শ্রীলঙ্কার পর এবার বৈদেশিক রিজার্ভে টান পড়েছে ভুটানের। দেশটির অবস্থাও শ্রীলঙ্কার মতো হবে কিনা তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে ভুটানের রিজার্ভ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমেছে। এতে করে শীঘ্রই অর্থনৈতিক সংকটে পড়তে চলেছে দেশটি। এরই মাঝে আবার জ্বালানি তেল ও খাদ্যশস্যের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।
গত বছরের এপ্রিল মাস পর্যন্ত তাদের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ১.৪৬ বিলিয়ন ডলার। কিন্তু একই বছরের ডিসেম্বরে তা কমে ৯৭০ মিলিয়ন ডলারে এসে দাঁড়িয়েছে
দক্ষিণ এশিয়ার ছোট্ট একটি দেশ ভুটান। নান্দনিক সৌন্দর্যের জন্য প্রতি বছর অনেক পর্যটক এখানে বেড়াতে আসেন।
আট লাখেরও কম জনসংখ্যা বিশিষ্ট দেশটির অর্থনীতি অনেকটাই পর্যটন শিল্পের উপর নির্ভরশীল।
মহামারীর সময়ে দেশটি জিরো কোভিড নীতি গ্রহণ করে। পর্যটক আগমনে জারি করে নানা রকম নিষেধাজ্ঞা। ফলে গত দুই বছর একেবারে পর্যটক শূণ্য ছিলো ভুটান। এতে অর্থনীতিতে সংকট দেখা দেয়।
একই ঘটনা ঘটেছিলো শ্রীলঙ্কাতেও। তাদের পর্যটন নির্ভর অর্থনীতি কোভিডের প্রভাবে স্থবির হয়ে পড়ে।
এছাড়া চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন সংকটের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে গম এবং তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।
এতে ব্যাপক সংকটের মুখে পড়েছে চীন সীমান্তে অবস্থিত ছোট্ট দেশ ভুটান। এই অবস্থায় ভুটানের অবস্থাও কি শ্রীলঙ্কার মতোই হবে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
গত কয়েক মাস থেকে চরম অর্থনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে শ্রীলঙ্কা। তাদের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমতে কমতে শূন্যের কোটায় এসে পৌঁছেছে। খাদ্যশষ্য কেনার মতো টাকাও দেশটির কাছে অবশিষ্ট নেই।
শ্রীলঙ্কার ঘটনা ভুটানের সামনে একটি উদাহরন। ভুটানেট দুর্বল অর্থনীতিকে এখনি চাঙ্গা না করতে হবে। তা না হলে ভবিষ্যতে তাদের অবস্থাও শ্রীলঙ্কার মতোই হতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে।
এই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য ইতোমধ্যে নানা পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে ভুটান সরকার। যেকোনো উপায়ে অর্থনীতির হাল ফেরাতে বদ্ধ পরিকর তারা।
সম্প্রতি এক বিজ্ঞপ্তিতে সরকার জানিয়েছে, কিছু বিশেষ যাত্রীবাহী যানবাহন, ভারী আর্থমুভিং মেশিন এবং কৃষিকাজে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি ব্যতীত বাকি সমস্ত ধরনের যানবাহন আমদানি নিষিদ্ধ করতে যাচ্ছে তারা। বৈদেশিক মুদ্রার ব্যয় কমাতেই এমন উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।
এছাড়া দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শুধুমাত্র পর্যটন শিল্পে কাজে লাগানোর জন্যই যাত্রীবাহী যানবাহনগুলো আমদানি করা হবে।
গত বছরের জুন মাস থেকে ভুটান আট হাজারেরও বেশি বিদেশি গাড়ি আমদানি করেছে। যা তাদের বৈদেশিক মুদ্রা কমার পেছনে অন্যতম বড় একটি কারন।
এরকম অপ্রয়োজনীয় আমদানি নিষিদ্ধ করতেই নতুন ব্যবস্থা নিতে চলেছে সরকার।
তবে ভুটান শ্রীলঙ্কার মতো হবে কিনা সেটা নিশ্চিত করে এখনি বলা যাবে না। শ্রীলঙ্কার অর্থনৈতিক সংকটে কোভিডের প্রভাব যেমন দায়ী তেমনি সে দেশের শাসক শ্রেণির লুটপাটও কম দায়ী নয়।
প্রচুর পরিমাণে বৈদেশিক ঋণ নেয়া এবং শাসকদের দূর্নীতি শ্রীলঙ্কার অর্থনীতিকে একেবারে ভেঙে দিয়েছে।
এদিকে ভুটানে রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং অতিরিক্ত বৈদেশিক ঋণ না থাকায় দেশটি কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানে আছে।