে। বদলে যাবে গ্রামবাসীদের জীবনমান। 

এ ব্যাপারে উপজেলা ট্রাইবাল ওয়েল ফেয়ার এসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান নবেশ খকসী বলেন, আমরাতো কোনো বরাদ্দ পাইনা। চেয়ারম্যানরা উদ্যোগ নিলে ত্রাণের টাকায় সেতু করতে পারে। হালচাটি গ্রামবাসীসহ যাতায়াতকারীদের দুভোর্গের সত্যতা নিশ্চিত করে কাংশা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউর বলেন, বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। বরাদ্দ এলেই সেখানে সেতু নির্মাণ হবে। তিনি আরো বলেন, আমারতো সময় শেষ। সেখানে প্রশাসনের লোকজনসহ বিজিবির সদস্যরাও চলাচল করে। বর্ষা এলে চলাচলে মারাত্মক সমস্যা সৃষ্টি হয়। কালাঘোষা নদীর ওপর সেতু হবে। এ স্বপ্ন হালচাটি গ্রামবাসীসহ যাতায়াতকারীদের। এতে বদলে যাবে গ্রামবাসীদের জীবনচিত্র। 



জনপ্রিয়


সারাদেশ থেকে আরও পড়ুন

বিদেশি নারী পর্যটককে ধর্ষণচেষ্টা মামলায় তিনজনের ১০ বছরের কারাদণ্ড

কক্সবাজারে বিদেশি এক নারী পর্যটককে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তিনজনকে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বিএসটিআইয়ের অভিযানে অনুমোদনহীন গিজার বিক্রির দায়ে হায়ার বাংলাদেশকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা

বৈধ মানসনদ (সিএম লাইসেন্স) ও প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র ছাড়া স্টোরেজ ওয়াটার হিটার (গিজার) বাজারজাত করার অভিযোগে হায়ার বাংলাদেশ লিমিটেডকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)। রাজধানীর গুলশান এলাকায় পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতে এ জরিমানা করা হয়।

মিয়ানমারে পাচারের পথে মনপুরায় সিমেন্ট-সার বোঝাই ট্রলার জব্দ, আটক ১

ভোলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা মনপুরা থেকে মিয়ানমারে পাচারের উদ্দেশ্যে নেওয়া সিমেন্ট ও সার বোঝাই একটি ট্রলার জব্দ করেছে পুলিশ ও কোস্টগার্ডের যৌথ দল। এ সময় একজনকে আটক করা হয়েছে। তবে ট্রলারের মালিকসহ আরও কয়েকজন অভিযানের সময় পালিয়ে যান।

আকিজ সিরামিকস এর আরো ৩ টি নতুন এক্সক্লুসিভ শোরুমের উদ্বোধন

দেশের শীর্ষস্থানীয় সিরামিক টাইলস ব্র্যান্ড আকিজ সিরামিকস নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর ও কুমিল্লায় আরও তিনটি নতুন এক্সক্লুসিভ শোরুম উদ্বোধন করেছে। গ্রাহকদের আরও কাছে পৌঁছানো এবং উন্নত সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এসব শোরুম চালু করা হয়েছে।