বিশ্বখ্যাত গাড়ি প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান 'ফেরারি' প্রথমবারের মতো লঞ্চ করতে চলেছে চার দরজার Super Fast স্পোর্টস কার। পূর্বের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা ধরনের হবে এটি।
গত ১৩ই সেপ্টেম্বর নিজেদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে নতুন গাড়ি নিয়ে আসার ঘোষণা দেয় কোম্পানিটি। নতুন গাড়ির নাম রাখা হয়েছে "ফেরারি পুরোসাংগুয়ে'। বাংলায় যার মানে দাঁড়ায় তেজি ঘোড়া।
৭৫ বছর ধরে স্পোর্টস কার তৈরি করে আসছে ফেরারি। তবে এবারই প্রথম বাজারে চার দরজার গাড়ি আনল তারা। ফেরারির আগের মডেলের প্রতিটি স্পোর্টস কার মূলত দুই দরজার।
ফেরারি পুরোসাংগুয়ের রয়েছে অসাধারন কর্মদক্ষতা, ড্রাইভারকে দিবে তৃপ্তিদায়ক অভিজ্ঞতা এবং আরামদায়ক অনুভূতির এক অপূর্ব সমন্বয় ।
এর আগে ফেরারির পক্ষ থেকে এমন ডিজাইনের গাড়ি কখনো বানানো হয়নি। শোনা যাচ্ছে ২০২৩ সালে ভারতের গাড়ির বাজারে অভিষেক হতে পারে এই মডেলের।
গাড়িটি লম্বায় ৪,৯৭৩ মিলিমিটার, চওড়ায় ২,০২৮ মি.মি এবং উচ্চতায় ১৫৮৯ মি.মি। ল্যাম্বোরগিনির তুলনায় সামান্য ছোট এবং নিচু এই গাড়ি।
প্রাথমিক ওজন ২,০৩৩ কেজি, যা ফেরারির অন্যান্য গাড়িগুলোর তুলনায় ভারি। মালপত্র বহনের ক্ষমতা বা বুট স্পেস হলো ৪৭৩ লিটার।
Ferrari Purosangue তে রয়েছে একটি ৬.৫ লিটার ন্যাচারালি অ্যাসপিরেটেড V টুয়েলভ ইঞ্জিন, যা ৭,৭৫০ Rpm এ ৭২৫ ব্রেক হর্স পাওয়ার এবং ৬,২৫০ Rpm এ ৭১৬ নিউটন মিটার টর্ক তৈরি করতে পারে।
সাথে রয়েছে ৮ স্পিড ডুয়াল ক্লাচ গিয়ারবক্স। এটি ৩.৩ সেকেন্ডে ০ থেকে ১০০ কিলোমিটার গতি তুলতে সক্ষম। স্পোর্টস কারটির সর্বোচ্চ গতি ঘন্টায় ৩১০ কিলোমিটার।
নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে পেছনের দরজা দুটো বৈদ্যুতিক উপায়ে নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এগুলো সর্বোচ্চ ৭৩ ডিগ্রি কোণে খোলা যায়, যা যাতায়াতের জন্য সুবিধাজনক।
গাড়ির উপরের ছাদের সম্পূর্ণটাই কালো কাঁচের তৈরী। ছাদ তৈরীতে ব্যবহার করা হয়েছে কার্বন ফাইবার। এই ফাইবারের কারণে গাড়ির উপরের অংশ তুলনামূলকভাবে হালকা অনুভূত হয়।
সামনের আসনে বসা যাত্রীদের জন্য বিশেষ বালিশের ব্যবস্থাও রয়েছে। গাড়িটির নিচের অংশবিশেষ অ্যালুমিনিয়ামের তৈরী। আসনগুলো মেঝের কাছাকাছি।
গাড়ির ভেতরটা তুলনামূলক নীচু যা ফেরারী কোম্পানীর গাড়িগুলোর বিশেষ বৈশিষ্ট্য। যানটিতে পানীয় রাখার জন্য কাঁচের তৈরী "কাপ হোল্ডার" ও রয়েছে।
গাড়িটিতে আছে "একটিভ সাসপেনশন সিস্টেম"। ফলে দ্রুত গতিতে চালানোর সময় সহজেই নিয়ন্ত্রণ করা যাবে।
ফেরারি এর আগে চার আসনের গাড়ি তৈরী করলেও সেগুলোতে দরজা সংখ্যা ছিল দুইটি। এই প্রথম চার দরজাবিশিষ্ট স্পোর্টস কার বাজারে আনলো প্রতিষ্ঠানটি।
ফেরারি পুরোসাংগুয়ে আরো যেসব সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছে তা হলো ১০ টি এয়ারব্যাগ, বাতাস বিশুদ্ধকারী সেন্সর, আইফোনের বিশেষ "কার প্লে কানেকটিভিটি" র ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে গাড়ির সাথে আই ফোনের সংযোগ ঘটানো হয়।
এতে করে গাড়ি চালানোর সময় নির্বিঘ্নে গান শোনা, ম্যাপ দেখা সহ আরও অনেক কাজ করা যায়।
এছাড়া আছে স্বয়ংক্রিয় ইমারজেন্সি ব্রেক সিস্টেম, অত্যাধুনিক সাউন্ড সিস্টেম, ট্রাফিক সংকেত চেনার ব্যবস্থা, চালকের ক্লান্তিভাব শনাক্তকরন ব্যবস্থা। সুবিধাজনক স্থানে গাড়ি রাখার জন্য পেছনে বিশেষ ক্যামেরার ব্যবস্থা তো আছেই।
ফেরারি পুরোসাংগুয়ের আনুমানিক মূল্য ধরা হয়েছে চার লক্ষ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশী মুদ্রায় প্রায় ৪ কোটি টাকা।