ছুটি চাইছিলাম পাইলাম নাআমার ছেলেটা মারা গেল!!!ধন্যবাদ বাংলাদেশ পুলিশআমি না থাকলে নির্বাচন আটকে যেতো!!কী জবাব দিবো বউকে???
সন্তানের মৃত্যুর শোক, ছুটি না পাওয়ার বেদনা আর দায়িত্বের চাপ- এক হৃদয়বিদারক বাস্তবতার কথা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুলে ধরেছেন পুলিশ সদস্য মেহেদি হোসেন। তাঁর আবেগঘন ফেসবুক পোস্ট ইতিমধ্যে অনেকের দৃষ্টি কেড়েছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।
ফেসবুক পোস্টে মেহেদি হোসেন লেখেন, পৃথিবীর সবচেয়ে কঠিন কাজগুলোর একটি নিজ হাতে বাবাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা। সেই কাজটি করেই এলাম। পিতা হয়ে পুত্রকে চিরবিদায় দিয়ে আসলাম। তিনি লেখেন, সন্তানের নিথর দেহ বুকে জড়িয়ে ধরেও কোনোভাবেই বিশ্বাস করতে পারছিলেন না আর কোনো দিন তাকে ‘বাবা’ বলে ডাকবে না।
পোস্টে তিনি আরও উল্লেখ করেন, পিতার কাঁধে সন্তানের লাশের যে কী ভার যারা বহন করেছেন, কেবল তারাই জানেন। এই শোকের মধ্যেও তিনি জানান, তাঁর স্ত্রী এখনো সন্তানের মৃত্যুর খবর জানেন না। চিকিৎসকের পরামর্শে বিষয়টি আপাতত গোপন রাখা হয়েছে। তিনি লেখেন, আমার বউটা এখনো জানে না, তার কলিজার টুকরাটা আর পৃথিবীতে নেই। বাবুর জন্য কেনা জিনিসগুলো কী করব, কেউ বলতে পারেন?
মেহেদি হোসেনের পোস্টে উঠে এসেছে দায়িত্ব পালনের কঠিন বাস্তবতাও। তিনি লেখেন, আমার আবার আগামীকাল নাইট ডিউটি আছে। আমার ছেলের লাশটা এম্বুলেন্সে করে কেউ কি আমার কাছে পৌঁছে দিতে পারবেন? গরিব মানুষের সন্তান আমি, চাকরিটা খুব দরকার। সন্তান মারা গেলেও ছুটি পায় নাই।
পোস্টে নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেছেন তিনি। লেখেন, তিনি অনার্সে গোল্ড মেডেলপ্রাপ্ত, অনার্সে তাঁর সিজিপিএ ৩ দশমিক ৭২ এবং মাস্টার্সে ৩ দশমিক ৯০। প্রশাসনিক কাজে তাঁর ১০ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে। এরপর তিনি লেখেন, কারও সন্ধানে যদি একটি চাকরি হয় যাতে এই বউ–বাচ্চা নিয়ে পেটে–ভাতে চলা যায়, সেই রকম বেতন হলেই হবে। এখানে নিঃশ্বাস নেওয়াটাই কষ্টকর হয়ে গেছে।
এই পোস্ট প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বহু মানুষ মেহেদি হোসেনের প্রতি সহমর্মিতা জানিয়েছেন। পাশাপাশি দায়িত্ব পালনের নামে একজন মানুষের ন্যূনতম মানবিক প্রয়োজন শোকের সময় ছুটির বিষয়টি নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে।


.jpg)


.webp)

.jpg)

.jpg)
.jpg)
.jpg)
.jpg)
.jpg)