এক্সক্লুসিভ
সয়াবিনের চাপ পড়েছে সরিষার তেলে
সুব্রত চন্দঃ
ঈদের আগে হঠাৎ করেই বাজার থেকে উধাও হয়ে যায় সয়াবিন তেল। সংকট মেটাতে এবং সরবরাহ বাড়াতে তেল আমদানির পাশাপাশি বৃদ্ধি করা হয় দাম। এরপর ধীরে ধীরে পরিস্থিত স্বাভাবিক হতে শুরু করে। কিন্তু ঈদ মৌসুমে বাজারে সয়াবিন তেল না থাকায় চাহিদা বাড়ে সরিষার তেলের। আর এই সুযোগে নিত্যপ্রয়োজনীয় এই পণ্যটিরও দাম বাড়িয়ে দিয়েছে ব্যবসায়ীরা।
বর্তমানে বাজারে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের প্রতি লিটার সরিষার তেল বিক্রি হচ্ছে ৩২০ থেকে ৩৮০ টাকা। অথচ ঈদের আগেও প্রতিটি ব্র্যান্ডের তেলে ৩০ থেকে ৪০ টাকা দাম কম ছিল। এছাড়া ঈদের আগে ২১২ টাকা বিক্রি করা প্রতি লিটার খোলা সরিষার তেল এখন বিক্রি হচ্ছে ২৪০ টাকার বেশি।
সোমবার (৯ মে) সরেজমিনে রাজধানীর কারওয়ান বাজারের কিচেন মার্কেটে গিয়ে দেখা যায়, এখানে রাধুনী ব্র্যান্ডের প্রতি লিটার সরিষার তেল বিক্রি হচ্ছে ৩৮০ টাকা। এছাড়া ড্যানিস ৩২০ টাকা, প্রাণ ৩০০ টাকা, ইফাদ ৩২০, পুষ্টি ৩৫০ টাকা ও তীর ৩২০ টাকা লিটার বিক্রি হচ্ছে।
এছাড়া ডিলার পর্যায়ে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের খোলা তেলের টিন (১৬ লিটার) বিক্রি হচ্ছে তিন হাজার ৬০০ টাকা। ঈদের আগে এসব টিন বিক্রি হয়েছে তিন হাজার ৪০০ টাকায়। মদিনা ব্র্যান্ডের পাঁচ লিটারের বোতল বিক্রি হচ্ছে এক হাজার ১০০ টাকায়, ভুট্টা মার্কা বিক্রি হচ্ছে এক হাজার ২২০ টাকায় এবং সোনার হরিণ মার্কা বিক্রি হচ্ছে এক হাজার ২০০ টাকায়। প্রতিটির দামই ঈদের আগে কম ছিল।
কিচেন মার্কেটে সোনার হরিণ তেলের ডিলার সিদ্দিক স্টোর। সরিষার তেলের দাম বৃদ্ধির কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা মিল থেকে যে দামে তেল কিনে এনেছি, সেই দামেই বিক্রি করছি। দাম বাড়ার কারণ আমরা বলতে পারবো না। এটা মিল মালিকরা বলতে পারবে।
একই অজুহাত দেখান মদিনা ও ভুট্টা মার্কার ডিলার সোনালী ট্রেডার্স। এই দোকানের মালিক আবুল কাশেম বলেন, বেশি দামে তেল বিক্রি করলে সরকার আমাদের জরিমানা করে। অথচ আমরাও মিল থেকে বেশি দামেই তেল কিনে এনেছি। এখন মিল থেকেই যদি দাম বাড়ানো হয়, তাহলে তো আমরা কম দামে বিক্রি করতে পারবো না।
তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েজন বিক্রেতা দাবি করেন, সয়াবিন তেলের সংকট দেখা দেওয়ায় সরিষার তেলের চাহিদা বেড়েছে। তাই দাম বেশি। এছাড়া আন্তর্জাতিক বাজারে সরিষার তেল তৈরির কাঁচামালের দাম বাড়ায় উৎপাদন খরচ বেড়েছে। তাই খুচরা বাজারে এই তেলের দাম বেশি।
এদিকে ক্রেতারা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধির অজুহাত দেখিয়ে ব্যবসায়ীরা দেশের বাজারেও ভোজ্যতেলের দাম দফায় দফায় বাড়ানো হচ্ছে। কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারে যখন তেলের দাম কমানো হয়, তখন তো দেশের বাজারে দাম কমে না। বাজারের ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ না থাকায় ব্যবসায়ীরা ইচ্ছামতো তেলের দাম বাড়াচ্ছে। আর এতে সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছে নিম্ন ও মধ্যবিত্তরা।
সরিষার তেলের দাম বৃদ্ধির বিষয়ে জানতে চাইলে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ও ঢাকা জেলা কার্যালয়ের প্রধান মো. আব্দুল জব্বার মন্ডল বলেন, সয়াবিন তেলের সংকটের কারণে সরিষার তেলের উপর চাপ বেড়েছে। তাই দাম কিছুটা বেড়েছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক বাজারেও এই পণ্যটির দাম বেড়েছে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি সয়াবিন তেলের সংকট দেখা দিলে ঈদের পর পর পণ্যটির দাম প্রতি লিটারে ৩৮ টাকা বৃদ্ধি করে সরকার। এতে তেল কিনতে সাধারণ ক্রেতারা হিমশম খেলেও সরবরাহ পরিস্থিত কিছুটা স্বাভাবিক হয়েছে।
.jpg)
.jpg)


.webp)
.jpg)
.jpg)
.jpg)
.jpg)