লালমনিরহাট প্রতিনিধি ।। অবশেষে এক যুগেরও বেশি সময় অপেক্ষার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী নতুন একটি আন্তঃনগর ট্রেন পেল লালমনিরহাটের মানুষ। 'বুড়িমারী এক্সপ্রেস' নামে নতুন এই আন্তঃনগর ট্রেনটি মঙ্গলবার(১২ মার্চ) দুপুরে বুড়িমারী থেকে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করেছে।
লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার সীমান্তবর্তী বুড়িমারী স্টেশনে ট্রেনটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য মোতাহার হোসেন। এ সময় লালমনিরহাট ২ আসনের এমপি নুরুজ্জামান আহমেদ, ৩ আসনের এমপি মতিয়ার রহমান, পশ্চিমাঞ্চলীয় রেলওয়ের জিএম অসীম কুমার তালুকদারসহ জেলার রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
দেশের দীর্ঘতম (৬০০ কিলোমিটার) রুটের এ ট্রেনটিতে ১৪টি কোচ ও আলাদা খাবারগাড়ী সংযুক্ত রয়েছে। ৬৩৮ আসনের এ ট্রেনটি উদ্বোধনী দিনে ৪৩০জন যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্য ছেড়ে যায়।
বুড়িমারী স্থলবন্দরের নিকটবর্তী বুড়িমারী রেলস্টেশন থেকে ট্রেনটি চালু হওয়ায়- ভারত, ভুটান, নেপালের পাসপোর্ট ও ভিসাধারী যাত্রীরা এখন থেকে সরাসরি ট্রেনযোগে ঢাকা থেকে বুড়িমারী স্থলবন্দরে যাতায়াত করতে পারবেন। এছাড়া ট্রেনটি যাত্রা শুরু করায় লালমনিরহাটের আদিতমারী, কালীগঞ্জ, হাতীবান্ধা এবং পাটগ্রাম উপজেলার কয়েক লাখ মানুষের, রাজধানী ঢাকার সাথে যোগাযোগ আরও সহজ হলো, যা জেলার আর্থসামাজিক উন্নয়নকে আরও ত্বরাণ্বিত করবে।
তবে এই রেলসেবা পুরোপুরি পেতে আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে। কারন বুড়িমারী থেকে চালু হলেও, অবকাঠামোগত দূর্বলতার কারনে আপাতত, লালমনিরহাট রেলস্টেশন থেকে ঢাকা অভিমুখে যাতায়ত করবে ট্রেনটি। বুড়িমারী থেকে লালমনিরহাটে মূল ট্রেনের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের জন্য একটি শাটল ট্রেন পরিচালনা করবে রেল কর্তৃপক্ষ।
বাংলাদেশ রেলওয়ের রাজশাহী পশ্চিম ব্যবস্থাপক অসীম কুমার তালুকদার জানান, ‘বুড়িমারী রেলস্টেশনে ওয়াস পিড ও অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণ না হওয়া পর্যন্ত লালমনিরহাট রেলস্টেশন থেকে বুড়িমারী এক্সপ্রেস ট্রেনটি ঢাকার উদ্দেশ্যে চলাচলা করবে।
পাটগ্রাম উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান রুহুল আমিন বলেন, ‘আমাদের দাবি অতি দ্রুত বুড়িমারী রেলস্টেশনের নির্মাণ কাজ শেষ করে বুড়িমারী এক্সপ্রেস ট্রেনটি বুড়িমারী রেল স্টেশন থেকে চলাচলের দাবি করছি।‘
এদিকে ট্রেনটি বুড়িমারী থেকে ঢাকার পথে ১১ টি স্টেশনে থামবে আর ঢাকা থেকে বুড়িমারীতে ফেরার পথে ১২ টি স্টেশনে থামবে। তবে নতুন এই আন্তঃনগর ট্রেনটির রুট ও যাত্রা বিরতির নির্ধারিত স্থান সংশোধন না করই উদ্বোধন করার অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে হাতীবান্ধা উপজেলায় দুইটি স্টপেজ রাখা হলেও আদিতমারী উপজেলায় কোন স্টপেজ না রাখায় ক্ষুব্ধ হয়ে মানববন্ধন, অবরোধ সহ বিভিন্ন প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করছে স্থানীয়রা।
উল্লখ্য, 'লালমনি এক্সপ্রেস' নামে আরও একটি আন্তঃনগর ট্রেন, লালমনিরহাট-ঢাকা রুটে চলাচল করে থাকে।