সারাদেশ


দুই দিনে চার খুনের মামলায় গোপনে ছোট সাজ্জাদ ও তার স্ত্রী তামান্নার জামিন


সহ-সম্পাদক

শাহারিয়া নয়ন

প্রকাশিত:১৩ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৮:১৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার

দুই দিনে চার খুনের মামলায় গোপনে ছোট সাজ্জাদ ও তার স্ত্রী তামান্নার জামিন
দুই দিনের ব্যবধানে চারটি চাঞ্চল্যকর খুনের মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন পেয়েছেন চট্টগ্রামের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ‘ছোট সাজ্জাদ’ এবং তার স্ত্রী শারমিন আক্তার তামান্না। তবে বিষয়টি পুলিশ, প্রশাসন ও গণমাধ্যমের নজর এড়িয়ে দীর্ঘ সময় গোপন রাখা হয়। জামিননামাগুলো প্রায় আড়াই মাস পর কারাগারে পৌঁছায়। বর্তমানে তাদের অবিলম্বে মুক্তি হয়নি, কারণ সাজ্জাদের বিরুদ্ধে ১৯টি ও তামান্নার বিরুদ্ধে অন্তত ৮টি মামলা রয়েছে।

সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ১৯ আগস্ট চান্দগাঁও থানার দোকান কর্মচারী শহিদুল ইসলাম হত্যা মামলায় ১৫ সেপ্টেম্বর সাজ্জাদ ও তামান্নাকে জামিন দেন হাইকোর্ট। একই দিনে ১৮ আগস্ট পাঁচলাইশ থানার ওয়াসিম আকরাম হত্যা মামলায় তাদেরসহ তিনজনকে জামিন প্রদান করা হয়। এক সপ্তাহ পর, ২২ সেপ্টেম্বর, পাঁচলাইশ থানার দোকান কর্মচারী মো. ফারুক ও আফতাব উদ্দিন তাহসীন হত্যা মামলায়ও তারা জামিন পান। চারটি মামলায়ই বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি ইউসুফ আবদুল্লাহ সুমনের দ্বৈত বেঞ্চ তাদের জামিন দেন।

যদিও ১৫ ও ২২ সেপ্টেম্বর জামিনের আদেশ দেওয়া হয়, হাইকোর্টের সহকারী রেজিস্ট্রার মো. ইউসুফ আলী যথাক্রমে ১৮ সেপ্টেম্বর ও ৫ অক্টোবর স্বাক্ষর করেন। তারপরও চট্টগ্রাম আদালতে জামিননামাগুলো পৌঁছাতে প্রায় আড়াই মাস লেগেছে।

জানা গেছে, জামিন আবেদনে নারী হিসেবে সহানুভূতি পেতে তামান্নার নাম প্রথমে রাখা হয়। সাজ্জাদের নাম দুই ও তিন নম্বরে ছিল। এ নিয়ে অভিযোগ রয়েছে যে, সাজ্জাদের ভয়ংকর সন্ত্রাসী পরিচয় আড়াল করতে এই কৌশল নেওয়া হয়েছিল। সাধারণত হাইকোর্ট থেকে জামিন হলে এক সপ্তাহের মধ্যে কারাগারে পৌঁছানো প্রয়োজন, তবে এই ক্ষেত্রে তা হয়নি।

সাজ্জাদের আইনজীবী আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, কারাবন্দি সাজ্জাদ ও তামান্না চারটি মামলায় জামিন পেয়েছেন এবং জামিননামা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তবে হাইকোর্ট থেকে কাগজ চট্টগ্রামে পৌঁছাতে দেরির কারণ জানি না।

চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার শাহ সৈয়দ শরীফ জানান, সাজ্জাদের বিরুদ্ধে ১৬টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে তিনটি মামলায় জামিননামা এসেছে। তামান্নার চারটি মামলায় জামিননামা কারাগারে পৌঁছেছে। সাজ্জাদ রাজশাহী এবং তামান্না ফেনী জেলা কারাগারে বন্দি থাকায় সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র সেই দুই কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এর আগে চলতি বছরের ১৫ মার্চ রাজধানী থেকে সাজ্জাদকে গ্রেপ্তার করা হয়। হাটহাজারী উপজেলার শিকারপুর ইউনিয়নের মো. জামালের ছেলে সাজ্জাদ নগরীর বায়েজিদ, অক্সিজেন ও চান্দগাঁও এলাকায় ‘ছোট সাজ্জাদ’ বা ‘বুড়ির নাতি’ নামে পরিচিত।

 তার স্ত্রী তামান্না ১০ মে প্রাইভেটকারে জোড়া খুনের ঘটনায় গ্রেপ্তার হন। পরবর্তীতে ৫ নভেম্বর প্রকাশ্য বাজারে সরোয়ার বাবলা হত্যাকাণ্ডের পর সাজ্জাদের বিরুদ্ধে কারাগারে বসে অপরাধ জগৎ নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ ওঠে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ১৪ ও ১৮ নভেম্বর সাজ্জাদ ও তামান্নাকে রাজশাহী ও ফেনী জেলা কারাগারে স্থানান্তর করা হয়।

জনপ্রিয়


সারাদেশ থেকে আরও পড়ুন

শেরপুর -৩ আসনে কেউ কাউকে ছাড় দিচ্ছেন না ভোটের মাঠে, শেষ পর্যন্ত জিতবেন কে

শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের স্থগিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটের প্রচারণা তুঙ্গে উঠেছে। আগামী ৯ এপ্রিল ভোটের দিন ঘনিয়ে আসায় শেষ মুহূর্তের গণসংযোগ, পথসভা ও উঠান বৈঠক চলছে। ভোটের মাঠে কেউ কাউকে এক চুলও ছাড় দিতে রাজি নয়।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে অটো পাসের দাবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, উপাচার্যকে হেনস্তার অভিযোগ

আজ সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে গাজীপুরের বোর্ডবাজার এলাকায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক (পাস) তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীরা অটো পাসের দাবিতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। এই সময় শিক্ষার্থীরা উপাচার্য এ এস এম আমানুল্লাহকে হেনস্তা করার পাশাপাশি তাঁর গাড়িতে ভাঙচুর করার অভিযোগ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

‘এবার পরীক্ষায় নকল হবে না’– শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন

শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, “আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি এবার পরীক্ষায় নকল হবে না। কারণ নকল মূলত শিক্ষকদের মাধ্যমে পরিচালিত হয়—যারা এটি বন্ধ করেছে, সেই শিক্ষকরাই কখনও নকল করিয়েছে।”

বহিষ্কারের পর ছাত্রদল নেতার দাবি—‘আমি ট্রান্সজেন্ডার নই, গুজব ছড়ানো হচ্ছে’

কসবা উপজেলা-এ ছাত্রদলের এক নেতাকে বহিষ্কারকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হয়েছে নতুন বিতর্ক। বহিষ্কৃত নেতা রেদোয়ান ইসলাম দাবি করেছেন, তিনি ট্রান্সজেন্ডার নন এবং তাকে ঘিরে ছড়ানো তথ্য সম্পূর্ণ গুজব।