এক্সক্লুসিভ
হিংস্র হেলমেটধারীরা ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী!
জাহাঙ্গীর সুমনঃ
নিউমার্কেট এলাকায় দুইদিন ব্যাপী তাণ্ডবে প্রাণ গেছে দুই যুবকের। তাদের মধ্যে কুরিয়ার সার্ভিস কর্মী নাহিদের মৃত্যু নাড়া দেয় দেশবাসীকে। প্রকাশ্য দিবালোকে তাকে কুপিয়ে হত্যা করে হেলমেটধারীরা। অথচ নাহিদ না ছিল ঢাকা কলেজের ছাত্র, না নিউমার্কেটের ব্যবসায়ী। সংঘর্ষের ঘটনায় তার কোন ভূমিকাই ছিল না, অফিসের কাজে যাচ্ছিল সে। নাহিদের জানা ছিল না সেখানে তার জন্য এমন নির্মম পরিণতি অপেক্ষা করছে।
চাঞ্চল্যকর ওই ঘটনার ৫ দিন কেটে গেছে, কিন্তু এখন পর্যন্ত পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায় নি নাহিদের খুনিদের। হেলমেট পরিহিত এক যুবক নৃশংসভাবে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে রক্তাক্ত করে নাহিদকে, ভিডিও ফুটেজ ও ছবিদে সে দৃশ্য দেখে আঁতকে উঠে গোটা দেশ। পুলিশ বলছে, সেই হেলমেটধারী যুবক ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী বলে তারা নিশ্চিত হয়েছে। নিউমার্কেট ও আশপাশের এলাকার শতাধিক সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে তা বিশ্লেষণ করে হামলায় অংশ নেয়া অস্ত্রধারীদের শনাক্তের চেষ্টা করা হচ্ছে। এরই মধ্যে ধারালো অস্ত্র ও লাঠি হাতে ১২ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। যদিও তদন্তের স্বার্থে এখনই তাদের পরিচয় জানাচ্ছে না পুলিশ।
সংঘর্ষ ও হামলায় ঘটনায় নিউমার্কেট থানায় হওয়া চারটি মামলার মধ্যে নাহিদ হত্যা মামলার তদন্তের দায়িত্ব ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা রমনা বিভাগে (ডিবি) স্থানান্তর করা হয়েছে। আর মোরসালিন হত্যা, পুলিশের ওপর হামলা, সরকারি কাজে বাধা দেওয়া ও বিস্ফোরক আইনে করা তিনটি মামলার তদন্ত করছে নিউমার্কেট থানার পুলিশ। চার মামলায় আসামি করা হয়েছে প্রায় ১৬০০ জনকে। পুলিশের করা দুটি মামলার একটিতে ২৪ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের সবাই বিএনপির নেতা–কর্মী। শুক্রবার এ মামলার প্রধান আসামি বিএনপি নেতা মকবুল হোসেনকে গ্রেফতার করে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
নাহিদ হত্যা মামলা তদন্ত করছে ডিবির রমনা বিভাগ। এ মামলার তদন্ত তদারক কর্মকর্তা ডিবির রমনা বিভাগের উপকমিশনার এইচ এম আজিমুল হক জানান, হেলমেট পরা ব্যক্তিরা ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী বলে মনে হচ্ছে। হামলায় জড়িত সবাইকে শনাক্তের কাজ চলছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের নিউমার্কেট অঞ্চলের জ্যেষ্ঠ সহকারী কমিশনার শরীফ মো. ফারুকুজ্জামান জানান, এখন পর্যন্ত তারা যা জানতে পেরেছেন, সেটি হলো প্রথমে ঢাকা কলেজের ছাত্ররা নাহিদকে শিক্ষার্থী মনে করেছিলেন। পরে তার পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পরই পেটানো হয়। একপর্যায়ে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানো হয়। নিউমার্কেটে দুই দিনের সংঘর্ষের ঘটনায় বেশ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। সন্দেহভাজন কয়েকজনকে নজরদারিতে রাখা হয়েছে।
সোমবার (১৮এপ্রিল) রাতে নিউমার্কেটের ব্যবসায়ী ও কর্মচারীদের সঙ্গে ঢাকা কলেজের ছাত্রদের সংঘর্ষ হয়। নিউমার্কেটের দুটি খাবারের দোকানের দুই কর্মীর বাকবিতণ্ডা থেকে ওই ঘটনার সূত্রপাত। এর জের ধরে মঙ্গলবার দিনভর রাজধানীর মিরপুর সড়কের নিউমার্কেট এলাকায় ঢাকা কলেজের ছাত্রদের সঙ্গে স্থানীয় বিভিন্ন বিপণি বিতানের দোকান মালিক-কর্মচারী ও হকারদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এই সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত মারা গেছেন দুজন। গুরুতর আহত অবস্থায় মঙ্গলবার রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান কুরিয়ার সার্ভিসের কর্মী নাহিদ হোসেন। তার মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন ছিল। আর গত বৃহস্পতিবার সকালে হাসপাতালে মারা যান নিউমার্কেটের একটি দোকানের কর্মী মোহাম্মদ মোরসালিন।
.jpg)
.jpg)


.webp)

.jpg)

.jpg)