ধারণার চেয়েও দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে সৌদি আরবের মেগা সিটি ‘নিওম’ এর নিমার্ণকাজ। এরই মধ্যে বাস্তবে রূপ নিচ্ছে উচ্চাভিলাষী এই পরিকল্পনা।
গেলো মঙ্গলবার তিন মিনিটের একটি ভিডিওতে প্রকল্পের অগ্রগতির কথা জানিয়েছে প্রোজেক্ট নিওম।
এতদিন গ্রাফিক্যাল প্রেজেন্টশনে এই প্রকল্পের ছবি দেখানো হলেও প্রথম বারের মতো প্রকল্পের বাস্তব চিত্র দেখানো হয়েছে।
৫০ হাজার কোটি ডলার ব্যয়ে বানানো হচ্ছে এই মেগা প্রকল্প। বলা হচ্ছে, আগামী বছরই খুলে দেয়া হতে পারে পর্যটনের জন্য শহরটির নির্ধারিত অংশ।
এই প্রকল্পের মাধ্যমে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিচ্ছে সৌদি আরব। প্রতিবেশী দেশ দুবাইকে পেছনে ফেলে বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু ভবন নির্মাণ করতে যাচ্ছে তারা।
১৬টি অঞ্চল নিয়ে হবে- নিওম। যার আকার হবে যুক্তরাষ্ট্রের ৩৩টি নিউইয়র্ক শহরের সমান।
প্রযুক্তির দিক থেকে শহরটি হবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সিলিকন ভ্যালির মতো। বিনোদনের দিক থেকে হলিউডের মতো,, আর অবসর কাটানোর জন্য ফ্রেঞ্চ রিভিয়েরার মতো।
এখানকার আকাশচুম্বী ভবন গুলো লোহিত সাগরের উপকূল থেকে মরুভূমি পর্যন্ত প্রসারিত হবে। আর পূর্ব দিকে থাকবে আকাবা উপসাগরের উপকূল।
ভবনগুলোতে পাওয়া যাবে আবাসিক হোটেল, অফিসসহ বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা। বিনোদনের জন্য থাকবে নজিরবিহীন সব আয়োজন।
এই মেগা শহরে থাকবে কৃত্রিম চাঁদ, উড়ন্ত ট্যাক্সির ব্যবস্থা। বাড়িঘর পরিষ্কারের কাজ করবে রোবট। পুরো শহর হবে কার্বনমুক্ত। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে এখানে।
এছাড়া, এ শহরের বুকে এগিয়ে যাচ্ছে আরেকটি শহর বানানোর কাজ। ১০০ মাইল লম্বা বিলাসবহুল সেই শহর পরিচিতি হবে দ্যা লাইন নামে।
রাতের বেলায় পুরো এলাকা জুড়ে আকাশে থাকবে বিশাল কৃত্রিম চাঁদ। আসল চাঁদের মতোই তার আলোয় আলোকিত হয়ে থাকবে পুরো এলাকা।
নিওম সিটি কাজ করবে সৌর বিদ্যুতের উৎপাদন ও ব্যবহার বাড়ানোর জন্য। একই সাথে নিওম প্রকল্পে থাকবে কৃত্রিম মেঘমালা তৈরি করার প্রযুক্তি। এসব মেঘের ফলে মরুভূমিতে আরও বেশি করে বৃষ্টি হবে।
শিক্ষার ব্যবস্থায় থাকবে হলোগ্রাফিক শিক্ষক, যেমনটা সাইন্স ফিকশনে দেখা যায়।
শুধু তাই নয়, নিওমে জুরাসিক পার্কের মতো একটি দ্বীপও থাকবে, যেখানে রোবট ডাইনোসরের দেখা পাওয়া যাবে।
বিশ্বের সেরা সেরা স্টুডিও নির্মিত হবে এখানেই। হলিউড থেকে শুরু করে বিশ্বজোড়া সেরা পরিচালকরা তাদের ফিল্মের কাজ করতে ছুটে আসবেন নিওম এ।
বিমান, স্থল ও জলপথে বিশ্বের নানা প্রান্তে যাতায়াতের জন্য ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার হবে এই লোহিত সাগরের তীরবর্তী শহর।
এরইমধ্যে, শেষ হয়েছে নিওম বিমানবন্দরের কার্যক্রম, এবং একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসাবে স্বীকৃতি পেয়েছে এটি। সম্প্রতি নিওমের আন্তর্জাতিক এয়ারপোর্টে দুবাই ও লন্ডন থেকে চালু হয়েছে সরাসরি ফ্লাইট।
পরিকল্পনায় আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে নিওম তৈরি করার সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। তবে প্রাথমিক মূল্যায়নে জানা গেছে, মিরর লাইনকে ধাপে ধাপে তৈরি করতে হবে।
সৌদি প্রশাসনের দাবি, সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে; ২০২৪ সালের মধ্যেই পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত হবে বিলাসবহুল বিনোদন নগরী- সিন্দালাহ্।
নিওমের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায় শিল্পনগরী ওক্সাগনের ছবিও। আধুনিক কর্মাশিয়াল এ হাবটি হবে পুরোই ভাসমান। যা, বিশ্বে এই প্রথম।