এবার তৃতীয় 'বন্দে ভারত এক্সপ্রেস ট্রেন' চালু করেছে ভারত। সুযোগ সুবিধার দিক দিয়ে সেমি-হাইস্পিড এই ট্রেনের তুলনা করা হচ্ছে বিমানের সাথে।
অত্যাধুনিক প্রযুক্তির বন্দে ভারত ট্রেনে রয়েছে মোট ১৬ টি কামরা। যেটির গতি হবে ঘণ্টা প্রতি ১৬০ কিলোমিটারের কাছাকাছি। ভারতের সবচেয়ে দ্রুতগতির এই ট্রেনের সর্বোচ্চ গতি তুলতে সময় লাগবে মাত্র ১৪০ সেকেন্ড।।
এরকম আরো দুটি ট্রেন আগেই চালু করা হয়েছিলো দেশটিতে। তবে সুযোগ সুবিধা এবং যাত্রীদের জন্য আরামদায়ক ব্যবস্থার দিক দিয়ে নতুন ট্রেন সবচেয়ে বেশি উন্নত।
এটিতে রাখা হয়েছে অত্যাধুনিক ‘কবচ’ প্রযুক্তি। এর মাধ্যমে দুর্ঘটনা এড়ানো যাবে বলে দাবি করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। কখনো রেললাইনে দুই ট্রেনের মুখোমুখি সংঘর্ষ কিংবা এ ধরণের অন্যান্য বিপদ এড়াতে সাহায্য করবে ‘কবচ’ প্রযুক্তি।
বন্দে ভারত ট্রেন চলাচল করবে দেশটির অন্যতম দীর্ঘ রুটে। সেজন্য যাত্রীদের আনন্দময় ভ্রমন নিশ্চিত করতে ট্রেনের প্রতি কামরায় রাখা হয়েছে বিনোদনের ব্যবস্থা।
শীতাতপ নিয়ন্ত্রন সুবিধা সংবলিত এই ট্রেনের ব্যবস্থাপনায় রাখা হয়েছে কোচ কন্ট্রোল ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম প্রযুক্তি। এছাড়া নিরাপত্তার জন্য যাত্রীদের তথ্যও সংরক্ষিত থাকবে ট্রেনের সকল কামরায়।
অত্যাধুনিক এই ট্রেনের যাত্রীরা যেকোন দিকে ইচ্ছেমতো ঘুরাতে পারবেন নিজ নিজ আসন। ট্রেনের প্রতিটি কামরার দরজা খোলা এবং বন্ধ করা যাবে হাতের স্পর্শ ছাড়াই।
অপরদিকে বিমানের মতো টয়লেট রাখা হয়েছে বন্দে ভারত ট্রেনে। কোন ধরণের শারীরিক অক্ষমতা সম্পন্ন যাত্রীদের জন্য রয়েছে আলাদা টয়লেট। এছাড়া দৃষ্টিহীন যাত্রীদের কথা ভেবে এই ট্রেনের আসন সংখ্যা লেখা হয়েছে ব্রেইল পদ্ধতিতেও।
ভারতের সবচেয়ে উন্নত এই ট্রেনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সর্বাধুনিক। এটিতে রয়েছে ফটোক্যাটালিটিক এয়ার পিউরিফায়ার সিস্টেম। যার মাধ্যমে বাতাসে ছড়ায় এমন কোন রোগ সংক্রমণ হবে না যাত্রীদের।
বাতাস জীবাণুমুক্ত রাখার জন্য ট্রেনের প্রতিটি কোচে আছে ইউভি ল্যাম্প প্রযুক্তি। এছাড়া লেভেল- টু ইন্টিগ্রেশন সার্টিফিকেশন সেফটি আছে বন্দে ভারত ট্রেনে। সব মিলিয়ে যাত্রীদের নিরাপত্তার দিক দিয়ে নতুন এই ট্রেন অত্যন্ত সুরক্ষিত।
গত শুক্রবার চালু হওয়া বন্দে ভারত ট্রেন চলাচল করবে বন্যার পানিতেও। সে জন্য এটিতে রাখা হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। এর মাধ্যমে ট্রেনের নীচে থাকা বিভিন্ন যন্ত্রপাতি সুরক্ষিত থাকবে পানি জমা হলেও।
বর্তমানে পুরো ভারতের মধ্যে সবচেয়ে দ্রুতগতির ট্রেন এটি। অত্যাধুনিক সুযোগ সুবিধা এবং দ্রুতগতির কারনে বিমানে চড়ার অনুভূতি পাবেন যাত্রীরা। এমন দাবি করেছে কর্তৃপক্ষ।
গত শুক্রবার নতুন এই ট্রেন উদ্বোধন করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শনিবার থেকে জনসাধারণের জন্য চালু হচ্ছে এটি। যা সপ্তাহে ছয়দিন চলাচল করবে গান্ধীনগর থেকে মুম্বাই শহর পর্যন্ত।
বর্তমানে ভারতের মধ্যে সবচেয়ে উন্নত ট্রেন বন্দে ভারত এক্সপ্রেস। এর আগে আরো দুইটি রুটে চালু করা হয়েছে এটি। ২০১৯ সাল থেকে সেগুলো সেবা দিয়ে যাচ্ছে দিল্লি থেকে কাশ্মীর এবং এবং দিল্লি -বারানসী রুটে।
ভারতের রেল যোগাযোগ খাতে সম্প্রতি বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে নরেন্দ্র মোদির সরকার। ইতিমধ্যে দেশটির প্রথম বুলেট ট্রেন চালু করার পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে। যেটির গতি হবে প্রতি ঘন্টায় ৩২০ কিলোমিটার।
বর্তমানে ভারতের আহমেদাবাদ থেকে মুম্বাই যেতে সময় লাগে ছয় ঘন্টার বেশি। বুলেট ট্রেন চালু হবার পর যা নেমে আসবে তিন ঘন্টায়। এমনটাই দাবি করেছে দেশটির সরকার।