এক্সক্লুসিভ
শান্তি সেবা সুরক্ষায় বাংলাদেশ পুলিশ
মাসুদ সুমনঃ
বাংলাদেশ সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিয়ন্ত্রিত বাংলাদেশ পুলিশ দেশের প্রধান আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা। চুরি, ডাকাতি, ছিনতাইসহ দাঙ্গা-হাঙ্গামা ইত্যাদি সমাজ বিরোধী কর্মকাণ্ড প্রতিরোধসহ বিভিন্ন জনসভা, নির্বাচনকালীন সময়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বাংলাদেশ পুলিশ ভূমিকা প্রশংসার দাবিদার।
শুধু তাই নয়। পুরুষ-নারী উভয়ই নিয়ে গঠিত বাংলাদেশ পুলিশ দেশের গন্ডি পেরিয়ে গৌরব কুড়িয়েছে বিশ্বের অন্যান্য রাষ্ট্রগুলোতেও। দেশমাতৃকা রক্ষায় ১৯৭১ সালে ২৫ মার্চ সবার আগে পাকিস্তানী সৈন্যদের বিরোদ্ধে প্রতিরোধ গরে তুলেছিল এই পুলিশ সদস্যরাই।
তবে বাহিনীটি দেশের প্রায় ১৮ কোটি মানুষের নিরাপত্তা দিলেও বিভিন্ন সময় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগেছে নিজেরাই। বিভিন্ন জঙ্গিগোষ্ঠিসহ বিপদগামীরা হামলা চালিয়েছে বাহিনীটির সদস্যদের উপর। এতে কেউ প্রাণ হারিয়েছেন। কেউ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন শারীরিকভাবে।
গেল ২৩ মার্চ রাজধানীর বংশাল থানায় জিজ্ঞাসাবাদের সময় ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে তিন পুলিশ সদস্য আহত হন। রাত ১টায় আহত অবস্থায় তাদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেয়া হয়। আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন বংশাল থানার কনস্টেবল নজরুল ইসলাম, সজীব ও তাজুল ইসলাম।
রাতে রাজধানীর গুলিস্তান এলাকা থেকে দুই ছিনতাইকারীকে আটক করে থানায় আনা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদ করতে গেলে তাদের কাছে থাকা ধারালো ছুরি দিয়ে পুলিশ সদস্যদের এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে। এতে তিন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে নজরুল ইসলামের শরীরে, সজীবের মাথায় ও তাজুল ইসলাম পেটে আঘাত পেয়েছেন।
এছাড়া এই ঘটনার একদিন আগে গুলিস্থানে ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হন শাহবাগ থানা পুলিশের এসআই জাহাঙ্গীর হোসেন।
এর আগে, ১৩ জানুয়ারি ২০১৩, রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবিরের কর্মীরা পুলিশের ওপর ঝটিকা হামলা চালায়। ভাঙচুর করে পুড়িয়ে দেওয়া হয় পুলিশের পিক-আপ ভ্যানসহ বেশ কয়েকটি গাড়ি। হামলায় পুলিশসহ বেশ কয়েকজন আহতও হয়েছিলেন।
এরপর ২৭ মে ২০১৯, রাজধানীর মালিবাগে পুলিশের একটি গাড়ির কাছে বিস্ফোরণের ঘটনায় একজন পুলিশ কর্মকর্তাসহ দুইজন আহত হয়। পুলিশ জানান, বিস্ফোরণে পুলিশের ওই গাড়িতে আগুন ধরে যায়। পরে কাছের একটি পেট্রোল পাম্প থেকে অগ্নিনির্বাপণের সরঞ্জাম এনে আগুন নেভানো হয়।
ঘটনার দিন রাতেই যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সাইট ইন্টেলিজেন্স জানায়, ওইদিন রাতের সেই হামলার দায় স্বীকার করেছে আইএস।
এছাড়া ২৯শে এপ্রিল ২০১৯ সালে ঢাকার গুলিস্তানে একটি পুলিশ বক্সে একই ধরনের হামলা হয়েছিলো। সেই হামলার দায়ও স্বীকার করে আই এস।
এখন কিন্তু প্রশ্ন হলো, পুলিশ লক্ষ্যবস্তু কেন?
পুলিশ কী বলছে
এই গাড়ি বিস্ফোরণে আইএসএর সম্পৃক্ততার বিষয় সম্পর্কে একটি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে। তারা বলছে, হামলার বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে এবং আইএস'এর দায় স্বীকারের বিষয়টিও পুলিশের দৃষ্টিতে এসেছে। তবে এখন পর্যন্ত ঘটনার সাথে আইএস'এর কোনো সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায় নি বলে জানিয়েছিল পুলিশ।
২০১৯ সালে মালিবাগে জঙ্গি হামলার পর দীর্ঘদিন এমন ঘটনা বন্ধ থাকলেও সম্প্রতি পুলিশের উপর এমন হামলার পরিমাণ বেড়েছে। বংশাল থানার ঘটনায় থানার পরিদর্শক বলছেন এখানে গাফলতি ছিল পুলিশ সদস্যদেরই। আসামি গ্রেফতারের পর তাদের তল্লাশি করে সমস্ত অস্ত্র নিয়ে নিলে এমন ঘটনা ঘটতো না।
রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে পুলিশের উপর হামলার ঘটনার পর সমাজে নানামুখী প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে এসব ঘটনার কারণ, প্রতিকার এবং এ নিয়ে পুলিশের ভূমিকা ও দায়িত্ব প্রসঙ্গে দূরবীন নিউজের সঙ্গে কথা বলেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান খন্দকার ফারজানা রহমান।
তিনি বলেন, অপরাধ দমনে গত কয়েক বছরে ব্যাপক সুনাম কুড়িয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ। তবে কিছু কিছু কাজ সমালোচনাও বয়ে এনেছে। বিনা অপরাধে মানুষকে হয়রানী, টাকার বিনিময়ে আসামী ছেড়েদেয়াসহ কতিপয় কারণে মানুষ কিছুটা অনাস্থা প্রকাশ করেছে পুলিশের উপর। ফলে এমন ঘটনা ঘটনা ঘটছে সমাজে।
একই সঙ্গে ফারজানা রহমান বলেন, প্রত্যেক মানুষই নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টা করবে, এটা স্বাভাবিক। একজন অপরাধীও সর্বোচ্য চেষ্টা করবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছ থেকে দূরে থাকতে। সেক্ষেত্রে একজন আসামিকে আটক করার সময় পুলিশের আরও সচেতন থাকা উচিৎ।
এছাড়াও বেক্তিগত জীবনেও তাদের অনেক সচেতন থাকার পরামর্শও দেন তিনি। বলেন, অপরাধীর প্রধান শত্রু হল পুলিশ। ফলে তারাও চাইবে প্রতিশোধ নিতে।
.jpg)
.jpg)


.webp)

.jpg)

.jpg)