বিশ্বের প্রত্যেকটি দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণের মজুদ রয়েছে। যাকে গোল্ড রিজার্ভ বলা হয়।
একটি দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী ও স্থিতিশীল অবস্থানে রাখার জন্য, গোল্ড রিজার্ভ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিককালে গোল্ড রিজার্ভ বৃদ্ধির প্রবণতা বেড়েছে।
রয়টার্সের এক তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের থার্ড কোয়ার্টারে বিশ্বের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো ৩৯৯ টন সোনা সংগ্রহ করেছে। যা কিনা তিন মাসের হিসেবে এযাবৎকালের সর্বোচ্চ।
তবে চীন ও রাশিয়া স্বর্ণের মজুদ বৃদ্ধিতে মরিয়া হলেও, শীর্ষ অবস্থান ধরে রেখেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। টানা কয়েক দশক ধরে, গোল্ড রিজার্ভে কোনো স্বর্ণ যোগ না করেও, তারা প্রথম অবস্থানে রয়েছে।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংকে, ৮ হাজার ১৩৩ টন স্বর্ণের মজুদ রয়েছে, যা কিনা তালিকার পরবর্তী তিন দেশের মোট পরিমানের প্রায় সমান।
দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ইউরোপীয় অর্থনীতির পাওয়ার হাউস জার্মানি। দুইটি বিশ্বযুদ্ধে পরাজয়ের পরও গোল্ড রিজার্ভে তারা শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছে।
দেশটির মোট স্বর্ণের মজুদ ৩ হাজার ৩৫৯ টন।
২০১৭ সালে দেশটি ফ্রান্স ও যুক্তরাষ্ট্রের দুটি ব্যাংক থেকে, ৬৭৪ টন স্বর্ণ দেশে ফিরিয়ে এনেছে।
তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে ইউরো zonerআরেক দেশ ইতালি। বহু বছর ধরে একই পরিমাণ স্বর্ণের মজুদ বজায় রেখেছে তারা। বর্তমানে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকে ২ হাজার ৪৫২ টন স্বর্ণের মজুদ রয়েছে।
ডলারের দর উত্থান-পতনের বিপরীতে, নিজেদের অর্থনীতিকে শক্ত অবস্থানে ধরে রাখার স্বার্থে, ইতালির কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাদের গোল্ড রিজার্ভকে অপরিবর্তিত রেখেছে।
চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে ইউরোপের আরেক প্রভাবশালী দেশ ফ্রান্স। obosso,দেশটি গত কয়েক বছরে কিছু পরিমাণ স্বর্ণ বিক্রি করেছে। এরপরও স্বর্ণ মজুদে চতুর্থ স্থান dhore rekheche taraa…বর্তমানে ইউরোপীয় দেশটির স্বর্ণ মজুদের পরিমাণ মোট ২ হাজার ৪৩৬ টন।
পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে ইউরোপ আমেরিকার প্রতিদ্বন্দ্বী রাশিয়া। বিগত কয়েক বছরে, যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর, স্বর্ণের মজুদ ব্যাপক হারে বৃদ্ধি করছে রাশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
গত সাত বছর ধরে, বিশ্বের সবচেয়ে বড় স্বর্ণের ক্রেতা রাশিয়ান সেন্ট্রাল ব্যাংক। ২০১৭ সালে ২২৪ টন স্বর্ণ কেনার কারণে, চীনকে টপকে পঞ্চম স্থানে আসতে পেরেছে তারা।
বর্তমানে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকে
মোট ২ হাজার ২৯৯ টন স্বর্ণের মজুদ রয়েছে।
রাশিয়ার পরের অবস্থানেই রয়েছে তাদের মিত্র দেশ চীন। তবে চীনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক গোল্ড রিজার্ভ নিয়ে যথেষ্ট ধোঁয়াশা তৈরি করে রেখেছে।
২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর থেকে গত বছরের নভেম্বর পর্যন্ত, দেশটির গোল্ড রিজার্ভ ছিল ১ হাজার ৯৪৮ টন।
ডিসেম্বরে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায় তাদের রিজার্ভে আরো ৩২ টন সোনা যোগ হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞদের ধারণা, চীনের কাছে এর দ্বিগুণের বেশি সোনা থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
সপ্তম অবস্থানে রয়েছে সোনা রিফাইনারির জন্য বিখ্যাত দেশ সুইজারল্যান্ড। তবে মোট সোনা মজুদের দিকে পিছিয়ে থাকলেও, মাথাপিছু গোল্ড রিজার্ভের দিকে দেশটি এক নম্বরে রয়েছে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ইউরোপের স্বর্ণ বেচাকেনার প্রধান কেন্দ্র ছিল সুইজারল্যান্ড। একই সঙ্গে মিত্রশক্তি ও অক্ষশক্তি, উভয়ের লেনদেন ছিল তাদের সঙ্গে।
বর্তমানে দেশটিতে মোট ১ হাজার ৪০ টন সোনা মজুদ রয়েছে।
অষ্টম অবস্থানে রয়েছে এশিয়ার দেশ জাপান।
বিশ্বে তৃতীয় বৃহৎ অর্থনীতির দেশ হওয়া সত্ত্বেও, গোল্ড রিজার্ভে বেশ পিছিয়ে আছে তারা।
বর্তমানে জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকে ৮৪৬ টন সোনার মজুদ রয়েছে।
নবম অবস্থানে রয়েছে আমাদের প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারত। ভারতীয়দের স্বর্ণের প্রীতি সম্পর্কে সবারই জানা।
পৃথিবীতে স্বর্ণের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোক্তাও দক্ষিণ এশিয়ার দেশটি। বর্তমানে ৭৫৪ টন স্বর্ণের মজুদ আছে ভারতে..
পরের অবস্থানে রয়েছে, এক সময়ের প্রভাবশালী ঔপনিবেশিক রাষ্ট্র নেদারল্যান্ডস। দেশটিতে বর্তমানে ৬১২ টন স্বর্ণের মজুদ রয়েছে।
সম্প্রতি নেদারল্যান্ডসের কেন্দ্রীয় ব্যাংক যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ ফেরত এনেছে।