বিশ্ব দরবারে নিজেদের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হওয়ার আশংকায় বাংলাদেশের ত্রাণ সহায়তার প্রস্তাব ফিরিয়ে দিলো বন্যকবলিত পাকিস্তান!
মানবিক কারনে দেশটির বেলুচিস্তানে ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার গুলোকে এক কোটি চল্লিশ লাখ টাকা মূল্যের ত্রাণ সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছিলো বাংলাদেশ।
স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যায় আক্রান্ত পাকিস্তান। জলবায়ু পরিবর্তনের কারনে রেকর্ড পরিমান বৃষ্টি ও হিমবাহ গলে যাওয়ায় প্রাকৃতিক দূর্যোগের কবলে পড়েছে তারা।
গত তিন দশকের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে সেখানে। এবছর দেশটিতে সাধারণত বৃষ্টিপাতের চেয়ে সাতশো আশি শতাংশ বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে, যা বন্যায় রূপ নিয়েছে।
প্রায় এক তৃতীয়াংশ এলাকা বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে তিন কোটি ত্রিশ লাখেরও বেশি মানুষ। যা দেশটির জনসংখ্যার প্রায় পনেরো শতাংশ।
প্রাণ হারিয়েছে প্রায় দেড় হাজার মানুষ। ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে বহু বাড়িঘর, রাস্তাঘাট এবং ফসলি জমি। অনাহারে অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছে দেশটির লাখ লাখ মানুষ।
গত মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে চলমান বন্যা পরিস্থিতিকে দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ বলে উল্লেখ করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ।
বন্যায় দেশটির অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমান চল্লিশ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি হতে পারে বলে জানিয়েছে বন্যা রেসপন্স কোঅর্ডিনেশন সেন্টার।
ইতোমধ্যে বন্যাদুর্গত পাকিস্তানের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে ষোলো কোটি ডলার সহায়তার আবেদন জানিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।
তারই ধারাবাহিকতায় গত বারোই সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ দূর্যোগ ও ত্রাণ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় পাকিস্তানের বন্যকবলিত মানুষদের জন্য এক কোটি চল্লিশ লক্ষ টাকা মূল্যের মানবিক ত্রাণ সহায়তা তহবিলের অনুমোদন দেয়।
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার গুলোকে সাহায্যের জন্য বিস্কুট, ড্রাই কেক, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট, ওরস্যালাইন, মশারি, কম্বল ও তাঁবু জরুরি ভিত্তিতে কিনে পাকিস্তানে পাঠানোর জন্য এ টাকা বরাদ্দ দিয়েছিলো দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়।
ত্রাণ সহায়তা প্যাকেজের মধ্যে আছে দশ টন বিস্কুট, দশ টন ড্রাই কেক, এক লাখ পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট, পঞ্চাশ হাজার প্যাকেট ওরাল স্যালাইন, পাঁচ হাজার মশারি, দুই হাজার হাজার কম্বল এবং ঘরহারা মানুষের জন্য দুই হাজার তাবু।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সব সময়ই মানবতার প্রতি উদার। প্রতিবেশী দেশ গুলোর যে কোন বিপদে পাশে দাড়িয়েছেন তিনি।
তারই ধারাবাহিকতায় বন্যায় ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ পাকিস্তানে ত্রাণ সহায়তা পাঠাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ্যকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
কিন্তু বিশ্ব দরবারে নিজেদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার আংশকায় বাংলাদেশের ত্রাণ সহায়তার প্রস্তাব দেশটির সেনাবাহিনী ফিরিয়ে দিয়েছে।
প্রতিবেশি দেশ গুলোকে দূর্যোগে সময় নিয়মিত ত্রাণ সহায়তা দিয়ে আসছে বাংলাদেশ। গত জুলাই মাসে ভয়াবহ ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্থ আফগানদের জন্য খাদ্য, বস্ত্র ও জরুরি ত্রাণ সামগ্রী পাঠানো হয়েছিলো।
অন্যদিকে শ্রীলঙ্কায় চলমান সংকটের প্রেক্ষাপটে দেশটিকে সহায়তার অংশ হিসেবে এই বছর বিশ কোটি টাকা মূল্যের জরুরি ওষুধ উপহার সহায়তা দিয়েছে বাংলাদেশ।
এছাড়াও দূর্যোগকালীন সময়ে নেপাল, ভুটান এবং মালদ্বীপের মত প্রতিবেশী দেশ গুলোকে নিয়মিত ত্রাণ সহায়তা দিয়ে আসছে বাংলাদেশ।
এদিকে বাংলাদরশের মত আরেক প্রতিবেশী দেশ ভারতের ত্রাণ সহায়তার প্রস্তাবে ও রাজি হয়নি পাকিস্তান।
কাশ্মীর ইস্যুতে ভারতের ত্রান না নেয়ার কথা জানান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ। তবে ভারতের সঙ্গে বানিজ্যিক সম্পর্ক রাখতে চান তিনি।