এবার রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধে বড় ধাক্কা খেলো ইউক্রেন। রাশিয়াকে টক্কর দিতে পশ্চিম বিশ্বের কাছে অনেকদিন যাবত নানা সহায়তা চেয়ে আসছে দেশটি।
এরই ধারাবাহিকতায় অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমানও চেয়েছিল কিয়েভ। কিন্তু সেই সম্ভাবনা সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
গত সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এক প্রশ্নের জবাবে ইউক্রেনকে যুদ্ধ বিমান না দেয়ার কথা জানান।
গনমাধ্যমের তথ্য থেকে জানা যায়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইউক্রেনের প্রতিবেশি দেশ পোল্যান্ড সফরের পরিকল্পনা করছেন। যদিও প্রেসিডেন্ট কখন পোল্যান্ড সফরে যাবেন, তা নিশ্চিতরুপে জানা যায়নি।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ চলছে বিগত এক বছর যাবত। লম্বা সময় ধরে যুদ্ধ চলার কারনে ইউক্রেনে সামরিক শক্তির ঘাটতি হয়েছে।
তাই পশ্চিমা দেশগুলোর কাছে যুদ্ধ ট্যাঙ্কের পর ইউক্রেন আশা করছিল এবার তারা যুদ্ধবিমান সাহায্য পাবে। কিন্তু সে আশায় গুঁড়ে বালি।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কি এবং তাঁর সামরিক কর্মকর্তাদের বক্তব্য হচ্ছে, মিলিটারি সাহায্য পাঠানোর ক্ষেত্রে কোনো ধরনের সীমারেখা থাকা উচিৎ নয়।
কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্র দেশগুলো রাশিয়াকে আরো উস্কে দিতে ভয় পাচ্ছে।
ইউক্রেনের স্থানীয় এক অনলাইন পোর্টাল থেকে জানা গেছে, দেশের আকাশ সীমানা রক্ষায় ইউক্রেনের প্রয়োজন অন্তত ২০০টি মাল্টি-রোল ফাইটার জেট।
আমেরিকান এয়ার ফোর্সের ব্যবহার করা শক্তিশালী এফ-সিক্সটিন এ ক্ষেত্রে অধিক উপযোগী।
আমেরিকার এফ-সিক্সটিন ফাইটিং ফেলকন বিশ্বব্যাপী বেশ জনপ্রিয় এবং প্রসিদ্ধ। এটিকে পৃথিবীর সব থেকে নির্ভরযোগ্য ফাইটার জেট হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
আমেরিকা ছাড়াও বেলজিয়াম এবং পাকিস্তানের বিমান বাহিনীতে এই ফাইটার জেট টি রয়েছে।
এফ-16 এর অবিশ্বাস্য টার্গেটিং সক্ষমতা ইউক্রেনকে যে কোনো আবহাওয়ায় রাশিয়ার সাথে যুদ্ধে এগিয়ে রাখবে।
এদিকে ইংল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ঝষি সুনাকের মুখপাত্রের দাবি, তারা ইউক্রেনের পক্ষ থেকে জেট বিমান পাঠানোর আনুষ্ঠানিক অনুরোধপত্র সম্পর্কে অবগত নন।
ইংল্যান্ডের জেট বিমানগুলোর মধ্যে "টাইফুন" ও "এফ-35" ফাইটার জেট উল্লেখযোগ্য। যা চালানোর জন্য অন্তত মাসখানেকের ট্রেনিং আবশ্যক।
যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষণার একদিন আগেই জার্মানি যুদ্ধবিমান দেয়ার ব্যাপারে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। একে জেলেনস্কির 'বাড়াবাড়ি' বলে অভিহিত করেছেন জার্মানির চ্যান্সেলর।
এর আগে যুদ্ধ ট্যাঙ্ক পাঠানোর সিদ্ধান্তে জার্মানি সরকারের বিরুদ্ধে সাধারন জনগন ফুঁসে উঠেছে বলে জানা গেছে। আগেও জার্মানের তৈরীকৃত সাবমেরিন ইউ-বোট চেয়েছিল ইউক্রেন।
তবে অনেকদিন আলোচনা চলার পর অবশেষে যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, যুক্তরাজ্য ভারি সামরিক সাহায্য পাঠাতে মনস্থির করেছে ইউক্রেনে।
আমেরিকা তাদের ৩১ টি আব্রামস ট্যাঙ্ক পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যুক্তরাজ্য এবং জার্মান যথাক্রমে 'চ্যালেঞ্জার টু" আর "লিওপার্ড" নামক যুদ্ধ ট্যাঙ্ক পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
নেদারল্যান্ডসহ ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত অন্যান্য দেশগুলো যুদ্ধবিমান পাঠানোর ক্ষেত্রে কী সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা জানা যায়নি।
এদিকে রাশিয়া ন্যাটোর বিরুদ্ধে "প্রক্সি যুদ্ধ" চালানোর অভিযোগ করেছে।
এছাড়া ইউক্রেনকে ভারি যুদ্ধ ট্যাঙ্ক সাহায্য পাঠানোর কারনে যুক্তরাস্ট্র ও জার্মানির প্রতি গভীর অসন্তোষ প্রকাশ করেছে মস্কো।
যুক্তরাষ্ট্রের এমন কর্মকান্ডকে "ন্যাক্কারজনক উস্কানি" বলেছে রাশিয়া। জার্মানিকেও ছেড়ে কথা বলেনি তারা। ইউক্রেনকে সহায়তা করার কারনে রাশিয়া-জার্মানির সম্পর্কে দাগ লেগে গেছে বলে মন্তব্য করেছে দেশটি।