আন্তর্জাতিক


বিমান বন্ধ রেখে মাত্র নয় সেকেন্ডে ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে ভারতের টুইনটাওয়ার


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:২৮ আগস্ট ২০২২, ১১:১৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার

বিমান বন্ধ রেখে মাত্র নয় সেকেন্ডে ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে ভারতের টুইনটাওয়ার

সব জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে আজকেই ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে ভারতের টুইনটাওয়ার।  

মাত্র নয় সেকেন্ড সময়ের মধ্যে আকাশচুম্বী এই দুটো ভবন  রিমোট কন্ট্রোলের সাহায্যে মিশিয়ে দেয়া হবে মাটির সাথে। 

সেজন্য বন্ধ থাকবে সড়ক এবং ট্রেন যোগাযোগ।  এমনকি ওই এলাকার উপর দিয়ে বিমান চলাচলও বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। 

ভারতের গ্রেটার নয়ডা এক্সপ্রেসওয়ের পাশে অবস্থিত  আকাশচুম্বী ভবন সুপারটেক টুইনটাওয়ার। 

এখনো চালু না হওয়া এই জোড়া ভবনের মধ্যে একটির উচ্চতা ১০৩ মিটার। এছাড়া অন্য ভবনটি ৯৭ মিটার উচু। 

ভারতের অন্যতম উচু এই জোড়া ভবনে সর্বমোট ৯১৫ টি ফ্লাটের ব্যবস্থা রয়েছে৷ যার মধ্যে ৬৩৩টি ফ্লাটের জন্য অগ্রিম বুকিং করেছিলেন গ্রাহকরা। 

কিন্তু চালু হবার আগেই চিরতরে মাটির সাথে মিশে যাচ্ছে ভবন দুটি। নির্মাণ সংক্রান্ত আইন না মানার অভিযোগে গতবছর টুইনটাওয়ার  ধ্বংস করার নির্দেশ দিয়েছিলো ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। 

এরপর বিভিন্ন জটিলতা পেরিয়ে আজকেই নির্ধারিত হয়েছে ভাঙ্গার তারিখ। সেজন্য বেশ কিছুদিন আগে থেকে প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছিলো। 

জানা গেছে, টুইনটাওয়ার ভাঙ্গা উপলক্ষে আশেপাশের বাসিন্দাদের সরে যেতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। 

নির্ধারিত সময়ের আগেই টুইনটাওয়ারের প্রতিবেশি প্রায় পাচ হাজার মানুষ'কে সরে আসতে হবে পার্শবর্তী খোলা জায়গায়। 

কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী টুইনটাওয়ার ভাঙ্গার কারণে বেলা তিনটা পর্যন্ত পুরোপুরি খালি রাখা হবে আশেপাশের  ৫০০ মিটার এলাকা। 

অপরদিকে বিশাল এই ভবন দুটি ভাঙ্গার সময় এই এলাকার আকাশ দিয়ে কোন বিমান চলাচল করতে পারবে না। 

কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অনুযায়ী আজ সকাল সাতটা থেকেই বন্ধ আছে টুইনটাওয়ার এলাকায় বিমান চলাচল। 

এছাড়া দুপুর থেকে রাস্তায় যানবাহন চলাচল ও বন্ধ করে দেয়া হবে।  এভাবে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত হবার পর বেলা ২ টা বেজে ২৮ মিনিটের সময় বেজে উঠবে সতর্কতা সাইরেন।  

এরপর ত্রিশ সেকেন্ড বিরতি দিয়ে তিনবার সাইরেন বাজানো শেষ হলেই চাপ দেয়া হবে রিমোট কন্ট্রোল বোতামে। 

সাথেসাথেই ভেঙ্গে পড়তে শুরু করবে আকাশচুম্বী টুইনটাওয়ার। মাত্র নয় সেকেন্ড সময়ের মধ্যে চল্লিশ তলা ভবন দুটি গুড়িয়ে যাবে মাটির সাথে। 

ভারতবাসীর জন্য এমন অভুতপূর্ব ঘটনার সাক্ষী হবার ব্যবস্থাও রেখেছে কর্তৃপক্ষ।  আলোচিত এই ভবন দুটি ভাঙ্গার দৃশ্য সম্প্রচার করা হবে লাইভ টিভি অনুষ্ঠানে। 

ভারতের ইতিহাসে নজিরবিহীন এই ঘটনায় ব্যবহার করা হচ্ছে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি। মাত্র নয় সেকেন্ডে মাটির সাথে মিশে যাবে জোড়া টাওয়ার, কিন্তু তাতে আশেপাশের স্থাপনার কোন ক্ষতি হবে না। 

এর মাত্র নয়শো মিটার দুরেই রয়েছে রাজ্যের গ্যাস পাইপলাইন।  যার বিন্দুমাত্র কোন ক্ষতি না করেই ভাঙ্গা হবে ভবন দুটি। 

দিল্লির কুতুব মিনার থেকেও উচু এই জোড়া টাওয়ার ভাঙ্গার পর ধ্বংসস্তুপ সরানোর জন্য ছয় বিঘা জমি প্রস্তুত রাখা হয়েছে। 

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে , টুইনটাওয়ার থেকে পাওয়া ধ্বংসস্তুপের পরিমান হবে প্রায় পঞ্চান্ন হাজার টন থেকেও বেশি। 

ভারতের নয়ডা এক্সপ্রেসওয়ের পাশে অবস্থিত এই টুইনটাওয়ার তৈরি করেছিলো ডেভেলপার কোম্পানি সুপারটেক। 

প্রথমে ভবন দুটির উচ্চতা ২৪ তলা রাখার কথা থাকলেও পরে উচ্চতা বাড়ানো হয় চল্লিশ তলা পর্যন্ত।  

নিয়ম অনুযায়ী  দুই ভবনের মাঝে কমপক্ষে ২০ মিটার খালি জায়গা রাখার কথা। কিন্তু সরকারি  আইন অমান্য করে মাত্র ৯ মিটার জায়গা ফাকা রাখে সুপারটেক।

এছাড়া আরো অনেক গুলো নিয়ম ভাঙ্গার প্রমান পেয়ে ২০২১ সালে ভবন দুটি ভেঙ্গে ফেলার নির্দেশ দিয়েছিলেন ভারতের সুপ্রিম কোর্ট।



জনপ্রিয়


আন্তর্জাতিক থেকে আরও পড়ুন

৪০ দিনের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ- কোন দেশে কত নিহত, বাংলাদেশির সংখ্যা কত?

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর পর পাল্টা জবাব দিয়েছে ইরান। শুধু ইসরায়েল নয়, ইরানের পক্ষ থেকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায়ও হামলা চালানো হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের সম্পূর্ণ ও সর্বাত্মক বিজয় হয়েছে: ডোনাল্ড ট্রাম্প

ইরান-এর সঙ্গে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, এই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ‘সম্পূর্ণ ও সর্বাত্মক বিজয়’ অর্জন করেছে।

যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে ‘ইরানের বিজয়’

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের উত্থাপিত ১০ দফা দাবি মেনে নিয়েছেন বলে দাবি করেছে তেহরান। এর পরিপ্রেক্ষিতে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে নিজেদের কূটনৈতিক বিজয় হিসেবে দেখছে ইরান।

যুক্তরাষ্ট্র ‘রেড লাইন’ পার হলে সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে ছড়িয়ে পড়বে: ইরান

যুক্তরাষ্ট্র যদি তেহরানের নির্ধারিত ‘রেড লাইন’ অতিক্রম করে, তাহলে চলমান সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে ছড়িয়ে পড়তে পারে- এমন কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।