এক্সক্লুসিভ


স্বপ্ন যাচ্ছে বাড়ি


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:২৭ এপ্রিল ২০২২, ১২:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার

স্বপ্ন যাচ্ছে বাড়ি

সুব্রত চন্দ:


রাজধানীর একটি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করেন সায়মন হোসেন। গত সাত মাস কাজের চাপে বাড়ি যেতে পারেননি তিনি। বরং যানজট ভরা যান্ত্রিক এই শহরে খেটে-খেয়ে তিনি অনেকটাই ক্লান্ত। তাইতো একটু সময় পেলেই তার চিন্তায় ভেসে উঠে সবুজে ঘেরা গ্রামের বাড়ির দৃশ্য। স্বপ্নেই যেনো ছুঁয়ে যায় অক্সিজেনে ভরা হু হু বাতাসের অনুভূতি। বেশ কয়েকমাস ধরে বাড়ি যাবার আকুতি তাকে আকড়ে ধরলেও অফিসের ছুটি না পাওয়ায় যাওয়া হয়নি। তবে এবার বাড়ি যাবার স্বপ্ন সত্যি হচ্ছে তার।


আসছে ঈদুল ফিতরকে ঘিরে সাত দিনের ছুটি পেয়েছেন সায়মন। তাই দেরি না করে ঈদ যাত্রার প্রথম দিনই পঞ্চগড়ে বাড়ির পানে ছুটছেন তিনি। ভোগান্তি নিয়ে রাতভর লাইনে দাঁড়িয়ে ট্রেনের টিকেট কেটে রেখেছিলেন আগেই। এখন অপেক্ষা শুধু ট্রেন ছাড়ার।


পরিবারের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে সায়মনের মতো লাখো মানুষ বুধবার (২৭ এপ্রিল) থেকে বাড়ির পানে ছুটতে শুরু করেছেন। কেউ ছুটছেন ট্রেন স্টেশনে, কেউ বাস কাউন্টারে, কেউবা আবার লঞ্চ টার্মিনালে।


শিডিউল বিপর্যয়ে শুরু রেলে ঈদযাত্রা:


এদিকে প্রথম দিনের ঈদ যাত্রায়ই ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয় ঘটেছে। সময়মত ট্রেন না আসায় দীর্ঘ সময় ধরে অপেক্ষা করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ঘরমুখো যাত্রীরা।


কমলাপুর রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানায়, বুধবার সকাল ৯টা পর্যন্ত কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে আটটি ট্রেন ছেড়ে গেছে। ঈদযাত্রার শুরুটাই ঘটে শিডিউল বিপর্যয়ের মধ্য দিয়ে। রাজশাহীগামী ধূমকেতু এক্সপ্রেস ট্রেনটি ভোর ৬ টায় ছেড়ে যাওয়ার কথা থাকলেও সেটি প্রায় এক ঘন্টা বিলম্ব করে। ৬টা ৫৫ মিনিটে ট্রেনটি কমলাপুর রেলস্টেশন ছেড়ে যায়। এরআগে ৬টা ২০ মিনিটে স্টেশন ছেড়ে যায় সিলেটগামী পারাবত এক্সপ্রেস। সকাল ৬টা ৪০ মিনিটে চিলাহাটিগামী নীলসাগর এক্সপ্রেস ছাড়ার কথা ছিল, কিন্তু এই ট্রেনটিও প্রায় এক ঘন্টা দেরি করে সাড়ে ৭টার দিকে স্টেশন ছেড়ে যায়। 


এছাড়া সকাল ৭টার দিকে নির্ধারিত সময়েই ছেড়ে গেছে চট্টগ্রাম অভিমুখী সোনার বাংলা এক্সপ্রেস। ৩০ মিনিট দেরিতে ৮টা ৪৫ মিনিটে কমলাপুর ছেড়ে যায় খুলনাগামী সুন্দরবন এক্সপ্রেস। এছাড়া শিডিউল বিপর্যয়ের কারণে পৌনে ৯টার চট্টগ্রামগামী কর্ণফুলী কমিউটার ট্রেনটিও একটু দেরিতে স্টেশন ছাড়ে। 


এবার ঈদের সরকারি ছুটি শুরু হচ্ছে ২ মে থেকে। যা শেষ হবে ৪ মে। তবে ১ মে শ্রমিক দিবস হওয়ায় এবং ২৯ এপ্রিল (শুক্রবার) ও ৩০ এপ্রিল (শনিবার) সপ্তাহিক বন্ধের দিন হওয়ায় দীর্ঘ ছুটি পাচ্ছেন চাকরিজীবীরা। তাই ধারণা করাই যাচ্ছে ২৯ এপ্রিল থেকে বাড়ি ফেরা মানুষের চাপ বৃদ্ধি পাবে। এমন প্রেক্ষিতে অনেকে বুধবার থেকেই বাড়ি যাওয়া শুরু করেছেন।


এদিকে বাস ও ট্রেনের অগ্রিম বিক্রি হওয়া টিকেটের যাত্রাও শুরু হচ্ছে বুধবার থেকে। তাই বাস কাউন্টার ও রেল স্টেশনগুলোতে নেমেছে যাত্রীদের ঢল।


সরেজমিনে রাজধানীর কমলাপুর রেল স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, যারা বুধবারের ট্রেনের টিকেট কিনেছেন, তারা নির্ধারিত সময়ের আগেই স্টেশনে এসে হাজির হয়েছেন। এছাড়া টিকেট পাননি এমন অনেকেও স্টেশনে এসেছেন। তারা কোনোমতে দাঁড়িয়ে যাওয়ার টিকেট ব্যবস্থা করার চেষ্টা করছেন।


তবে বাস কাউন্টারগুলোতে তুলনামূলকভাবে যাত্রীদের চাপ কম রয়েছে। পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বৃহস্পতিবার (২৮ এপ্রিল) বিকাল থেকে যাত্রীদের চাপ বৃদ্ধি পাবে।


এবার ঈদে দ্বিগুণ মানুষ বাড়ি যাবে:


গত দুই বছর করোনার কারণে সবাই ঈদে বাড়ি যেতে পারেনি। এবার সংক্রমণ অনেকটা নিয়ন্ত্রণে থাকায় দ্বিগুণ মানুষ বাড়ি যাবে বলে ধারনা করছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি।


সংগঠনটির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, গত দুই বছর করোনা মহামারি ছিল, এবার সেটা কমে আসায় ঈদে দ্বিগুণ মানুষ গ্রামে যাবেন। এবার এক কোটির বেশি মানুষ ঢাকা থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যাতায়াত করবেন বলে আশা করা যাচ্ছে। তাই যাত্রীদের বাড়তি চাপ সামাল দিতে প্রয়োজন বাড়তি নিরাপত্তা, সর্বোচ্চ সতর্কতা, সকল পথের প্রতিটি যানবাহনের সর্বোচ্চ ব্যবহার সুনিশ্চিত করা।


সড়ক ও নৌদুর্ঘটনা বৃদ্ধির আশঙ্কা:


এবার যাত্রীর চাপ দ্বিগুণ থাকায় সড়ক ও নৌদুর্ঘটনার সংখ্যা দ্বিগুণ বাড়ার আশঙ্কা করছেন মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী। তিনি বলেন, অতিরিক্ত যাত্রী বহন ও বেশি ভাড়া আদায়ের লোভে প্রতিবছর সড়ক ও নৌপথে ফিটনেসবিহীন যানবাহন নামানো হয়, পণ্যবাহী যানবাহনে যাত্রীবহন করা হয়, লঞ্চগুলো যাত্রী বোঝাই থাকলেও তাদের নিরাপত্তায় নৌপথে পর্যাপ্ত বয়া-বাতি ও জীবন রক্ষাকারী সরঞ্জাম থাকে না। এছাড়া একজন চালক বিশ্রামহীন টানা ১০ থেকে ১৫ ঘন্টা গাড়ি চালায়, সড়কে নামানো হয় অদক্ষ চালকদের। এসব কারণে ঈদ এলেই দুর্ঘটনা-প্রাণহানি বেড়ে যায়।


জনপ্রিয়