সারাদেশ


রোজার প্রথম দিনেই জমজমাট চকবাজার, ইফতারির স্বাদে উপচে পড়া ভিড়


নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত:১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:২৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার

রোজার প্রথম দিনেই জমজমাট চকবাজার, ইফতারির স্বাদে উপচে পড়া ভিড়

ছবি: সংগৃহীত


রমজানের প্রথম দিনেই জমে উঠেছে পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী চকবাজারের ইফতারি বাজার। প্রতিবছরের মতো এবারও ইফতারের স্বাদ নিতে রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে এসেছেন রোজাদাররা। প্রায় ৪০০ বছরের ঐতিহ্য বহন করা এই বাজার এখনো বৈচিত্র্যময় ইফতারির জন্য অন্যতম আকর্ষণ।

 

বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সরেজমিনে দেখা যায়, জোহরের নামাজের পর থেকেই সার্কুলার রোডজুড়ে দোকানিরা ইফতারির পসরা সাজিয়ে বসেছেন। হাঁকডাকে মুখর পুরো এলাকা। দুপুর থেকেই ক্রেতাদের ভিড় বাড়তে থাকে, ইফতারের সময় যত ঘনিয়ে আসে, ততই বাড়ে ক্রেতার সংখ্যা।

 

পাড়া-মহল্লায় যেখানে ছোলা, আলুর চপ, বেগুনি, পেঁয়াজু ইফতারের প্রধান উপকরণ, সেখানে চকবাজারের ইফতারি বাজার আলাদা স্বাদ ও বৈচিত্র্যের জন্য বিখ্যাত। এখানে রয়েছে প্রায় ১০০ রকমের ইফতারি আইটেম। এর মধ্যে জনপ্রিয় ‘বড় বাপের পোলায় খায়’ বিশেষভাবে আকর্ষণীয়।

 

বাজারে চিকেন আচারি (১২০ টাকা), শাহী রুটি (৮০-১০০ টাকা), দই বড়া (৫ পিস ২০ টাকা), চিকেন সাসলিক (৮০ টাকা), তন্দুরি চিকেন (১০০ টাকা), শাহী পরোটা (৬০-৮০ টাকা), খাসির লেগপিস (৯০০ টাকা), কোয়েল পাখি (৯০ টাকা), সমুচা (২০ টাকা), সুতি কাবাব (কেজি ১৬০০ টাকা), শাহী জিলাপি (কেজি ৩০০ টাকা) ছাড়াও ছোলা, মুড়ি, আলুর চপ, বেগুনি, পেঁয়াজু ও ঘুঘনি ৫ থেকে ২০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে।

 

চকবাজারের অন্যতম আকর্ষণ ‘বড় বাপের পোলায় খায়’ প্রতি কেজি ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাজারে ঢুকলেই শোনা যায় পরিচিত ছন্দ, “বড় বাপের পোলায় খায়, ঠোঙা ভইরা লইয়া যায়।”

 

এই খাবারটি মূলত মাংস, কাবাব, ডিম, ঘি, বুটের ডাল, মাংসের কিমা ও বিশেষ মসলা দিয়ে তৈরি। বৈচিত্র্যময় স্বাদের কারণে এটি রোজাদারদের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে থাকে।

 

বিক্রেতা মোহাম্মদ বলেন, “ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ এই আইটেম কিনতে আসেন। ১২ ধরনের উপকরণ দিয়ে এটি তৈরি করা হয়। গত বছরের মতো এবারও কেজি ৮০০ টাকায় বিক্রি করছি।” আরেক বিক্রেতা মোশাররফ জানান, রোজার প্রথম দিনেই বাজার জমে উঠেছে। মানসম্মত ইফতারি বিক্রির চেষ্টা করছেন তারা।

 

চকবাজারের অধিকাংশ ব্যবসায়ী বংশপরম্পরায় এ ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। পাশাপাশি মৌসুমি ব্যবসায়ীরাও রমজান মাসে এখানে ইফতারি বিক্রি করেন। পুরান ঢাকার বাইরে থেকেও অনেকে এখানে ইফতার কিনতে আসেন।

 

মগবাজার থেকে আসা ক্রেতা মো. শামীম বলেন, “প্রতি বছর রোজায় এখানে ইফতার কিনতে আসি। প্রথম রোজায় এখান থেকেই কিনলাম।” খিলগাঁওয়ের তাহেরুল বলেন, “চকবাজারে এমন অনেক মুখরোচক আইটেম পাওয়া যায়, যা অন্যত্র সচরাচর পাওয়া যায় না। তবে অনেক ইফতার খোলা অবস্থায় বিক্রি হয় এ বিষয়ে বিক্রেতাদের সচেতন হওয়া দরকার।”

 

রমজানের প্রথম দিনেই উপচে পড়া ভিড় প্রমাণ করে, ঐতিহ্য আর স্বাদের টানে চকবাজার এখনো রোজাদারদের প্রিয় ঠিকানা।


সম্পর্কিত

সারাদেশরোজাচকবাজারইফতারি

জনপ্রিয়


সারাদেশ থেকে আরও পড়ুন

শেরপুর -৩ আসনে কেউ কাউকে ছাড় দিচ্ছেন না ভোটের মাঠে, শেষ পর্যন্ত জিতবেন কে

শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের স্থগিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটের প্রচারণা তুঙ্গে উঠেছে। আগামী ৯ এপ্রিল ভোটের দিন ঘনিয়ে আসায় শেষ মুহূর্তের গণসংযোগ, পথসভা ও উঠান বৈঠক চলছে। ভোটের মাঠে কেউ কাউকে এক চুলও ছাড় দিতে রাজি নয়।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে অটো পাসের দাবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, উপাচার্যকে হেনস্তার অভিযোগ

আজ সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে গাজীপুরের বোর্ডবাজার এলাকায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক (পাস) তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীরা অটো পাসের দাবিতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। এই সময় শিক্ষার্থীরা উপাচার্য এ এস এম আমানুল্লাহকে হেনস্তা করার পাশাপাশি তাঁর গাড়িতে ভাঙচুর করার অভিযোগ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

‘এবার পরীক্ষায় নকল হবে না’– শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন

শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, “আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি এবার পরীক্ষায় নকল হবে না। কারণ নকল মূলত শিক্ষকদের মাধ্যমে পরিচালিত হয়—যারা এটি বন্ধ করেছে, সেই শিক্ষকরাই কখনও নকল করিয়েছে।”

বহিষ্কারের পর ছাত্রদল নেতার দাবি—‘আমি ট্রান্সজেন্ডার নই, গুজব ছড়ানো হচ্ছে’

কসবা উপজেলা-এ ছাত্রদলের এক নেতাকে বহিষ্কারকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হয়েছে নতুন বিতর্ক। বহিষ্কৃত নেতা রেদোয়ান ইসলাম দাবি করেছেন, তিনি ট্রান্সজেন্ডার নন এবং তাকে ঘিরে ছড়ানো তথ্য সম্পূর্ণ গুজব।