অর্থনীতি


সিলেটের চালের দাম চড়া, নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের নাভিশ্বাস


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:১৩ আগস্ট ২০২৪, ০১:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার

সিলেটের চালের দাম চড়া,  নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের নাভিশ্বাস
 বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে আওয়ামীলীগ সরকার পতনের পর ব্যাপক হারে বাড়ছে সিলেটে চালের দাম। চালের দাম বৃদ্ধিতে  নিম্ন ও মধ্য বিত্ত মানুষের মাঝে দেখা দিয়েছে হতাশা। শুধু চাল নয় পাল দিয়ে পিয়াজ সহ নিত্যপন্যের দাম। অন্তরর্বতীকালিন সরকার গঠনের পর থেকে ধীরে ধীরে সব কিছু স্বাভাবিক হচ্ছে। তবে সিলেট বিভাগে চালের বাজারে অস্বস্তি রয়েই গেছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে চালের দাম কেজি প্রতি যে ভাবে ২-৪ টাকা বাড়ানো হয়েছিল, এখনো সে অবস্থা রয়ে গেছে। কিছু সংখ্যক ব্যবসায়ীরা নানা অযুহাত দেখিয়ে নুতন করে দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন ক্রেতারা। সিলেটের অন্যতম কালিঘাটে আড়াত ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে তারা জানান, সদ্য ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ দলীয় অনেক নেতার চালকল বন্ধ থাকায় বাজারে সরবরাহ কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে। এ কারণে চালের দাম এখনো কমছে না।
এদিকে, দুদিন ধরে বাজারে সবজি, ডিম ও মুরগিসহ বেশ কয়েকটি ভোগ্যপণ্যের দাম উল্লেখযোগ্য ভাবে কমতে দেখা গেছে। সিলেট কিছু সংখ্যক ব্যব্সায়ীরা সিন্ডিকেট করার চেষ্টা করে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে। তবে চালের দাম না কমায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের মাঝে নাভিশ্বাস রয়েই গেছে।
এদিকে খাদ্য সচিব মো. ইসমাইল হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, ছাত্র আন্দোলন চলাকালে পরিবহন ব্যবস্থা স্বাভাবিক ভাবে কাজ করছিল না। ফলে পরিবহন খরচ বেড়েছে। এখন সেটা স্বাভাবিক হওয়ার কথা। তবে আরও কিছু সমস্যা এখনো রয়ে  গেছে। যার মধ্যে অন্যতম আওয়ামী লীগ দলীয় নেতাদের অনেক মিল বন্ধ থাকা। সে কারণে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে।
তিনি বলেন, চালের দাম সহনীয় না হওয়ার আরেকটি কারণ হতে পারে গত সপ্তাহে খোলাবাজারে (ওএমএস) চাল বিক্রির কার্যক্রম বন্ধ থাকা। যে কারণে রোববার (১১ আগষ্ট ২০২৪ইং) থেকে ওএমএস কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এছাড়া দাম নিয়ন্ত্রণে আমরা কাজ করছি। শিগগির চালের বাজারে স্বস্তি ফিরবে।
এদিন সিলেট নগরীর কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সব ধরনের চালের দাম বেড়েছে। বাজারে মিনিকেট ৭০ থেকে ৭২ টাকা, নাজিরশাইল ৭০ থেকে ৭৫ টাকা আর পাইজাম ৫৮ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যা আগের চেয়ে কেজি প্রতি ৪-৫ টাকা বেশি। মোটা চাল স্বর্ণা বিক্রি হচ্ছে ৫৫-৫৬ টাকা কেজি দরে।
নগরীর কালিঘাটের এক চাল ব্যবসায়ী বলেন, ছাত্র আন্দোলনের সময় পরিবহন বন্ধ থাকায় মোকামে চালের দাম প্রতি বস্তায় ২০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। যা এখনো কমেনি। এদিকে, প্রধান এ খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ায় সীমিত আয়ের মানুষের জীবন ওষ্ঠাগত। সবচেয়ে বেশি নাজেহাল দরিদ্র মানুষেরা। এ নিয়ে তাদের অভিযোগ ও ক্ষোভের শেষ নেই। কিন্তু চালের বাজারে কিছুতেই লাগাম টানা যাচ্ছে না।
আম্বরখানার চাল বিক্রেতা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, সবজির দাম কমেছে, ডিম-মুরগির দামও কমেছে। কিন্তু চালের দাম কমে না। আসলে সিন্ডিকেট করে একবার দাম বাড়ালে আর কমানো হয় না। কদমতরীতে গিয়ে কথা হয় অমি বেগম নামের একজন ক্রেতার সঙ্গে। তিনি বলেন, এমনিতেই চালের বাজার চড়া, তার মধ্যে ওএমএস বন্ধ। আমাদের এখন না খেয়ে থাকার অবস্থা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সিলেটের পাইকারী বাজারে বর্তমানে চালের দাম- মিলগেটে স্বর্ণা ৫৪-৫৮ টাকা, ব্রি ২৮ ৫৮-৬০ টাকা, সুভলতা ৬২-৬৪ টাকা, জিরাশাইল বা মিনিকেট ৬৫-৬৮ টাকা এবং কাটারি ভোগ সেদ্ধ চাল মানভেদে ৬০ থেকে ৭০ টাকা  কেজি পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। যা গত মাসের চেয়ে কেজি প্রতি প্রায় ৪ টাকা পর্যন্ত বেশি।

জনপ্রিয়


অর্থনীতি থেকে আরও পড়ুন

আজকের মুদ্রা বিনিময় হার- ৩০ মার্চ ২০২৬

দেশের অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খাত রেমিট্যান্স এবং বৈদেশিক বাণিজ্যের প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে মুদ্রা বিনিময়ের গুরুত্বও বাড়ছে। আন্তর্জাতিক লেনদেন সহজ রাখতে প্রতিদিন বিভিন্ন দেশের মুদ্রার বিপরীতে বাংলাদেশি টাকার মান নির্ধারণ করা হয়।

জিএফআই প্রতিবেদন: ১০ বছরে বাণিজ্যের আড়ালে বাংলাদেশ থেকে পাচার ৬৮ বিলিয়ন ডলার

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের আড়ালে গত এক দশকে বাংলাদেশ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচারের তথ্য উঠে এসেছে এক গবেষণায়। ২০১৩ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত সময়ে প্রায় ৬৮ দশমিক ৩ বিলিয়ন (৬ হাজার ৮৩০ কোটি) ডলার অবৈধভাবে বিদেশে পাচার হয়েছে বলে জানিয়েছে গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটি (জিএফআই)।

আজকের মুদ্রা বিনিময় হার- ২৯ মার্চ ২০২৬

আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার জানা এখন আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আমদানি-রপ্তানি ও বৈদেশিক লেনদেন সহজ করতে প্রতিদিনের মুদ্রা বিনিময় হার পর্যবেক্ষণ অপরিহার্য।

আজকের মুদ্রা বিনিময় হার- ২৭ মার্চ ২০২৬

আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণের সঙ্গে সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার জানা এখন আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আমদানি-রপ্তানি ও রেমিট্যান্স লেনদেনে প্রতিদিনই ব্যবহৃত হচ্ছে বৈদেশিক মুদ্রা।