আগামী ২০ নভেম্বর থেকে শুরু হতে যাচ্ছে ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ। ফুটবলের সবচেয়ে বড় এই আসরের আয়োজক দেশ কাতার।
জমজমাট এই আসরে বিশাল অঙ্কের আয় হবে বলে জানিয়েছে টুর্নামেন্টের সিইও নাসের আল খাতের। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ ৫৭ হাজার কোটি টাকারও বেশি।
গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ মঞ্চায়নে কাড়ি কাড়ি অর্থ খরচ করেছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশটি। ছাড়িয়ে গেছে আগের সব আসরের রেকর্ড।
বিশ্বকাপ আয়োজনে যেখানে রাশিয়ার খরচ হয়েছিলো প্রায় ১৫ বিলিয়ন ডলার, সেখানে প্রায় দুইশ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করছে তেলসমৃদ্ধ দেশ কাতার।
ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে জাঁকজমকপূর্ণভাবে আয়োজন হতে যাচ্ছে আসন্ন এই আসরটি। এখন চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি।
এই বিশ্বকাপে ১০ লাখের বেশি ফুটবলপ্রেমীর সমাগম ঘটতে বলে ধারণা করছে দেশটি। আসন্ন বিশ্বকাপে ৮টি ভেন্যুতে হবে ৬৪টি ম্যাচ।
বিশ্বকাপকে ঘিরে গড়ে উঠেছে চোখ ধাঁধানো ৮টি স্টেডিয়াম। স্টেডিয়াম গুলো তৈরি হচ্ছে ঐতিহ্য আর সংস্কৃতির সাথে মিল রেখে। কোনোটি সামুদ্রিক নৌকার, কোনোটি ঝিনুক, কোনটি মরুদ্যানের নকশার আদলে।
শুধু বাইরের চাকচিক্যই নয়। এসব স্টেডিয়ামের ভিতরেও থাকছে অভিনবত্ব। খেলোয়াড় আর দর্শকদের জন্য আরামদায়ক আবহাওয়া নিশ্চিত করবে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ প্রযুক্তি। এজন্য ব্যবহার করা হবে সৌরশক্তি।
শুধু স্টেডিয়াম নির্মাণ বাবদই কাতার ১ হাজার কোটি ডলার করেছে। স্টেডিয়ামকে ঘিরে গড়ে উঠছে নতুন শহরও।
জমকালো এই আয়োজনে সবচেয়ে বড় চমক লুসাইল সিটি। অবাক হলেও সত্য, শুধুমাত্র বিশ্বকাপের জন্য গড়ে উঠেছে এই শহর।
৩৮ কিলোমিটার আয়তনের নতুন এই সিটিতে ফুটবল ফ্যান ও দর্শনার্থীদের জন্য নির্মান করা হয়েছে ২২ টি হোটেল।
থাকছে গলফ কোর্স, থিম পার্ক, প্রাইভেট বিচ, মরু ঝর্না, অ্যাডভেঞ্চার পার্কের মতো আধুনিক ও বিনোদনের সব সুযোগ।
এই মহাযজ্ঞের ক্ষণগণনার জন্য বিশ্বকাপের লোগোর মধ্যে একটি অত্যাধুনিক ঘড়ির ব্যবস্থা করেছে আয়োজক দেশটি।
ক্ষণ গণনা বা কাউন্টডাউনের চমকপ্রদ এই স্থাপনা দর্শনার্থীদের জন্য উন্মোচন করেছে বিশ্ববিখ্যাত ঘড়ি প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান হাভলট।
ঘড়িতে মাস, দিন, ঘণ্টা, মিনিট, সেকেন্ড প্রদর্শিত হচ্ছে। চমকপ্রদ এই ঘড়ি স্থাপন করা হয়েছে কাতারে রাজধানী দোহার ব্যস্ততম পর্যটনের স্থান আল কর্নিশে।
ফুটবল বিশ্বকাপ উপলক্ষ্যে প্রতিদিন ঘুরতে আসা দর্শনার্থীদের মনে উৎসবের আমেজ যোগাচ্ছে এটি।
কাতারে বসবাসরত অনেক উৎসুক প্রবাসী বাংলাদেশিরাও ঐতিহাসিক এই ঘড়ি দেখে মুগ্ধ হয়েছেন।
বিশেষ ঘড়িটির ডিজাইন করার ক্ষেত্রে অনুপ্রেরণা নেওয়া হয়েছে কাতার বিশ্বকাপের প্রতীক ও লোগো থেকে।
ঘড়ির সামনের দুপাশে সারিবদ্ধ ভাবে উত্তোলন করা হয়েছে বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই হওয়া দেশগুলোর পতাকা।
এমন আয়োজনে ফুটবল পিপাসুরা হুমড়ি খেয়ে পড়বে এটাই স্বাভাবিক। টিকেটের চাহিদাও রীতিমতো রেকর্ড গড়া। গত ৫ জুলাই থেকে ১৬ আগস্টের মধ্যে টিকেট বিক্রি হয়েছে ৫ লাখ ৩০ হাজার ৫৩২ টি।
এ সময় টিকিট কিনতে সবচেয়ে বেশি সাড়া দিয়েছেন কাতার, যুক্তরাষ্ট্র, ইংল্যান্ড, সৌদি আরব, মেক্সিকো, আরব আমিরাত, ফ্রান্স, আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, জার্মানির নাগরিকেরা।
শুরুতে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ রাখা হয়েছিল ২১ নভেম্বর, সোমবার। সেটিকে এখন একদিন এগিয়ে আনা হয়েছে ২০ নভেম্বরে।