সারাদেশ


দেদারসে কাটা হচ্ছে কৃষিজমির উর্বর টপসয়েল, নীরব প্রশাসন- বিপন্ন পীরগাছার কৃষি


জেলা প্রতিনিধি

জেলা প্রতিনিধি

প্রকাশিত:০২ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:০৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার

অ্যাক্সকেভেটর দিয়ে কাটা হচ্ছে কৃষিজমির উর্বর টপসয়েল—পীরগাছার রামগোপাল গ্রাম থেকে তোলা ছবি।

অ্যাক্সকেভেটর দিয়ে কাটা হচ্ছে কৃষিজমির উর্বর টপসয়েল—পীরগাছার রামগোপাল গ্রাম থেকে তোলা ছবি।


রংপুরের পীরগাছা উপজেলায় প্রকাশ্যেই দিন–রাত চলছে কৃষিজমির উর্বর টপসয়েল কাটা ও বিক্রি। অ্যাক্সকেভেটর দিয়ে কেটে ফেলা হচ্ছে ফসলি জমির উপরিভাগের মাটি। কোথাও অনুমোদন ছাড়াই জমির শ্রেণি পরিবর্তন করে পুকুর খনন করা হচ্ছে, আবার সেই মাটিই শত শত ট্রাক্টরে করে সরাসরি সরবরাহ করা হচ্ছে অবৈধ ইটভাটায়।

 

ভারী ট্রাক্টরের দাপটে উপজেলার গ্রামীণ সড়কগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ধুলাবালিতে বাড়ছে শ্বাসকষ্টসহ নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি, সেই সঙ্গে বাড়ছে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও। উপজেলার প্রায় সব ইউনিয়নেই এখন একই চিত্র দেখা গেলেও এসব বন্ধে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেই বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

 

আইন অনুযায়ী কৃষিজমি থেকে মাটি কাটা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০-এর ধারা ৪ ও ১৫ অনুযায়ী কৃষিজমি থেকে মাটি উত্তোলন, বিক্রি ও পরিবহন দণ্ডনীয় অপরাধ। রয়েছে জরিমানা ও কারাদণ্ডের বিধানও। কিন্তু বাস্তবে এসব আইনের কোনো প্রয়োগ চোখে পড়ছে না। প্রতিদিন প্রশাসনের নাকের ডগা দিয়েই শত শত ট্রাক্টর মাটি বহন করলেও তা বন্ধে দৃশ্যমান তৎপরতা নেই।

 

সরেজমিনে তাম্বুলপুর ইউনিয়নের বিরবিরিয়া ও রামগোপাল গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, একরের পর একর কৃষিজমির টপসয়েল কেটে নেওয়া হচ্ছে। সেখানে কাজ করা শ্রমিকরা জানান, দোনপ্রতি (প্রায় ২২ শতক) ১৬ হাজার টাকা দরে জমির মালিকদের কাছ থেকে টপসয়েল কেনা হয়েছে। তাঁদের দাবি, বর্তমানে পীরগাছা উপজেলায় অন্তত ২০ থেকে ২৫টি পয়েন্টে এই অবৈধ কার্যক্রম চলছে।

 

রামগোপাল গ্রামের মরাপোড়ার দোলায় রুবেল ও মন্তাজ নামের দুই ব্যক্তি এই কাজ পরিচালনা করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে রুবেল বলেন, তিনি এনসিপির তাম্বুলপুর ইউনিয়নের সদস্য সচিব। তবে তিনি স্বীকার করেন, কৃষিজমির টপসয়েল কাটা আইনগতভাবে অবৈধ।

 

একই গ্রামের আলামিন নামের এক ব্যক্তি প্রায় দুই একর কৃষিজমির শ্রেণি পরিবর্তন করে অ্যাক্সকেভেটর দিয়ে ৮ থেকে ১০ ফুট গভীর পুকুর খনন করছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। এ ছাড়া ছাওলা ইউনিয়নের আদম বসুনিয়াপাড়ায় আব্দুর রাজ্জাক নামের এক ব্যক্তি অনুমোদন ছাড়াই কৃষিজমির শ্রেণি পরিবর্তন করে পুকুর খনন করছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

 

ভূমি ব্যবহার নীতিমালা, ২০০১ এবং ভূমি উন্নয়ন কর আইন, ১৯৫০ অনুযায়ী জেলা প্রশাসকের পূর্বানুমোদন ছাড়া কৃষিজমির শ্রেণি পরিবর্তন বেআইনি। কিন্তু পীরগাছায় এসব আইনের তোয়াক্কা না করেই চলছে জমির শ্রেণি পরিবর্তন ও মাটি কাটা।

 

স্থানীয় সূত্র জানায়, উপজেলায় বর্তমানে প্রায় ২৪টি ইটভাটা রয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র না থাকলেও এসব অবৈধ ইটভাটায় নিয়মিত সরবরাহ করা হচ্ছে কৃষিজমির উর্বর টপসয়েল।

 

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, কৃষিজমির উর্বর টপসয়েল কাটা সম্পূর্ণ আইনবিরোধী। অনেক কৃষক না বুঝেই মাটি বিক্রি করছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে কৃষি ও কৃষকের জন্য ভয়াবহ ক্ষতির কারণ হবে। ফসলের প্রধান পুষ্টি উপাদান আসে জমির উপরিভাগ থেকেই। তা নষ্ট হলে জমির উৎপাদনক্ষমতা মারাত্মকভাবে কমে যাবে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে বলেও তিনি জানান।

 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দেবাশীষ বসাক বলেন, কৃষিজমির টপসয়েল কাটার বিষয়ে একাধিক অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। অবৈধভাবে যারা টপসয়েল কাটা ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


সম্পর্কিত

রংপুরকৃষি সংবাদকৃষি

জনপ্রিয়


সারাদেশ থেকে আরও পড়ুন

শেরপুর -৩ আসনে কেউ কাউকে ছাড় দিচ্ছেন না ভোটের মাঠে, শেষ পর্যন্ত জিতবেন কে

শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের স্থগিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটের প্রচারণা তুঙ্গে উঠেছে। আগামী ৯ এপ্রিল ভোটের দিন ঘনিয়ে আসায় শেষ মুহূর্তের গণসংযোগ, পথসভা ও উঠান বৈঠক চলছে। ভোটের মাঠে কেউ কাউকে এক চুলও ছাড় দিতে রাজি নয়।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে অটো পাসের দাবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, উপাচার্যকে হেনস্তার অভিযোগ

আজ সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে গাজীপুরের বোর্ডবাজার এলাকায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক (পাস) তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীরা অটো পাসের দাবিতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। এই সময় শিক্ষার্থীরা উপাচার্য এ এস এম আমানুল্লাহকে হেনস্তা করার পাশাপাশি তাঁর গাড়িতে ভাঙচুর করার অভিযোগ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

‘এবার পরীক্ষায় নকল হবে না’– শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন

শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, “আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি এবার পরীক্ষায় নকল হবে না। কারণ নকল মূলত শিক্ষকদের মাধ্যমে পরিচালিত হয়—যারা এটি বন্ধ করেছে, সেই শিক্ষকরাই কখনও নকল করিয়েছে।”

বহিষ্কারের পর ছাত্রদল নেতার দাবি—‘আমি ট্রান্সজেন্ডার নই, গুজব ছড়ানো হচ্ছে’

কসবা উপজেলা-এ ছাত্রদলের এক নেতাকে বহিষ্কারকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হয়েছে নতুন বিতর্ক। বহিষ্কৃত নেতা রেদোয়ান ইসলাম দাবি করেছেন, তিনি ট্রান্সজেন্ডার নন এবং তাকে ঘিরে ছড়ানো তথ্য সম্পূর্ণ গুজব।