

বর্তমান বিশ্বের সবচাইতে সম্পদশালী শাসক থাইল্যান্ডের রাজা মাহা ভাজিরালংকর্ন। তার সম্পদের পরিমাণ আনুমানিক ৪৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার! যা পৃথিবীর বহু দেশের মোট জিডিপির চাইতেও বেশি। মাত্র ২০ বছর বয়সে সিংহাসনে আরোহন করা এই রাজার বিলাসবহুল জীবন বৃত্তান্ত শুনলে, চোখ কপালে উঠতে বাধ্য। দামী হীরা থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত হেলিকপ্টার এবং জেট প্লেনের প্রতি বিশেষ আকর্ষণ রয়েছে তাঁর। সম্প্রতি প্রকাশিত তথ্য অনুসারে, সবমিলিয়ে ৩৮টি ব্যক্তিগত হেলিকপ্টার এবং জেট প্লেন রয়েছে ভাজিরালংকর্নের সংগ্রহে। যার মধ্যে রয়েছে তিনটি এয়ারবাস, চারটি বোয়িং এবং তিনটি সুখোই সুপারজেট ওয়ান হান্ড্রেড। এগুলোর সবক'টি-ই কেবলমাত্র রাজপরিবারের সদস্যরা ব্যবহার করে থাকেন। শুধুমাত্র বিমানের জ্বালানী খরচ এবং রক্ষণাবেক্ষনের জন্যেই প্রতিবছর ৬৪ মিলিয়ন ডলার খরচ করেন রাজা। এমনকি ভাজিরালংকর্নের সংগ্রহে থাকা গাড়ির সংখ্যাও কম নয়! তার গ্যারেজে আছে একাধিক মার্সিডিজ মে-বিচ লিমোনোজ এবং মার্সিডিজ বেনজ এস-ক্লাস W221 বিশ্বের অন্যতম দামী এবং বিলাসবহুল গাড়িগুলো দিয়ে সাজানো তার সংগ্রহশালা। তবে, ভাজিরালংকর্নের যানবাহনের সংগ্রহে সবচেয়ে নজরকাড়া জিনিসটি হলো থাইল্যান্ডের রয়্যাল বোট। সুপ্রাচীন কাল থেকেই নদীপথে যাতায়াতের জন্য জাকজমকপূর্ণ এক প্রমোদতরী ব্যবহার করে আসছে থাইল্যান্ডের রাজ পরিবার। সেই ধারাবাহিকতায় এই রাজার কাছেও রয়েছে একটি ব্যক্তিগত রাজকীয় নৌযান। হাসের আদলে তৈরী সুদীর্ঘ এই নৌযানটির গায়ে স্বর্ণ ব্যবহার করে বিভিন্ন পৌরাণিক বিষয় বস্তু ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। মূল নৌযানের সংগী হিসেবে থাকা ৫২ টি নৌকার প্রতিটি-ই স্বর্ণ দিয়ে রঙ করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত এই নৌযানটির দাম সম্পর্কে কিছু জানা যায়নি। তবে, এটি দেখলে সহজেই ধারণা করা যায় এর মূল্য কম করে হলেও কয়েক'শ মিলিয়নের কম হবেনা। বিভিন্ন ধরণের যানবাহন ছাড়াও দামী হীরে জহুরতের প্রতি বেশ দূর্বলতা রয়েছে রাজা ভাজিরালংকর্নের। বিশ্বের সবচেয়ে বড় একাধিক কোণা বিশিষ্ট হীরের মালিক তিনি। যার মূল্য ৪ থেকে ১২ মিলিয়নের মধ্যে। ৫৪৬ দশমিক ছয় সাত ক্যারেটের এই বাদামী হীরেটিকে থাই রাজপ্রাসাদে কড়া পাহারায় রাখা হয়। এছাড়াও প্রায়ই বিলাসবহুল সব অনুষ্ঠান আয়োজন করে থাকেন এই রাজা। ২০০৭ সালে পোষা কুকুর ফুফুর জন্মদিন উপলক্ষ্যে এক জমকালো পার্টির আয়োজন করেছিলেন তিনি। তার প্রতিটি রাজকীয় পার্টিতে খরচ হয় কয়েক মিলিয়ন ডলার। নিজের বিয়ের অনুষ্ঠানেও কম খরচ করেননি তিনি। এখন পর্যন্ত, ৪ বার বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ থাই রাজা। তবে, তাই বলে কোনো বিয়েতেই জাকজমকের কমতি রাখেননি ভাজিরালংকর্ন। সর্বশেষ ২০১৯ সালে সুন্দরী ফ্লাইট আ্যটেন্ডেন্ট সুথিধাকে বিয়ে করেন তিনি। এই বিয়েতে খরচ হয়েছিল অন্তত কয়েক মিলিয়ন ডলার। এছাড়াও বেশ কয়েকজন উপপত্নীও রয়েছে এই রাজার। লকডাউনের শুরুতে, ব্যাভারিয়ার বিলাসবহুল হোটেল সোনেনবিচেলে রানী সুথিধা এবং ২০ জন উপপত্নী নিয়ে থাকতেন তিনি। এদেরকে নিয়ে থাকার জন্যে সম্পূর্ণ হোটেলটিই ভাড়া নিয়েছিলেন এই শাসক। এমনকি, ২০১৯ সাল থেকেই প্রকাশ্যে সিনেনাত ওংভাজিরাপাকদি নামের এক নারীর সংগে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে রয়েছেন তিনি। ৩৫ বছর বয়সী এই নারীকে রাজকীয় পদবী "রয়্যেল নোবাল কনসর্ট" এও ভূষিত করা হয়েছে। অর্থ্যাৎ, তিনি থাইল্যান্ডের রানী না হলেও তার মর্যাদা রানীর কাছাকাছি!রাজার এমন বিলাসবহুল জীবনযাত্রার কারণে এ বছরের শুরুর দিকে কর ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। যার কারণে আপাতত থাইল্যান্ডে প্রবেশ নিষিদ্ধ রয়েছে তার। বর্তমানে স্ত্রী সুথিধার সাথে জার্মানিতে বসবাসরত রয়েছেন তিনি। তবে, সেখানেও থেমে নেই তার বিলাসবহুল জীবনযাত্রা। কিছুদিন পর পরই ব্যয়বহুল জীবনযাপনের জন্য খবরের শিরোনামে উঠে আসে তার নাম।



