ঘরোয়া টুর্নামেন্টে খেলার মধ্য দিয়ে উদ্বোধন করা হলো কাতার ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচের ভেন্যু লুসাইল স্টেডিয়াম।
উদ্বোধনী খেলা দেখতে স্থানীয় ও অভিবাসীদের পাশাপাশি ভিড় করেন প্রবাসী বাংলাদেশিরাও।
কাতারের স্থানীয় সময় ১১ আগস্ট রাতে উদ্বোধন করা হয় সোনার আদলে নির্মিত দেশটির সবচাইতে বড় ভ্যেনু লুসাইল স্টেডিয়ামটি।
এদিন ঘরোয়া ফুটবল আল রায়হান বনাম আল আরাবিয়া ফুটবল ক্লাবের খেলার মাধ্যমে শুরু হয়ে গেল বিশ্বকাপ ফুটবলের ১০০ দিনের কাউন্টডাউন।
ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপের এটি ২২তম আসর। বিগত ২১টি আসরের পর এই প্রথম মধ্যপ্রাচ্যের কোন দেশ স্বাগতিক হচ্ছে ফুটবল বিশ্বকাপে।
চলতি বছর, ২০ নভেম্বর কাতারের পাঁচটি শহরের আটটি ভেন্যুতে ৩২টি দলের অংশগ্রহণে শুরু হবে ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ আসরটি।
আটটি ভেন্যুর সব কটিরই আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন শেষ। ৬৫টি ম্যাচ এর মধ্যে ফাইনালসহ মোট নয়টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে লুসাইল স্টেডিয়ামে।
ফাইনাল ম্যাচের ভেন্যু উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপ আয়োজনে সকল প্রস্তুতি শেষ করেছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশটি।
২০১৭ সালের ১১ এপ্রিল স্টেডিয়ামটির কাজ শুরু হয়। এটি অত্যাধুনিক লুসাইল শহরের কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থিত। কাতারের রাজধানী দোহা থেকে যার দূরত্ব প্রায় ২২.৭ কিলোমিটার।
গাড়ি ও মেট্রো রেলযোগে পৌঁছানো যাবে সেখানে। ইতিমধ্যেই ৩ হাজার ৬০০ কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি করা হয়েছে দোহার মেট্রোরেল সিস্টেম।
৮০ হাজারের বেশি ধারণক্ষমতা সমপন্ন লুসাইল স্টেডিয়ামটি কাতার বিশ্বকাপে সবচেয়ে দৃষ্টিনন্দন ভ্যেনু।
ম্যানিকা আর্কিটেক এর সহযোগিতায় ব্রিটিশ আর্কিটেকচার ফার্ম ‘ফোস্টার প্লাস পার্টনার্স এবং যুক্তরাষ্ট্রের ‘পপুলাস’ স্টেডিয়ামটির নকশা তৈরি করেছে।
প্ল্যানিং, প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট ও অ্যাডভাইজরি হিসেবে কাজ করেছে অস্ট্রেলিয়ার ‘অরেকন’ কোম্পানি।
স্টেডিয়ামটি নির্মাণে কাতারের ‘এইচবিকে কন্টাক্টিং কোম্পানির সাথে যৌথভাবে কাজ করেছে চীনের ‘চিনা রেলওয়েজ কনস্ট্রাকশন।’
এটি নির্মাণে খরচ হয়েছে ৭৬৭ মিলিয়ন ডলার, যা বাংলাদেশী মুদ্রায় প্রায় ৬ হাজার ৬১০ কোটি ৭২ লাখ টাকা।
উপর থেকে এর নির্মানশৈলি দেখলে মনে হবে একটি ভাসমান বৃত্তাকার পাত্র । স্টেডিয়ামটির চারপাশে রয়েছে কৃত্রিম পানির ফোয়ারা।
ভ্যেনুতে প্রবেশের জন্য রয়েছে ৬টি বিশেষ সেতু। জলের প্রতিবিম্বাকৃতির পুকুর দ্বারা বেষ্টিত মাঠটিতে দর্শকরা ছয়টি সেতু দিয়ে 'শৈবাল' পার করে প্রবেশ করবে।
ঐতিহ্যবাহী দাও নৌকোর পালের অবয়বে তৈরি করা স্টেডিয়ামের বাইরের ঘেরের অবতল অংশটিতে রয়েছে নিজস্ব সৌরশক্তি চালিত কুলিং সিস্টেম, যা গরম আবহাওয়াকে নিয়ন্ত্রণ করবে।
আরব বিশ্ব থেকে পাওয়া ইসলামী সভ্যতার অনেক শিল্পকর্মের নান্দনিক উপস্থাপন করা হয়েছে এতে।
বিশ্বকাপ ফুটবলের ইতিহাসে প্রথমবারের মত ফুটবল প্রেমিদের আনন্দঘন মুহূর্ত উপহার দিতে পুরোপুরি প্রস্তুত আয়োজক দেশ কাতার।
মাঠে বসে কাতার ফুটবল বিশ্বকাপ খেলা দেখার অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় আছেন বলে জানান স্টেডিয়াম উদ্বোধন দেখতে আসা প্রবাসী বাংলাদেশিরা।
আগামী ২০ নভেম্বর কাতার ও ইকুয়েডরের মধ্যকার ম্যাচ দিয়েই পর্দা উঠবে ২২তম বিশ্বকাপ আসরের।
তারা প্রত্যাশা করছে, ২০২২ সালে সর্বোচ্চ ১৫ লাখ ভক্ত দেশটি সফরে আসবে। তাদের রাখা হবে হোটেল, বাড়ি, তাঁবু ও ১২ হাজার ক্রুজ জাহাজে!
অবশ্য এ নিয়ে একটা সংশয় ছিল। ফিফার নিয়মানুযায়ী ৬০ হাজার হোটেল কক্ষ তৈরি রাখতে হয় আয়োজক দেশকে।
কিন্তু কাতার কর্তৃপক্ষ তা ভালোভাবেই করেছে। শুধু হোটেল নয়, অন্যান্য বিকল্পের মাধ্যমে হলেও বিপুল পরিমাণ পরিদর্শকের জন্য মানসম্মত থাকার জায়গা তৈরি করে রেখেছে কাতার।