অর্থনীতি


মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাব বাংলাদেশ অর্থনীতিতে সব খাতে ক্ষত


নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত:২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৩৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার

মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাব বাংলাদেশ অর্থনীতিতে সব খাতে ক্ষত

ছবি: সংগৃহীত


মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান সংঘাতের প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতির পাশাপাশি বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও পড়তে শুরু করেছে। জ্বালানির সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির কারণে পরিবহন ব্যয় থেকে শুরু করে বাজারদর, শিল্প উৎপাদন, আমদানি ও রপ্তানি পর্যন্ত সব খাতে ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। এতে শেষ পর্যন্ত ভোক্তাদের ওপর চাপ বাড়ছে।

 

বিশ্বব্যাংক সতর্ক করে জানিয়েছে, যুদ্ধকেন্দ্রিক এই অস্থিরতার কারণে চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৩.৯ শতাংশে নেমে আসতে পারে। একই সঙ্গে প্রায় ১২ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে থেকে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

 

অর্থনীতির সবচেয়ে বড় চাপ তৈরি হয়েছে জ্বালানি খাতে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম যুদ্ধের আগে তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। এতে জ্বালানি আমদানিতে সরকারের অতিরিক্ত ব্যয় কয়েক বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।

 

অর্থনীতিবিদ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর মতে, এই সংকট কেবল জ্বালানি খাতে সীমাবদ্ধ নয়, বরং পুরো অর্থনীতিতে এর প্রভাব ছড়িয়ে পড়ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, তেলের দাম বাড়লে আমদানি ব্যয়ও দ্রুত বৃদ্ধি পায়, যা সামগ্রিক মূল্যস্ফীতিকে আরও ত্বরান্বিত করে।

 

বিদ্যুৎ উৎপাদনেও এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে। দেশের বিদ্যুতের বড় অংশ আমদানি করা জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় উৎপাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে। এতে সরকারকে বাড়তি ভর্তুকি দিতে হচ্ছে, যা বাজেট ব্যবস্থাপনায় চাপ তৈরি করছে।

 

বাণিজ্য খাতে দেখা যাচ্ছে, আমদানি কমলেও ব্যয় কমছে না, বরং বাড়ছে। শিপিং ও বিমা খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ায় কাঁচামাল আমদানি এবং রপ্তানি উভয় খাতে ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে।

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বালানির দাম বাড়ার ফলে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পাচ্ছে, কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম সেই অনুপাতে বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে না। ফলে শিল্প খাতের লাভের মার্জিন কমে যাচ্ছে। বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি শিল্প সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

 

রেমিট্যান্স প্রবাহে আপাতত কিছুটা ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেলেও মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজারে নতুন নিয়োগ কমে যাওয়ায় ভবিষ্যতে ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করেছেন।

 

কৃষি খাতেও এই সংকটের প্রভাব পড়েছে। সেচ, সার পরিবহন ও বাজারজাতকরণ ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে, তবে কৃষকের আয় সেই অনুপাতে বাড়ছে না।

 

অর্থনীতিবিদদের মতে, এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত ও সমন্বিত পদক্ষেপ প্রয়োজন। জ্বালানির বিকল্প উৎস নিশ্চিত করা, রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণ, শ্রমবাজার বৈচিত্র্যকরণ এবং সরবরাহ ব্যবস্থার দক্ষতা বাড়ানো এখন জরুরি হয়ে উঠেছে। তাদের মতে, সংকট দীর্ঘায়িত হলে অর্থনীতিতে এর প্রভাব আরও গভীর হবে।


সম্পর্কিত

অর্থনীতিমধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ

জনপ্রিয়


অর্থনীতি থেকে আরও পড়ুন

যেসব খাত নির্ভর করছে শুধু তেলের উপরই!

বার্ষিক ৮০,০০০ কোটি থেকে ১,২০,০০০ কোটি টাকার বাংলাদেশী বাজার নির্ভর করছে জ্বালানি তেলের উপর। পরিবহন থেকে শুরু করে বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্পকারখানা থেকে কৃষি, সবখানেই জ্বালানি তেল বাংলাদেশের অর্থনীতি টিকিয়ে রেখেছে। এমনকি আপনার যাতায়াতের বাস থেকে শুরু করে ঘরের বাজারে ডিমের দামও নির্ভর করে এই জ্বালানি তেলের উপরেই। কিন্তু ইরান যুদ্ধের পর বিশ্ববাজারের ওঠানামার সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশের জ্বালানি খাতেও পরিবর্তন, প্রভাব ফেলেছে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায়।

এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে বদলাচ্ছে রেমিট্যান্সের ধারা: গ্রামবাংলায় নতুন দিগন্ত খুলছে ব্র্যাক ব্যাংক

বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি রেমিট্যান্স। প্রবাসীদের পাঠানো এই অর্থ দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সমৃদ্ধ করার পাশাপাশি অসংখ্য পরিবারের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবে দীর্ঘদিন ধরে অনানুষ্ঠানিক চ্যানেলের কারণে এই খাতের পূর্ণ সম্ভাবনা কাজে লাগানো সম্ভব হচ্ছিল না।

ভোজ্যতেলের দাম আপাতত বাড়ছে না: নিশ্চিত করলেন বাণিজ্যমন্ত্রী

দেশে ভোজ্যতেলের দাম আপাতত বাড়ানো হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। রোববার (১২ এপ্রিল) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে ভোজ্যতেলের সরবরাহ পরিস্থিতি পর্যালোচনা বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য জানান।

আজকের মুদ্রা বিনিময় হার- ৩০ মার্চ ২০২৬

দেশের অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খাত রেমিট্যান্স এবং বৈদেশিক বাণিজ্যের প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে মুদ্রা বিনিময়ের গুরুত্বও বাড়ছে। আন্তর্জাতিক লেনদেন সহজ রাখতে প্রতিদিন বিভিন্ন দেশের মুদ্রার বিপরীতে বাংলাদেশি টাকার মান নির্ধারণ করা হয়।