সারাদেশ


গারো পাহাড়ে বেদখল হচ্ছে বনের জমি, উদ্ধারের উদ্যোগ নেই


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:১১ মার্চ ২০২৪, ০১:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার

গারো পাহাড়ে বেদখল হচ্ছে বনের জমি, উদ্ধারের উদ্যোগ নেই
আরএম সেলিম শাহী, স্টাফ রিপোর্টার:শেরপুরের গারো পাহাড়ে বেদখল হচ্ছে বনের জমি। গারো পাহাড়ে বসবাসকারীরা নানান কৌশলে বনের জমি দখল করে চলেছে। যেন এসব দেখার কেউ নেই। এসব জমিতে অবৈধভাবে বাড়িঘর নির্মাণ করে বসবাস করছেন শতশত মানুষ। 

অভিযোগ রয়েছে, বন বিভাগের স্থানীয় এক শ্রেনীর অসাধু কর্মকর্তা কর্মচারীর যোগসাজশে এখনো থেমে নেই বনের জমি বেদখলের প্রতিযোগিতা। মাঝে মধ্যে  লোক দেখানোর জন্য এসব অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলাও দেয়া হয়েছে। কিন্তু বেদখলীয় জমি উদ্ধার হচ্ছে না। এছাড়া বন বিভাগের পক্ষ থেকে জবরদখলীয় জমিগুলো উদ্ধারের বিষয়ে কোন পদক্ষেপ ও নেয়া হচ্ছে না।   

জানা গেছে, শেরপুরের নালিতাবাড়ী, ঝিনাইগাতী, ও শ্রীবরদী উপজেলার সীমান্তে প্রায় ৪০ কিলোমিটার এলাকায় প্রায় ৩০ হাজার একর বনের জমি রয়েছে। এসব বনের জমিতে এককালে শাল-গজারিসহ দেশীয় ভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষে ছিল ভরপুর।

অভিযোগ রয়েছে, ৯০ দশকের পর শাল গজারী উজাড় করে গড়ে তোলা হয় সামাজিক বনায়ন। আর সামাজিক বনের অংশিদারদের মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে নানা কৌশলে   সেখানে গড়ে উঠেছে শতশত বাড়িঘর। ফলে এককালের  গভীর অরণ্য এখন জনবস্তি। বন বিভাগের শতশত একর জমিতে এখন পুরোদমে চাষাবাদ হচ্ছে। অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে রাবার, উডলড ও সবজি   বাগান, গরু ও মৎস্য খামার। পাল্লা দিয়ে গড়ে উঠেছে দোকানপাটও। অনেকেই জাল কাগজ পত্র তৈরী করে বনের জমি বেদখল করে আসছেন।       

বনবিভাগ সুত্রে জানা গেছে, ময়মনসিংহ বনবিভাগের আওতায় শেরপুরের সীমান্তে ৩টি ফরেস্ট রেঞ্জের আওতায় ২৮ হাজার ২৫১ একর বনের জমি রয়েছে। এর মধ্যে বেদখলীয় বনভূমির পরিমান ৩ হাজার ৪শ একর।  তবে স্থানীয়দের মতে বেদখলীয় জমির পরিমান    দিগুণের ও বেশি হবে। এসব বনভূমি জবরদখলদারের তালিকায় রয়েছে প্রায় ৪ হাজার জবরদখলদার।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, শেরপুরের সীমান্তবর্তী শ্রীবরদী উপজেলার বালিজুরি ফরেস্ট রেঞ্জের আওতায় বনের জমির পরিমাণ ৮৩৪৫.৫০ একর। এখানে বেদখল দেখানো হয়েছে ৪৭৭ একর। ঝিনাইগাতী উপজেলার রাংটিয়া ফরেষ্ট রেঞ্জের আওতায় বনের জমির পরিমাণ ৮৮০২.৮১ একর। এখানে বেদখল দেখানো  হয়েছে ১৪২৬.৫ একর। নালিতাবাড়ি উপজেলার মধুটিলা রেঞ্জের আওতায় বনের জমির পরিমান ৪২৮২.২৯ একর। এখানে বেদখল দেখানো হয়েছে ৫৮৯.৬২ একর। বনবিভাগ সুত্রে জানা গেছে, জমি উদ্ধারের বিষয়ে   আদালতে মামলাও দেয়া হয়েছে। কিন্তু বেদখলীয় জমি  উদ্ধার  হয়নি।

উল্লেখ্য,যে জমি উদ্ধারের বিষয়ে মামলা দায়ের করার কিছুদিন পর উক্ত বন কর্মকর্তা কর্মস্থল থেকে অন্যত্র বদলী হয়ে চলে যান। ফলে তয়- তদবিরের অভাবে মামলাগুলো থেকে খালাস পেয়ে যাচ্ছে জবরদখলকারীরা। যে কারণে উদ্ধার হচ্ছে না বনের বেদখলীয় জমি। ময়মনসিংহ বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আ ন ম আব্দুল ওয়াদুদ বলেন বনের বেদখলীয় জমি উদ্ধারের বিষয়ে তালিকা সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরে প্রেরন করা হয়েছে। যে কোন সময় প্রশাসনের সহায়তায় বেদখলীয় জমি উদ্ধার প্রক্রিয়া শুরু করা হবে।   

জনপ্রিয়


সারাদেশ থেকে আরও পড়ুন

শেরপুর -৩ আসনে কেউ কাউকে ছাড় দিচ্ছেন না ভোটের মাঠে, শেষ পর্যন্ত জিতবেন কে

শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের স্থগিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটের প্রচারণা তুঙ্গে উঠেছে। আগামী ৯ এপ্রিল ভোটের দিন ঘনিয়ে আসায় শেষ মুহূর্তের গণসংযোগ, পথসভা ও উঠান বৈঠক চলছে। ভোটের মাঠে কেউ কাউকে এক চুলও ছাড় দিতে রাজি নয়।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে অটো পাসের দাবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, উপাচার্যকে হেনস্তার অভিযোগ

আজ সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে গাজীপুরের বোর্ডবাজার এলাকায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক (পাস) তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীরা অটো পাসের দাবিতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। এই সময় শিক্ষার্থীরা উপাচার্য এ এস এম আমানুল্লাহকে হেনস্তা করার পাশাপাশি তাঁর গাড়িতে ভাঙচুর করার অভিযোগ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

‘এবার পরীক্ষায় নকল হবে না’– শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন

শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, “আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি এবার পরীক্ষায় নকল হবে না। কারণ নকল মূলত শিক্ষকদের মাধ্যমে পরিচালিত হয়—যারা এটি বন্ধ করেছে, সেই শিক্ষকরাই কখনও নকল করিয়েছে।”

বহিষ্কারের পর ছাত্রদল নেতার দাবি—‘আমি ট্রান্সজেন্ডার নই, গুজব ছড়ানো হচ্ছে’

কসবা উপজেলা-এ ছাত্রদলের এক নেতাকে বহিষ্কারকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হয়েছে নতুন বিতর্ক। বহিষ্কৃত নেতা রেদোয়ান ইসলাম দাবি করেছেন, তিনি ট্রান্সজেন্ডার নন এবং তাকে ঘিরে ছড়ানো তথ্য সম্পূর্ণ গুজব।