এক্সক্লুসিভ


ভারতের বন্ধু কে? রাশিয়া নাকি যুক্তরাষ্ট্র!


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:২৩ এপ্রিল ২০২২, ০৫:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার

ভারতের বন্ধু কে? রাশিয়া নাকি যুক্তরাষ্ট্র!

হাসান শাহারিয়ার:


ইউক্রেন রাশিয়ার সংঘর্ষ শুরুর পর থেকেই চুপ ছিল ভারত। রাশিয়ার গণহত্যার বিষয়ে কোন মন্তব্যই করেনি দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম এই দেশটি। এই বিষয়ে নিরব থাকার জন্য পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র তুমুল নিন্দা জানায়। 


যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ক্রেমলিনকে অর্থনৈতিক চাপে ফেলতে পশ্চিমা দেশগুলো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র ভারত রাশিয়া থেকে সস্তায় জ্বালানি তেল আমদানি করছে। শুধু তাই নয়, ভারত ২০২১ সালে রাশিয়া থেকে যে পরিমাণে তেল কিনেছিল. ২০২২ সালের প্রথম চার মাসে একই পরিমান জ্বালানি তেল কিনে। এই বিষয়ে হোয়াইট হাউস তাদের আক্ষেপ প্রকাশ করে । এমনকি নয়াদিল্লির সাথে সম্পর্ক "নড়বড়ে" বলে জানায় যুক্তরাষ্ট্র।


তবে হঠাৎ করে বদলে গেছে পশ্চিমের সুর। চলতি মাসে যখন বাইডেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাথে দেখা করেন, সে আলোচনায় তারা তাদের ‘জনগণের মধ্যে গভীর সম্পর্ক’ এবং ‘মূল্যবোধ’ বিষয়ে কথা বলেন। 


শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয় শুক্রবার যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন ভারত সফরে যান। বরিস ভারত সফরে বাণিজ্য বিষয়ে আলোচনা করেন। দুই পশ্চিমা দেশ ভারতের সাথে রাশিয়ার সম্পর্ক নিয়ে কোন প্রকার চাপ প্রয়োগ করেনি। কিন্তু কেন? 


চীন সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রকে বাণিজ্যিক ও বিশ্ব শক্তির দিক দিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রেখেছে। অপরদিকে চীন ও ভারতের সম্পর্ক বেশ কয়েক বছর যাবত নড়বড়ে। শত্রুর শত্রু আমার বন্ধু এই প্রবাদই হয়ত ভারত ও পশ্চিমাদের সম্পর্ককে বিশ্লেষণ করে। চীনের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতাতে টিকে থাকতে হলে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ভারতের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক প্রায় অপরিহার্য। চীন রাশিয়ার সবচেয়ে কাছের বন্ধু, তাহলে ভারত ও রাশিয়া কিভাবে মিত্র দেশ?


রাশিয়ার সাথে ভারতের সম্পর্ক বেশ পুরনো। যুক্তরাষ্ট্র এবং সোভিয়েত ইউনিয়ন ( ইউএসএসআর ) এর কোল্ড ওয়ারকালিন, ভারত ও রাশিয়ার সম্পর্ক গড়ে উঠে। ভারত ৭০ এর দশকে সোভিয়েত ইউনিয়নের সাথে সম্পর্ক শুরু করে। কারণ তখন যুক্তরাষ্ট্র ভারতের প্রতিবেশী ও প্রতিদ্বন্দ্বি পাকিস্তানকে সামরিক ও আর্থিক সহায়তা করছিল। সে সময় রাশিয়া ভারতকে সামরিক ও আর্থিক সহায়তা করে। ২০১৮ সালে ভারত-রাশিয়ার মধ্যে ৫ বিলিয়ন ডলারের এয়ার ডিফেন্স মিসাইল সিস্টেম কেনার চুক্তি হয়। হয়ত রাশিয়ার অস্ত্রের ওপর ভারতের নির্ভরতাই, ইউক্রেন সংকটে মস্কোর কার্যক্রম নিয়ে নিন্দা করার ক্ষমতাকে সীমিত করছে। ২০২১ ডিসেম্বরে পুতিন দিল্লি সফরে গিয়েছিলেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদি পুতিনকে "প্রিয় বন্ধু" বলে উল্লেখ করে। 


মস্কো এখনও ভারতের পাশেই আছে। তাদের সস্তায় জ্বালানি তেলের আমদানি চলছেই। রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ চলতি মাসে দিল্লিতে সফর করেছেন। সেখানে ইউক্রেন যুদ্ধকে ‘একতরফাভাবে’ না দেখার জন্য ভারতের প্রশংসা করেছেন।


ভারত-মার্কিন বার্ষিক বাণিজ্য ১১০ বিলিয়ন ডলারের বেশি অপরদিকে রাশিয়া-ভারতের বার্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলার। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে, ভারত মার্কিন সামরিক সরঞ্জামের একজন প্রধান ক্রেতা হয়ে উঠেছে।


তা সত্ত্বেও, মোদির সাথে বাইডেন বৈঠকে অস্বস্তির ইঙ্গিত ছিল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট তার ভারতীয় প্রতিপক্ষকে তার দেশের রাশিয়ান তেলের ব্যবহার না বাড়াতে অনুরোধ করার পাশাপাশি ভারতকে অন্য জায়গা থেকে তেল সংগ্রহের সহায়তা করারও প্রস্তাব দিয়েছেন। ভারত তার তেলের চাহিদার ৮০ শতাংশ আমদানি করে । ৮০ শতাংশের মধ্যে ৩ শতাংশের বেশি রাশিয়া থেকে আমদানি হয়। 


জনপ্রিয়