এক্সক্লুসিভ
পান্তা ভক্ত ছিলেন যে ইংরেজ শাসক
হাসান শাহরিয়ারঃ
পহেলা বৈশাখের ঐতিহ্যবাহী খাবার পান্তা ভাত আর ইলিশ। বাংলার ঘরে ঘরে এই দিনে সকালের ভোজ হয় পান্তা ভাত দিয়ে। তবে একজন ইংরেজ শাসক ছিলেন এই পান্তা ভাতের ভক্ত। পান্তা ভাত ভালো লাগার পুরো গল্পটাও বেশ মজার। কে সেই ইংরেজ শাসক? আর কিভাবে তিনি পান্তা ভাতের ভক্ত হলেন? চলুন জেনে নেয়া যাক।
সেই ইংরেজ শাসক ছিলেন গভর্নর জেনারেল ওয়ারেন হেস্টিংস। হেস্টিংস ব্রিটিশ শাসনকালে বাংলার প্রথম গভর্নর ছিলেন। সাল ১৭৫৬, বাংলার নবাব তখন সিরাজ-উদ-দৌলা।
বাণিজ্য করতে আসা ইংরেজরা চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন করে। মূলত ইংরেজরা বাণিজ্যের পাশাপাশি সামরিক শক্তিও বৃদ্ধি করছিল। চুক্তি ভেঙে কলকাতা এবং কাশিমবাজারে ইংরেজরা দুর্গ নির্মাণ করেছিল। নবাব সিরাজ তার দূত পাঠিয়ে দুর্গ ভাঙার আদেশ দিলেও আদেশ মানেনি ইংরেজরা।
এ ধরনের আচরণে ক্ষুব্ধ সিরাজ কলকাতা আক্রমণ করেন। কলকাতায় আক্রমণের আগে কাশিমবাজারের ইংরেজ ফ্যাক্টরি দখল করার জন্য নবাব তিন হাজার অশ্বারোহী সৈন্য পাঠান। তবে বাহিনীর ওপর আদেশ ছিল ফ্যাক্টরিতে শুধু অবরোধ করার জন্য। শেষ পর্যন্ত দুর্গের প্রধান ওয়াটস নবাবের কাছে আত্মসমর্পণ করেন।
ইংরেজ কর্মকর্তাদের সপরিবারে আটক করে মুর্শিদাবাদ কারাগারে রাখা হয়। আটক মহিলাদের রাখা হয় নবাবের জেনানা মহলে।
আটক ইংরেজদের মধ্যে একজন ছিলেন ওয়ারেন হেস্টিংস। তিনি পরবর্তীকালে বাংলার গভর্নর জেনারেল হন। সে সময়ে কাশিমবাজারের ডাচ ফ্যাক্টরির দায়িত্বে থাকা মি. ভার্নেট নবাব সিরাজ-উদ-দৌলাকে অনুরোধ করেন হেস্টিংসকে ছেড়ে দিতে। কারণ হেস্টিংস ছিলেন কোম্পানির একজন সামান্য কর্মচারী।
সিরাজ ডাচ ফ্যাক্টরির মি. ভার্নেটের অনুরোধকে সম্মান জানিয়ে হেস্টিংসকে মুক্তি দেন। কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েই হেস্টিংস চলে যান কাশিমবাজারে। নবাবের বিশাল সামরিক বাহিনী কলকাতায় এগিয়ে যাচ্ছে যেনে ইংরেজ কোম্পানির সকলে পালিয়ে ফলতায় চলে যায়। ওয়ারেন হেস্টিংস কাশিমবাজার থেকে নবাব সম্পর্কে গোপনে তথ্য প্রাচার করতে থাকে ফলতায়।
কিন্তু হেস্টিংসের এই কাজের খবর চলে যায় নবাবের কাছে এবং নবাব হেস্টিংসকে আবার গ্রেফতার করবেন বলে সিদ্ধান্ত নেন। এ খবর হেস্টিংস জানতে পেরে কাশিমবাজার থেকে পালিয়ে যাওয়ার চিন্তা করেন। কিন্তু নবাবের রাজ্যে সে পালিয়ে যাবে কোথায়! এমন বিপদে পরে হেস্টিংস চলে যায় তার বাঙালি বন্ধু কৃষ্ণকান্ত নন্দীর কাছে। কৃষ্ণকান্ত এবং হেস্টিংস ছিলেন সমবয়সী। কৃষ্ণকান্ত ইংরেজ কোম্পানিতে কাজ করতেন এবং সেখান থেকে তাদের মধ্যে গড়ে ওঠে বন্ধুত্বের সম্পর্ক।
প্রথম কয়েকদিন কৃষ্ণকান্ত হেস্টিংসকে লুকিয়ে রাখে তাদের এক মুদি দোকানে। প্রথম দিন দোকানে কোন খাবার না পেয়ে কৃষ্ণকান্ত হেস্টিংসকে খেতে দিয়েছিলেন পান্তা ভাত আর কুচো চিংড়ি। পরবর্তীতে ১৭৭৩ সালে রেগুলেটিং অ্যাক্ট-এর অধীনে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বিষয়াদি নিয়ন্ত্রণের জন্য গভর্নর জেনারেল নিয়োগ করা হয়। সেই পদে নিযুক্ত হন ওয়ারেন হেস্টিংস। কিন্তু ভারতের গভর্নর জেনারেল হওয়ার পরও তার দুর্দিনের খাদ্য পান্তা ভাতের টান ভুলেন নি । গভর্নর হয়েও তিনি নিয়মিত পান্তা ভাত আর কুচো চিংড়ি খেতেন।
.jpg)
.jpg)


.webp)

.jpg)

.jpg)