সারাদেশ
রংপুরে অসুস্থ স্ত্রীকে নিয়ে চার দিন খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন

রংপুরের কাউনিয়া উপজেলায় অসুস্থ স্ত্রীকে নিয়ে চার দিন ধরে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তপন চন্দ্র বর্মন (৪৮)। প্রচণ্ড শীতের মধ্যেও মাথা গোঁজার কোনো ঠাঁই না পেয়ে প্রতিবেশীর উঠানে পলিথিন টাঙিয়ে দিন কাটছে তাঁর। অসুস্থ স্ত্রী সিন্ধু রানী (৩৮) স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্যারালাইসিসে ভুগছেন।
তপন চন্দ্র বর্মন রংপুর জেলার কাউনিয়া উপজেলার তালুক শাহাবাজ গ্রামের বাসিন্দা। প্রায় ১০ বছর আগে সংসারের অভাব ঘোচাতে নিজের সামান্য ভিটেমাটি বিক্রি করে স্ত্রী ও একমাত্র ছেলেকে নিয়ে ঢাকায় পাড়ি জমান তিনি। ঢাকার সাভার থানার ধামসোনা এলাকার মধুপুর গণকবাড়ীতে একটি প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কাজ শুরু করেন। কিছুটা স্বচ্ছলভাবেই চলছিল সংসার ও ছেলের পড়াশোনা।
কিন্তু হঠাৎ করেই স্ত্রী সিন্ধু রানী স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। এতে তাঁর হাত-পা অবশ হয়ে যায় এবং তিনি পুরোপুরি চলাফেরার অক্ষম হয়ে পড়েন। হুইলচেয়ারে বসে স্বামীর সাহায্য ছাড়া খাওয়া-দাওয়া কিংবা প্রাকৃতিক কাজ সারাও তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়।
স্ত্রীর চিকিৎসার আশায় প্রায় এক মাস আগে তপন চন্দ্র স্ত্রীকে নিয়ে কাউনিয়ার তালুক শাহাবাজ গ্রামে ভাইয়ের বাড়িতে ওঠেন। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. প্রশান্ত কুমার পণ্ডিতের কাছে চিকিৎসাও নেন। তবে অর্থাভাবের কারণে বর্তমানে চিকিৎসা কার্যক্রম প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।
এরই মধ্যে ঘরে জায়গার সংকট এবং অসুস্থ স্ত্রীর শারীরিক সমস্যাজনিত কারণে চার দিন আগে ভাই কেরকা চন্দ্র বর্মন তাদের বাড়ি ছাড়তে বলেন বলে অভিযোগ করেন তপন। এ বিষয়ে কেরকা চন্দ্র বর্মন বলেন, “তিন-চার শতক জমিতে আমার তিনটি ছোট ঘর। নিজের পরিবার নিয়েই জায়গা সংকট। আমি তাদের রাখার মতো অবস্থায় নেই।”
শুক্রবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিবেশীর উঠানে মাটির ওপর ধানের খড় বিছিয়ে, পলিথিন টাঙিয়ে খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছেন তপন ও তাঁর অসুস্থ স্ত্রী। তীব্র শীতের মধ্যেও কোনো স্থায়ী আশ্রয় না পেয়ে চার রাত কাটিয়েছেন তাঁরা। তাঁদের একমাত্র ছেলে বর্তমানে ঢাকায় একটি প্রশিক্ষণে রয়েছেন।
স্ত্রীকে একা রেখে কাজে যেতে না পারায় তপন চন্দ্র কোনো উপার্জনও করতে পারছেন না। ফলে প্রতিবেশীদের দেওয়া খাবারেই চলছে তাঁদের দিন। চিকিৎসার খরচ তো দূরের কথা, নিত্যদিনের খাবার জোগাড় করাই হয়ে উঠেছে দুঃসাধ্য।
প্রতিবেশী রবীন্দ্রনাথ বর্মণ বলেন, “তাদের অবস্থা দেখে আমরা প্রতিবেশীরা খাবার দিয়ে সহযোগিতা করছি।” আরেক প্রতিবেশী নশু মেকার জানান, “বৃহস্পতিবার বিকেলে হাট থেকে একটি চৌকি কিনে এনে তাদের থাকার ব্যবস্থা করেছি।”
অসহায় তপন চন্দ্র বর্মন স্ত্রী। চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তা এবং সরকারের কাছে মাথা গোঁজার ঠাঁই হিসেবে অন্তত দুই শতক জমি ও একটি ঘর নির্মাণ করে দেওয়ার আকুতি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে কাউনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পাপিয়া আক্তার বলেন, “গণমাধ্যমের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরেছি। সরেজমিনে গিয়ে পরিস্থিতি দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
মানবিক বিপর্যয়ের এই চিত্র এখন স্থানীয়দের হৃদয় নাড়া দিচ্ছে। দ্রুত সহায়তা না পেলে অসুস্থ স্ত্রী ও স্বামীর এই দুর্বিষহ জীবন আরও কঠিন হয়ে উঠবে—এমন আশঙ্কাই করছেন এলাকাবাসী।
সম্পর্কিত
জনপ্রিয়
সারাদেশ থেকে আরও পড়ুন
শেরপুর -৩ আসনে কেউ কাউকে ছাড় দিচ্ছেন না ভোটের মাঠে, শেষ পর্যন্ত জিতবেন কে
শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের স্থগিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটের প্রচারণা তুঙ্গে উঠেছে। আগামী ৯ এপ্রিল ভোটের দিন ঘনিয়ে আসায় শেষ মুহূর্তের গণসংযোগ, পথসভা ও উঠান বৈঠক চলছে। ভোটের মাঠে কেউ কাউকে এক চুলও ছাড় দিতে রাজি নয়।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে অটো পাসের দাবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, উপাচার্যকে হেনস্তার অভিযোগ
আজ সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে গাজীপুরের বোর্ডবাজার এলাকায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক (পাস) তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীরা অটো পাসের দাবিতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। এই সময় শিক্ষার্থীরা উপাচার্য এ এস এম আমানুল্লাহকে হেনস্তা করার পাশাপাশি তাঁর গাড়িতে ভাঙচুর করার অভিযোগ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

‘এবার পরীক্ষায় নকল হবে না’– শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন
শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, “আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি এবার পরীক্ষায় নকল হবে না। কারণ নকল মূলত শিক্ষকদের মাধ্যমে পরিচালিত হয়—যারা এটি বন্ধ করেছে, সেই শিক্ষকরাই কখনও নকল করিয়েছে।”

বহিষ্কারের পর ছাত্রদল নেতার দাবি—‘আমি ট্রান্সজেন্ডার নই, গুজব ছড়ানো হচ্ছে’
কসবা উপজেলা-এ ছাত্রদলের এক নেতাকে বহিষ্কারকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হয়েছে নতুন বিতর্ক। বহিষ্কৃত নেতা রেদোয়ান ইসলাম দাবি করেছেন, তিনি ট্রান্সজেন্ডার নন এবং তাকে ঘিরে ছড়ানো তথ্য সম্পূর্ণ গুজব।


.jpg)






