এক্সক্লুসিভ


শেষের পথে পূর্বাচল এক্সপ্রেসওয়ের কাজ


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:১১ এপ্রিল ২০২২, ০৭:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার

শেষের পথে পূর্বাচল এক্সপ্রেসওয়ের কাজ

সুব্রত চন্দঃ 


গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জ জেলাকে রাজধানী ঢাকার সঙ্গে সংযুক্ত করতে পূর্বাচলে নির্মাণ করা হচ্ছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম দৃষ্টিনন্দন ও আকর্ষণীয় এক্সপ্রেসওয়ে। প্রায় সাড়ে ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই এক্সেপ্রেসওয়ের কাজ এখন প্রায় শেষের দিকে। চলতি বছরের ডিসেম্বরেই এই মেগা প্রকল্পের সকল কাজ শেষে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের আশা প্রকাশ করেছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা।


সরেজমিনে প্রকল্প এলাকা ঘুরে দেখা যায়, রাজধানীর কুড়িল ফ্লাইওভার থেকে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের কাঞ্চন ব্রিজ পর্যন্ত চলছে এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণ কাজ। প্রায় সাড়ে ৪ হাজার কর্মী দিন-রাত ব্যস্ত প্রকল্পের রূপ ফুটিয়ে তুলতে। বর্তমানে চলছে কার্পেটিং এবং ব্রিজ-কালভার্ট, আন্ডারপাস ও ওভারপাস নির্মাণের কাজ। সেসব কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে ক্রেন, লোডার, লিফটার, ড্রেজার, এস্কেভেটারের মতো ভারী ভারী সব যন্ত্র।


প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কুড়িল থেকে কাঞ্চন ব্রিজ পর্যন্ত এই এক্সপ্রেসওয়ের মোট দূরত্ব ১২ দশমিক ৩ কিলোমিটার। এর মধ্যে কুড়িল থেকে বালু নদ পর্যন্ত ৬ কিলোমিটার রাস্তা ১২ লেনের এবং বালু নদ থেকে কাঞ্চন ব্রিজ পর্যন্ত ৬ দশমিক ৩ কিলোমিটার রাস্তা ১০ লেনের। যা রাজধানীর পশ্চিম প্রগতি সরণি ও বিমানবন্দর সড়কের সঙ্গে পূর্বের ইস্টার্ন বাইপাসের সঙ্গে সংযুক্ত করেছে।


প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই এক্সপ্রেসওয়েতে আরও থাকবে পাঁচটি অ্যাট-গ্রেড ইন্টারসেকশন, ছয়টি প্রশস্ত ব্রিজ, পথচারীদের রাস্তা পারাপারের জন্য ছয়টি ফুটওভার ব্রিজ, ছয়টি আন্ডারপাস। তবে থাকবে না কোনো স্টপওভার পয়েন্ট ও সিগন্যালিং সাইন। ফলে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই এক্সপ্রেসওয়েতে ছুটে চলবে সব ধরনের গাড়ি। মাত্র ৬ থেকে ৭ মিনিটে পাড়ি দেওয়া যাবে কুড়িল থেকে কাঞ্চন ব্রিজ পর্যন্ত এই ১২ কিলোমিটার রাস্তা।


এছাড়া এক্সপ্রেসওয়ের দুই পাশে খনন করা হচ্ছে ১০০ ফুট চওড়া দুটি খাল। খালের দুই পাশে থাকবে একাধিক লেনের সার্ভিস রোড। সেসব সার্ভিস রোডের সঙ্গে এক্সপ্রেসওয়েকে সংযুক্ত করতে থাকবে হাতিরঝিলের মতো ১৩টি আর্চ ব্রিজ। যা বিভিন্ন আবাসিক এলাকাকে এক্সপ্রেসওয়ের সঙ্গে যুক্ত করবে।


অ্যাট-গ্রেড ইন্টারসেকশনগুলোতেও গতি না কমিয়ে লেন পরিবর্তন ও ইউটার্ন নিতে পারবে যানবাহন। এছাড়া বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের জন্য থাকবে চার কিলোমিটারের নালা। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড। 


প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্রে আরো জানা যায়, পূর্বাচল এক্সপ্রেসওয়ের সার্বিক কাজ ৮১ দশমিক ৯ শতাংশ শেষ হয়েছে। আগামী জুনের মধ্যে সড়কের ভৌত কাঠামো নির্মাণের কাজ শেষ হবে। এরপর খাল খননসহ অন্যান্য কাজ ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করা হবে। খাল খননের জন্য জমি অধিগ্রহণের কাজও শেষ হয়েছে অনেক আগে। খালগুলো দৃষ্টিনন্দন করতে ফোয়ারাসহ মনোমুগ্ধকর বিনোদনের ব্যবস্থা করা হবে। যা স্থাপত্যকলার অন্যতম নিদর্শনও হবে।


প্রকল্পের প্রজেক্ট অফিসার এস এম মোস্তফা কামাল দূরবীন নিউজকে বলেন, পূর্বাচল এক্সপ্রেসওয়ের কাজ ৮১ দশমিক ৯ শতাংশ শেষ হয়েছে। খুবই দ্রুত গতিতে নির্মাণকাজ এগিয়ে চলছে। আশা করছি চলতি বছরের ডিসেম্বরেই এই মেগা প্রকল্পের সকল কাজ শেষ করা সম্ভব হবে।


জনপ্রিয়