আন্তর্জাতিক


কাতার বিশ্বকাপ থেকে আয় হবে ৫৭ হাজার কোটি টাকা।


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:২৮ আগস্ট ২০২২, ০১:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার

কাতার বিশ্বকাপ থেকে আয় হবে ৫৭ হাজার কোটি টাকা।

আগামী ২০ নভেম্বর থেকে শুরু হতে যাচ্ছে ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ। ফুটবলের সবচেয়ে বড় এই আসরের আয়োজক দেশ কাতার। 

জমজমাট এই আসরে বিশাল অঙ্কের আয় হবে বলে জানিয়েছে টুর্নামেন্টের সিইও নাসের আল খাতের। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ ৫৭ হাজার কোটি টাকারও বেশি। 

গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ মঞ্চায়নে কাড়ি কাড়ি অর্থ খরচ করেছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশটি। ছাড়িয়ে গেছে আগের সব আসরের রেকর্ড।

বিশ্বকাপ আয়োজনে যেখানে রাশিয়ার খরচ হয়েছিলো প্রায় ১৫ বিলিয়ন ডলার, সেখানে প্রায় দুইশ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করছে তেলসমৃদ্ধ দেশ কাতার। 

ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে জাঁকজমকপূর্ণভাবে আয়োজন হতে যাচ্ছে আসন্ন এই আসরটি। এখন চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। 

এই বিশ্বকাপে ১০ লাখের বেশি ফুটবলপ্রেমীর সমাগম ঘটতে বলে ধারণা করছে দেশটি। আসন্ন বিশ্বকাপে ৮টি ভেন্যুতে হবে ৬৪টি ম্যাচ। 

বিশ্বকাপকে ঘিরে গড়ে উঠেছে চোখ ধাঁধানো ৮টি স্টেডিয়াম। স্টেডিয়াম গুলো তৈরি হচ্ছে ঐতিহ্য আর সংস্কৃতির সাথে মিল রেখে। কোনোটি সামুদ্রিক নৌকার, কোনোটি ঝিনুক, কোনটি মরুদ্যানের নকশার আদলে। 

শুধু বাইরের চাকচিক্যই নয়। এসব স্টেডিয়ামের ভিতরেও থাকছে অভিনবত্ব। খেলোয়াড় আর দর্শকদের জন্য আরামদায়ক আবহাওয়া নিশ্চিত করবে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ প্রযুক্তি। এজন্য ব্যবহার করা হবে সৌরশক্তি। 

শুধু স্টেডিয়াম নির্মাণ বাবদই কাতার ১ হাজার কোটি ডলার করেছে। স্টেডিয়ামকে ঘিরে গড়ে উঠছে নতুন শহরও। 

জমকালো এই আয়োজনে সবচেয়ে বড় চমক লুসাইল সিটি। অবাক হলেও সত্য, শুধুমাত্র বিশ্বকাপের জন্য গড়ে উঠেছে এই শহর। 

৩৮ কিলোমিটার আয়তনের নতুন এই সিটিতে ফুটবল ফ্যান ও দর্শনার্থীদের জন্য নির্মান করা হয়েছে ২২ টি হোটেল। 

থাকছে গলফ কোর্স,  থিম পার্ক, প্রাইভেট বিচ, মরু ঝর্না, অ্যাডভেঞ্চার পার্কের মতো আধুনিক ও বিনোদনের সব সুযোগ। 

এই মহাযজ্ঞের ক্ষণগণনার জন্য বিশ্বকাপের লোগোর মধ্যে একটি অত্যাধুনিক ঘড়ির ব্যবস্থা করেছে আয়োজক দেশটি। 

ক্ষণ গণনা বা কাউন্টডাউনের চমকপ্রদ এই স্থাপনা দর্শনার্থীদের জন্য উন্মোচন করেছে বিশ্ববিখ্যাত ঘড়ি প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান হাভলট।

ঘড়িতে মাস, দিন, ঘণ্টা, মিনিট, সেকেন্ড প্রদর্শিত হচ্ছে। চমকপ্রদ এই ঘড়ি স্থাপন করা হয়েছে কাতারে রাজধানী দোহার ব্যস্ততম পর্যটনের স্থান আল কর্নিশে। 

ফুটবল বিশ্বকাপ উপলক্ষ্যে প্রতিদিন ঘুরতে আসা দর্শনার্থীদের মনে উৎসবের আমেজ যোগাচ্ছে এটি। 

কাতারে বসবাসরত অনেক উৎসুক প্রবাসী বাংলাদেশিরাও ঐতিহাসিক এই ঘড়ি দেখে মুগ্ধ হয়েছেন। 

বিশেষ ঘড়িটির ডিজাইন করার ক্ষেত্রে অনুপ্রেরণা নেওয়া হয়েছে কাতার বিশ্বকাপের প্রতীক ও লোগো থেকে। 

ঘড়ির সামনের দুপাশে সারিবদ্ধ ভাবে উত্তোলন করা হয়েছে বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই হওয়া দেশগুলোর পতাকা।

এমন আয়োজনে ফুটবল পিপাসুরা হুমড়ি খেয়ে পড়বে এটাই স্বাভাবিক। টিকেটের চাহিদাও রীতিমতো রেকর্ড গড়া। গত ৫ জুলাই থেকে ১৬ আগস্টের মধ্যে টিকেট বিক্রি হয়েছে ৫ লাখ ৩০ হাজার ৫৩২ টি। 

এ সময় টিকিট কিনতে সবচেয়ে বেশি সাড়া দিয়েছেন কাতার, যুক্তরাষ্ট্র, ইংল্যান্ড, সৌদি আরব, মেক্সিকো, আরব আমিরাত, ফ্রান্স, আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, জার্মানির নাগরিকেরা। 

শুরুতে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ রাখা হয়েছিল ২১ নভেম্বর, সোমবার। সেটিকে এখন একদিন এগিয়ে আনা হয়েছে ২০ নভেম্বরে।



জনপ্রিয়


আন্তর্জাতিক থেকে আরও পড়ুন

কোরবানি নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের উদাহরণ টানলেন হায়দরাবাদের ইসলামিক স্কলার

ভারতের হায়দরাবাদ–এর ইসলামিক স্কলার মাওলানা মোহাম্মদ জাফর পাশা কোরবানির পশু নিয়ে মুসলিমদের হেনস্তার অভিযোগ তুলে পশ্চিমবঙ্গের মুসলিমদের উদাহরণ অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছেন।

আল-আকসা প্রাঙ্গণে পশু জবাইয়ের চেষ্টায় আটক ১৩

পবিত্র আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে ইহুদি ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী পশু জবাইয়ের চেষ্টা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় জড়িত অভিযোগে ১৩ জনকে আটক করেছে ইসরায়েলি পুলিশ। শুক্রবার ইহুদিদের ধর্মীয় উৎসব শাভুত উপলক্ষে এ ঘটনা ঘটে।

এএপিআই হেরিটেজ মাসে নিউ জার্সি সিনেটের সম্মাননা পেলেন বাংলাদেশি-আমেরিকান অধ্যাপক শোয়েব ভূঁইয়া

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে এশিয়ান আমেরিকান অ্যান্ড প্যাসিফিক আইল্যান্ডার (এএপিআই) হেরিটেজ মাস উপলক্ষে বিশেষ সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন বাংলাদেশি-আমেরিকান অধ্যাপক শোয়েব আহমেদ ভূঁইয়া। নিউ জার্সি স্টেট সিনেট ও জেনারেল অ্যাসেম্বলির পক্ষ থেকে তাকে যৌথ আইনসভা প্রস্তাবনার (Joint Legislative Resolution) মাধ্যমে এ সম্মাননা দেওয়া হয়। তিনি প্রথম বাংলাদেশি-আমেরিকান হিসেবে এই মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতি অর্জন করলেন।

বিজেপিকে ছাড়িয়ে ভাইরাল “তেলাপোকা পার্টি”

ভারতে হঠাৎ করেই তুমুল আলোচনায় উঠে এসেছে একটি ব্যতিক্রমধর্মী অনলাইন আন্দোলন “ককরোচ জনতা পার্টি” বা সিজেপি। কয়েকদিন আগেও যেটিকে অনেকে নিছক মিম, ট্রল কিংবা ব্যঙ্গাত্মক ক্যাম্পেইন হিসেবে দেখছিলেন, সেটিই এখন দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে অস্বস্তির বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে ফলোয়ার সংখ্যার দিক থেকে এই নতুন আন্দোলন ইতোমধ্যেই ক্ষমতাসীন বিজেপিকেও ছাড়িয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত সিজেপির অনুসারী সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ কোটি ২২ লাখে, যেখানে বিজেপির অফিশিয়াল ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে রয়েছে প্রায় ৮৭ লাখ ফলোয়ার। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে এমন বিস্ফোরক উত্থান ভারতের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।