সারাদেশ


কথিত গ্রাম্য চিকিৎসকের ভুল চিকিৎসায় দিনমজুর আলাউদ্দিন মৃত্যুশয্যায়


জেলা প্রতিনিধি

জেলা প্রতিনিধি

প্রকাশিত:২৯ জানুয়ারি ২০২৬, ০১:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার

কথিত গ্রাম্য চিকিৎসকের ভুল চিকিৎসায় দিনমজুর আলাউদ্দিন মৃত্যুশয্যায়

মৃত্যুশয্যায় অসুস্থ আলাউদ্দিন (বাম পাশে), অভিযুক্ত গ্রাম্য ডাক্তার মোঃ কাশেম (ডান পাশে) । ছবি: দূরবিন নিউজ


ভোলার মনপুরা উপজেলায় এক কথিত গ্রাম্য চিকিৎসকের অবৈজ্ঞানিক চিকিৎসার অভিযোগে আলাউদ্দিন নামের এক দিনমজুরের জীবন সংকটাপন্ন হয়ে উঠেছে। স্যালাইনের সঙ্গে একাধিক ইনজেকশন প্রয়োগের পর তাঁর শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটে বলে অভিযোগ করেছে পরিবার। ঘটনাটি এলাকায় উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

 

আলাউদ্দিন মৃত আনা মিয়া চকিদারের ছেলে। তিনি মনপুরা উপজেলার ৩ নম্বর উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। দিনমজুরের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করা এই পরিবারের পক্ষে ব্যয়বহুল চিকিৎসা চালিয়ে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন স্বজনরা।

 

পরিবার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার দুপুর আনুমানিক দুইটার দিকে আলাউদ্দিন হঠাৎ করে একাধিকবার বমি করতে শুরু করেন। অবস্থার অবনতি হলে স্বজনরা আনন্দ বাজার এলাকার ফার্মেসি ব্যবসায়ী ও কথিত গ্রাম্য চিকিৎসক কাশেম ডাক্তারকে ফোন করেন।

 

পরিবারের অভিযোগ, কাশেম ডাক্তার বাড়িতে এসে রোগীকে স্যালাইন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। স্যালাইন না দেওয়ার জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হলেও তা উপেক্ষা করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, স্যালাইনের সঙ্গে পাঁচটি ইনজেকশন মিশিয়ে প্রয়োগ করা হয় এবং একাধিক ওষুধ খাওয়ানো হয়।

 

চিকিৎসা দেওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই আলাউদ্দিনের শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। বিষয়টি জানাতে পুনরায় কাশেম ডাক্তারকে ফোন করা হলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে রোগীকে হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন বলে অভিযোগ পরিবারের।

 

পরে স্বজনরা আলাউদ্দিনকে মনপুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে জানান, ভুল চিকিৎসার কারণেই রোগীর এই জটিল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত অন্যত্র রেফার করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

 

তবে চরম আর্থিক সংকটের কারণে প্রায় ১৮ ঘণ্টা পার হলেও রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বাইরে নেওয়া সম্ভব হয়নি। বর্তমানে তিনি জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।

 

এ ঘটনায় আলাউদ্দিনের পরিবার সংশ্লিষ্ট গ্রাম্য চিকিৎসক ও ফার্মেসির বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে। তাদের ভাষ্য, ভুল চিকিৎসার কারণে একজন অসহায় মানুষ মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন।

 

অভিযোগের বিষয়ে কাশেম ডাক্তার বলেন, রোগীর পরিবার আমাকে ফোন করে বমি ও পেটব্যথার কথা জানায়। আমি গিয়ে ওষুধ, স্যালাইন ও ইনজেকশন দিয়েছি। পরে আবার ফোন করলে আমি তাদের হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছি।

 

এ বিষয়ে মনপুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কবির সোহেল বলেন, কোনো ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়া এভাবে ইনজেকশন দেওয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও অনৈতিক। রোগীর অবস্থা স্বাভাবিক হলে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


সম্পর্কিত

চিকিৎসকমৃত্যুশয্যায়ভোলা

জনপ্রিয়


সারাদেশ থেকে আরও পড়ুন

শেরপুর -৩ আসনে কেউ কাউকে ছাড় দিচ্ছেন না ভোটের মাঠে, শেষ পর্যন্ত জিতবেন কে

শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের স্থগিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটের প্রচারণা তুঙ্গে উঠেছে। আগামী ৯ এপ্রিল ভোটের দিন ঘনিয়ে আসায় শেষ মুহূর্তের গণসংযোগ, পথসভা ও উঠান বৈঠক চলছে। ভোটের মাঠে কেউ কাউকে এক চুলও ছাড় দিতে রাজি নয়।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে অটো পাসের দাবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, উপাচার্যকে হেনস্তার অভিযোগ

আজ সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে গাজীপুরের বোর্ডবাজার এলাকায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক (পাস) তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীরা অটো পাসের দাবিতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। এই সময় শিক্ষার্থীরা উপাচার্য এ এস এম আমানুল্লাহকে হেনস্তা করার পাশাপাশি তাঁর গাড়িতে ভাঙচুর করার অভিযোগ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

‘এবার পরীক্ষায় নকল হবে না’– শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন

শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, “আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি এবার পরীক্ষায় নকল হবে না। কারণ নকল মূলত শিক্ষকদের মাধ্যমে পরিচালিত হয়—যারা এটি বন্ধ করেছে, সেই শিক্ষকরাই কখনও নকল করিয়েছে।”

বহিষ্কারের পর ছাত্রদল নেতার দাবি—‘আমি ট্রান্সজেন্ডার নই, গুজব ছড়ানো হচ্ছে’

কসবা উপজেলা-এ ছাত্রদলের এক নেতাকে বহিষ্কারকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হয়েছে নতুন বিতর্ক। বহিষ্কৃত নেতা রেদোয়ান ইসলাম দাবি করেছেন, তিনি ট্রান্সজেন্ডার নন এবং তাকে ঘিরে ছড়ানো তথ্য সম্পূর্ণ গুজব।