এক্সক্লুসিভ


‘ক্লিন ইমেজ’ প্রার্থীর খোঁজে আওয়ামী লীগ


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:০৯ মে ২০২২, ০২:০৪ অপরাহ্ন, সোমবার

‘ক্লিন ইমেজ’ প্রার্থীর খোঁজে আওয়ামী লীগ

নিয়াজ মোর্শেদ:


আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কাজ শুরু করেছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। সারা দেশে ৩০০ আসনে যোগ্য, জনপ্রিয় ও ক্লিন ইমেজের প্রার্থীর সন্ধান ও যাচাই বাচাই করা হচ্ছে। 


প্রতিটি আসনে কে বেশি যোগ্য প্রার্থী জানতে বিভিন্ন উপায়ে প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০ জনের মতামত গ্রহণ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে অনেকগুলো আসনেই এই জরিপ শেষ হয়েছে। এই যাচাই বাচাইয়ে জনপ্রিয়তায় যিনি এগিয়ে থাকবেন তিনিই পাবেন নৌকা প্রতীক। আর বাদ পড়বেন অদক্ষ ও কর্মীবিরোধী এমপি-মন্ত্রীরা। 

 

শনিবার আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের সভায় এমন নির্দেশনাই দেন দলটির সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতারা দূরবীন নিউজকে এ তথ্য জানান।


দলীয় সভায় অংশ নেওয়া একাধিক নেতা দূরবীন নিউজকে জানান, সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সবাইকে স্পষ্ট করে বলেছেন, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে নিবন্ধিত সব দলের অংশগ্রহণে একটি গ্রহণযোগ্য ও চ্যালেঞ্জিং নির্বাচন। এ নির্বাচনকে সামনে রেখে সারা দেশে দলীয় জরিপ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। প্রতিটি আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের ব্যাপারে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের বিশেষ মতামত গ্রহণ করা হচ্ছে।


এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক বলেন, ‘আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এবং দেশ-বিদেশে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হোক সেটা আমরা চাই। আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে দলীয় সভানেত্রী বলেছেন, তিনি সব দলের অংশগ্রহণে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন দেখতে চান। এ জন্য সবচেয়ে জনপ্রিয় ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হবে। কোনো জনবিচ্ছিন্ন, কর্মীবান্ধব নয়, এমন ব্যক্তিকে মনোনয়ন দেওয়া হবে না। কাজেই বিতর্কিতরা বাদ পড়বেন, এটা স্বাভাবিক।’


দলীয় সূত্র জানায়, সভানেত্রী শেখ হাসিনা আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের অংশ হিসেবে ইশতেহার তৈরির নির্দেশনাও দিয়েছেন। সেই সাথে দলীয় সভানেত্রী নিজস্ব টিম, বিভিন্ন সংস্থা দিয়ে মাঠ জরিপ করছেন। একই সঙ্গে তৃণমূলকে সম্মেলনের মাধ্যমে ঢেলে সাজানো হচ্ছে। নতুন উদ্যমে আগামী নির্বাচনে চতুর্থবারের মতো জয় ছিনিয়ে আনতে চায় দলটি। 

তাই দলের দুর্নীতিবাজ, বিতর্কিত, দলীয় কোন্দলে জর্জরিত, নিয়োগ বাণিজ্য, টেন্ডার বাণিজ্য, ভর্তি বাণিজ্য কিংবা টিআর-কাবিখার টাকা মেরে খাওয়া কোন এমপি-মন্ত্রীকে এবার মনোনয়ন দেওয়া হবে না, সৎ ও জনবান্ধব নেতৃত্ব দিয়ে দল সাজানো হচ্ছে।

 

এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কৃষিবিদ আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, ‘যোগ্য, সৎ, জনপ্রিয়, কর্মীবান্ধব, জনগণের আশা-আকাঙ্খা পূরণ করতে সক্ষম, বাংলাদেশ, স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ এবং বঙ্গবন্ধুর আদর্শের প্রতি অবিচল এমন ব্যক্তিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে।’

 

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহম্মদ হোসেন বলেন, ‘আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্লিন ইমেজ এবং জনপ্রিয় প্রার্থী বাছাইয়ের জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। তাই দলও সেই মোতাবেক কাজ করবে। দুর্নীতিবাজ ও বিতর্কিত ব্যক্তির আসার কোন সুযোগ নেই। আর এসব কারণে প্রার্থী বাছাইয়ে প্রায় দুই বছর সময় নিচ্ছে আওয়ামী লীগ।’


জনপ্রিয়