ভয়াবহ তুষারঝড়ের কবলে পড়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির কোন কোন অঞ্চলে শীতের পরিমান এতোই বেশি যে, গরম পানি উপরে ছুড়ে দিলে তা বরফে পরিনত হয়ে নিচে নামছে।
তীব্র শীতের সাথে তুমুল ঝড়ের এই আবহাওয়াকে তুলনা করা হচ্ছে ডীপ ফ্রিজের সাথে। পুরো যুক্তরাষ্ট্র এখন ডীপ ফ্রিজে পরিনত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছে দেশটির সংবাদ মাধ্যম।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবর থেকে জানা গেছে, যুক্তরাস্ট্রে বয়ে যাচ্ছে তীব্র শীতকালীন ঝড়। যাকে ডাকা হচ্ছে বোম্ব সাইক্লোন নামে।
ভয়াবহ এই ঝড়ের কারণে দেশটির তাপমাত্রা মারাত্মক ভাবে কমছে। বর্তমানে যুক্তরাস্ট্রের অনেক অঞ্চলের তাপমাত্রা মাইনাস ৪৫ থেকেও নিচে নেমে গেছে।
এ কারণে যুক্তরাষ্ট্র কে ডীপ ফ্রিজ বলে আখ্যায়িত করেছে দেশটির গণমাধ্যম ডেইলি মেইল। দেশটির কিছু কিছু অঞ্চলের তাপমাত্রা মঙ্গল গ্রহ থেকেও কম বলে জানানো হয়েছে।
শীতকালীন ঝড়ের কবলে এখন পর্যন্ত বেশ কিছু মানুষ নিহত হয়েছেন। এছাড়া দেশটির যোগাযোগ ব্যবস্থাও অনেক জায়গায় ভেঙ্গে পড়েছে।
তুষারপাতের কারণে গাড়ি চলতে পারছে না। বাতিল হচ্ছে বিমান চলাচল। বড়দিনের এই সময়ে এরকম ভয়াবহ দুর্যোগে বিপাকে পড়েছেন লাখ লাখ মানুষ।
বিবিসি এবং সিএনএন এর খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাস্ট্রে এখন বোম্ব সাইক্লোন চলছে। বোম্ব সাইক্লোন দ্বারা এমন এক ঝড়কে বুঝানো হয়, যার প্রকোপ খুব অল্প সময়ের মধ্যে তীব্র থেকে তীব্রতর হয়। এ ধরণের ঝড়ের পরিমান খুব বিরল।
চলতি সপ্তাহে এই বোম্ব সাইক্লোনের কারণে আবহাওয়া সতর্কতার মুখে পড়েছেন যুক্তরাস্ট্রের প্রায় ২০ কোটি মানুষ। মেক্সিকো সীমান্ত থেকে ফ্লোরিডা পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় সতর্কতা জারী করা হয়েছে।
ঝড়ের কারণে বেড়ে যাচ্ছে তুষারপাত। ইতিমধ্যে দেশটির
ইলিনয়, ইন্ডিয়ানা, মিশিগান সহ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে ভারী তুষারপাতের পূর্বাভাস দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
যুক্তরাস্ট্রের ন্যাশনাল ওয়েদার জানিয়েছে , ঝড়ের প্রভাবে প্রশান্ত মহাসাগরীয় উত্তর-পশ্চিম অংশে বরফের বৃষ্টি হতে পারে।
এদিকে হাড় হিম করা এই শীতল আবহাওয়ার সাথে যুক্ত হয়েছে বাড়তি সমস্যা। ঝড়ের কারণে প্রায় সাড়ে ১২ লাখের বেশি বাড়ি এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে বিদ্যুত বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।
গত শুক্রবার শুধুমাত্র দেশটির নর্থ ক্যারোলিনা অঙ্গরাজ্যেই বিদ্যুতহীন ছিলেন দেড় লক্ষাধিক মানুষ।
ভয়াবহ এই ঝড়ের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের অনেক শহরে বিমান চলাচল প্রায় বন্ধ অবস্থায় রয়েছে। গত শুক্রবার একদিনেই দেশটিতে বাতিল হয়েছে সাড়ে চার হাজারের বেশি ফ্লাইট।
বিশেষ করে সিয়াটল-টাকোমা ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট, নিউ ইয়র্কের লাগর্ডিয়া এবং শিকাগোতে বাতিল ফ্লাইটের পরিমান অনেক বেশি।
তবে শুধু আকাশপথেই নয়। ঝড়ের কারণে দেশটির সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থাও বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। রাস্তায় বরফ জমার কারণে চলাচল করা যাচ্ছে না। বাসের মতো পাবলিক পরিবহনের চলাচলও বিঘ্নিত হচ্ছে।
এদিকে দেশটির নিউ ইয়র্ক, সাউথ ডাকোটা এবং মিনেসোটা এলাকার রাস্তায় ভারী তুষারপাতের কারণে অনেক গাড়ি আটকা পড়েছিলো।
যাতে গাড়ির সাথেসাথে আটকা পড়েন অসংখ্য যাত্রী এবং ড্রাইভার। তবে খবর পেয়ে এসব আটকা পড়া মানুষদের উদ্ধারের উদ্যোগ নিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
প্রসঙ্গত, শীতপ্রধান অঞ্চল হওয়ার কারণে যুক্তরাস্ট্রে তুষারপাত একটি সাধারন ঘটনা। তবে তুষারপাতের সাথে ভয়াবহ শীতকালীন ঝড়ের কারণে মারাত্মক পরিস্থিতি ধারণ করেছে।