এক্সক্লুসিভ
আবারও বদির বদ আচরণ
হুমায়ুন কবির মাসুদ:
মাদক ব্যবসায় পৃষ্টপোষকতা থেকে শুরু করে নানা ধরণের অভিযোগে বহুবার সংবাদের শিরোনাম হয়েছেন কক্সবাজার-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদি। এবার বদি এবং তার ভাই শুক্কুর আলী মিলে টেকনাফ পৌর আওয়ামী লীগের দুই নেতাকর্মীকে মারধর করেছেন। সেই ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর নতুন করে আবারও আলোচনায় এসেছেন বদি।
দলীয় সূত্র জানায়, শুক্রবার পৌর আওয়ামী লীগ এক বিশেষ বর্ধিত সভার আয়োজন করে। সেখানে দলীয় আলোচনা চলাকালীন সময়ে ইউসুফ মনু নামে এক কর্মীর উপর চড়াও হয় বদি। পরে তার ভাইসহ অন্যান্য অনুসারীরা সভা কক্ষের ভেতরে প্রবেশ করে এবং ইউসুফ মনুসহ কয়েকজনকে মারধর করে। পরবর্তীতে তাদের মারধর করার ভিডিও ভাইরাল হলে বদির বদ আচরণের ধারা পুণরায় প্রকাশ পায়।
বদি বেশিরভাগ সময়ই নেতিবাচক কর্মকাণ্ডের কারণে আলোচনায় এসেছেন। তিনি মূলত প্রথম আলোচনায় আসেন দুদকের দায়ের করা দূর্নীতির মামলায়। পরবর্তীতে তাকে নিয়ে একের পর এক বেরিয়ে আসতে থাকে নানা ধরণের তথ্য। তিনি শুধু দুর্নীতি বা মারধর নয় কক্সবাজারের মাদক ব্যবসার রাজা হিসেবেও আলোচনায় এসেছেন বহু খবরের পাতায়।
মূলত বদি একজন মিয়ানমার বংশদ্ভুত। তার পিতা এজাহার আলী রোহিঙ্গা এলাকা থেকে টেকনাফে আসেন এবং ছোটখাটো চোরাচালানকারী থেকে আন্তজার্তিক স্বর্ণ চোরাকারবারীতে পরিণত হয়। তারপর থেকে পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি পরিবারটিকে। ১৯৭৮ সালে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সান্নিধ্যে আসলে তাদের ক্ষমতা আরও বেড়ে যায়। পরবর্তীতে এজাহার মিয়ার হাতধরেই টেকনাফে শুরু হয় বিএনপির রাজনীতি। এজাহার মিয়া ছিলেন টেকনাফ বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি।
টেকনাফ বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এজাহারের সন্তানই হলেন আবদুর রহমান বদি। তাছাড়াও তিনি নিজে থেকে সারা দেশে বেশ পরিচিতি পান মাদক কারবার আর অবৈধ সম্পদের পাহাড় তৈরির মাধ্যমে। পিতার আদর্শকে বুকে ধারণ করেই শুরু করেন বিএনপির রাজনীতি। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি থেকে চেয়েছিলেন মনোনয়ন। কিন্তু মনোনয়ন না পাওয়ায় স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেন। তবে প্রথম নির্বাচনে হেরে যান তিনি।
কিন্তু পরবর্তী নির্বাচনে বদিকে বিএনপি থেকে মনোনয়ন দেয়া হলেও তা আবার ফিরিয়ে নেওয়া হয়। এরপর তিনি বিএনপির মনোনয়নে টেকনাফ পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়। কিন্তু পরবর্তীতে বিএনপির ক্ষমতা পরিবর্তনে যোগ দেন আওয়ামী লীগে। এরপর ২০০৮ সাল ও ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে হয়ে উঠেন সংসদ সদস্য। সর্বশেষ ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে বদির আসনে স্থলাভিষিক্ত হন তার স্ত্রী শাহীনা আক্তার চৌধুরী।
.jpg)
.jpg)


.webp)

.jpg)

.jpg)