শরীরের চামড়া কুঁচকে গেছে, বয়সের ভারে হাত-পা কাঁপছে। তবুও গণতন্ত্রের উৎসবে শামিল হতে ভোলেননি ৯০ বছর বয়সী জামতুল্লাহ। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকালে শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার কলসপাড়া ইউনিয়নের উত্তর নাকশী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে লাঠিতে ভর দিয়ে হাজির হন তিনি।
পিপুলেশ্বর গ্রামের বাসিন্দা এই প্রবীণ ভোটার ভোট দিয়ে কেন্দ্র থেকে বের হওয়ার সময় তাঁর চোখেমুখে ছিল তৃপ্তি আর বিষাদের মিশেল। আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, “জীবনে কতবার ভোট দিছি মনে নাই। শরীরটা ভালো না বাবা, সামনে আর দিতে পারমু কিনা জানি না। মনে অয় এইডাই জীবনের শেষ ভোট।”
জীবনের সায়াহ্নে এসে তাঁর একটাই প্রত্যাশা যেই নির্বাচিত হোক, তারা যেন তাঁর মতো অচল ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ায়।
উত্তর নাকশী কেন্দ্রে জামতুল্লাহর মতো আরও অনেক প্রবীণ ভোটারের উপস্থিতি দেখা গেছে, যা কেন্দ্রের পরিবেশকে আবেগময় করে তোলে। তাঁদেরই একজন ৭৫ বছর বয়সী হামিদা বেগম। প্রতিবন্ধী মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে নাতি-নাতনিদের সহায়তায় অটোরিকশায় করে ভোট দিতে এসেছেন তিনি।
হামিদা বেগম জানান, মনের শান্তির জন্যই এ বয়সেও ভোট দিতে এসেছেন। শারীরিক কষ্ট থাকলেও নাগরিক দায়িত্ব পালনের তৃপ্তিই তাঁকে কেন্দ্রে টেনে এনেছে।
উত্তর নাকশী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে মোট ভোটার সংখ্যা ২ হাজার ৭৫ জন। কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম জানান, সকালে ভোটার উপস্থিতি তুলনামূলক কম থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তা বাড়তে থাকে। দুপুর ১২টা পর্যন্ত ৬০২ জন ভোটার তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন।
কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা ছাড়াই শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ চলছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কেন্দ্রে সজাগ রয়েছেন, যাতে সব বয়সের মানুষ নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন।

.jpg)
.jpg)


.webp)
.jpg)
.jpg)
.jpg)
.jpg)
.jpg)
.jpg)
.jpg)
.jpg)