আন্তর্জাতিক


দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে সৌদি মেগাসিটির নির্মাণ কাজ


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:২০ জানুয়ারি ২০২৩, ০২:৪৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার

দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে সৌদি মেগাসিটির নির্মাণ কাজ

ধারণার চেয়েও দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে সৌদি আরবের মেগা সিটি ‘নিওম’ এর নিমার্ণকাজ। এরই মধ্যে বাস্তবে রূপ নিচ্ছে উচ্চাভিলাষী এই পরিকল্পনা। 

গেলো মঙ্গলবার তিন মিনিটের একটি ভিডিওতে প্রকল্পের অগ্রগতির কথা জানিয়েছে প্রোজেক্ট নিওম। 

এতদিন গ্রাফিক্যাল প্রেজেন্টশনে এই প্রকল্পের ছবি দেখানো হলেও প্রথম বারের মতো প্রকল্পের বাস্তব চিত্র দেখানো হয়েছে। 

৫০ হাজার কোটি ডলার ব্যয়ে বানানো হচ্ছে এই মেগা প্রকল্প। বলা হচ্ছে, আগামী বছরই খুলে দেয়া হতে পারে পর্যটনের জন্য শহরটির নির্ধারিত অংশ। 

এই প্রকল্পের মাধ্যমে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিচ্ছে সৌদি আরব। প্রতিবেশী দেশ দুবাইকে পেছনে ফেলে বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু ভবন নির্মাণ করতে যাচ্ছে তারা। 

১৬টি অঞ্চল নিয়ে হবে- নিওম। যার আকার হবে যুক্তরাষ্ট্রের ৩৩টি নিউইয়র্ক শহরের সমান। 

প্রযুক্তির দিক থেকে শহরটি হবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সিলিকন ভ্যালির মতো। বিনোদনের দিক থেকে হলিউডের মতো,, আর অবসর কাটানোর জন্য ফ্রেঞ্চ রিভিয়েরার মতো।

এখানকার আকাশচুম্বী ভবন গুলো লোহিত সাগরের উপকূল থেকে মরুভূমি পর্যন্ত প্রসারিত হবে। আর পূর্ব দিকে থাকবে আকাবা উপসাগরের উপকূল। 

ভবনগুলোতে পাওয়া যাবে আবাসিক হোটেল, অফিসসহ বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা। বিনোদনের জন্য থাকবে নজিরবিহীন সব আয়োজন। 

এই মেগা শহরে থাকবে কৃত্রিম চাঁদ, উড়ন্ত ট্যাক্সির ব্যবস্থা। বাড়িঘর পরিষ্কারের কাজ করবে রোবট। পুরো শহর হবে কার্বনমুক্ত। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে এখানে।

এছাড়া, এ শহরের বুকে এগিয়ে যাচ্ছে আরেকটি শহর বানানোর কাজ। ১০০ মাইল লম্বা বিলাসবহুল সেই শহর পরিচিতি হবে দ্যা লাইন নামে। 

রাতের বেলায় পুরো এলাকা জুড়ে আকাশে থাকবে বিশাল কৃত্রিম চাঁদ। আসল চাঁদের মতোই তার আলোয় আলোকিত হয়ে থাকবে পুরো এলাকা।

নিওম সিটি কাজ করবে সৌর বিদ্যুতের উৎপাদন ও ব্যবহার বাড়ানোর জন্য। একই সাথে নিওম প্রকল্পে থাকবে কৃত্রিম মেঘমালা তৈরি করার প্রযুক্তি। এসব মেঘের ফলে মরুভূমিতে আরও বেশি করে বৃষ্টি হবে। 

শিক্ষার ব্যবস্থায় থাকবে হলোগ্রাফিক শিক্ষক, যেমনটা সাইন্স ফিকশনে দেখা যায়।

শুধু তাই নয়, নিওমে জুরাসিক পার্কের মতো একটি দ্বীপও থাকবে, যেখানে রোবট ডাইনোসরের দেখা পাওয়া যাবে।

বিশ্বের সেরা সেরা স্টুডিও নির্মিত হবে এখানেই। হলিউড থেকে শুরু করে বিশ্বজোড়া সেরা পরিচালকরা তাদের ফিল্মের কাজ করতে ছুটে আসবেন নিওম এ।

বিমান, স্থল ও জলপথে বিশ্বের নানা প্রান্তে যাতায়াতের জন্য ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার হবে এই লোহিত সাগরের তীরবর্তী শহর।

এরইমধ্যে, শেষ হয়েছে নিওম বিমানবন্দরের কার্যক্রম, এবং একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসাবে  স্বীকৃতি পেয়েছে এটি। সম্প্রতি নিওমের আন্তর্জাতিক এয়ারপোর্টে দুবাই ও লন্ডন থেকে চালু হয়েছে সরাসরি ফ্লাইট। 

পরিকল্পনায় আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে নিওম তৈরি করার সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। তবে প্রাথমিক মূল্যায়নে জানা গেছে, মিরর লাইনকে ধাপে ধাপে তৈরি করতে হবে। 

সৌদি প্রশাসনের দাবি, সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে; ২০২৪ সালের মধ্যেই পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত হবে বিলাসবহুল বিনোদন নগরী- সিন্দালাহ্।

নিওমের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায় শিল্পনগরী ওক্সাগনের ছবিও। আধুনিক কর্মাশিয়াল এ হাবটি হবে পুরোই ভাসমান। যা, বিশ্বে এই প্রথম।






জনপ্রিয়


আন্তর্জাতিক থেকে আরও পড়ুন

কোরবানি নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের উদাহরণ টানলেন হায়দরাবাদের ইসলামিক স্কলার

ভারতের হায়দরাবাদ–এর ইসলামিক স্কলার মাওলানা মোহাম্মদ জাফর পাশা কোরবানির পশু নিয়ে মুসলিমদের হেনস্তার অভিযোগ তুলে পশ্চিমবঙ্গের মুসলিমদের উদাহরণ অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছেন।

আল-আকসা প্রাঙ্গণে পশু জবাইয়ের চেষ্টায় আটক ১৩

পবিত্র আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে ইহুদি ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী পশু জবাইয়ের চেষ্টা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় জড়িত অভিযোগে ১৩ জনকে আটক করেছে ইসরায়েলি পুলিশ। শুক্রবার ইহুদিদের ধর্মীয় উৎসব শাভুত উপলক্ষে এ ঘটনা ঘটে।

এএপিআই হেরিটেজ মাসে নিউ জার্সি সিনেটের সম্মাননা পেলেন বাংলাদেশি-আমেরিকান অধ্যাপক শোয়েব ভূঁইয়া

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে এশিয়ান আমেরিকান অ্যান্ড প্যাসিফিক আইল্যান্ডার (এএপিআই) হেরিটেজ মাস উপলক্ষে বিশেষ সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন বাংলাদেশি-আমেরিকান অধ্যাপক শোয়েব আহমেদ ভূঁইয়া। নিউ জার্সি স্টেট সিনেট ও জেনারেল অ্যাসেম্বলির পক্ষ থেকে তাকে যৌথ আইনসভা প্রস্তাবনার (Joint Legislative Resolution) মাধ্যমে এ সম্মাননা দেওয়া হয়। তিনি প্রথম বাংলাদেশি-আমেরিকান হিসেবে এই মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতি অর্জন করলেন।

বিজেপিকে ছাড়িয়ে ভাইরাল “তেলাপোকা পার্টি”

ভারতে হঠাৎ করেই তুমুল আলোচনায় উঠে এসেছে একটি ব্যতিক্রমধর্মী অনলাইন আন্দোলন “ককরোচ জনতা পার্টি” বা সিজেপি। কয়েকদিন আগেও যেটিকে অনেকে নিছক মিম, ট্রল কিংবা ব্যঙ্গাত্মক ক্যাম্পেইন হিসেবে দেখছিলেন, সেটিই এখন দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে অস্বস্তির বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে ফলোয়ার সংখ্যার দিক থেকে এই নতুন আন্দোলন ইতোমধ্যেই ক্ষমতাসীন বিজেপিকেও ছাড়িয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত সিজেপির অনুসারী সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ কোটি ২২ লাখে, যেখানে বিজেপির অফিশিয়াল ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে রয়েছে প্রায় ৮৭ লাখ ফলোয়ার। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে এমন বিস্ফোরক উত্থান ভারতের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।