যুদ্ধের ময়দান ছেড়ে রাজনীতি এবার খেলার ময়দানে! আসন্ন প্যারিস অলেম্পিক বয়কটের ডাক দিলো ৪০ টি দেশ! প্রশ্ন হচ্ছে হঠাত কেনো এই কঠিন সিদ্ধান্ত?
আগামী বছরেই ফ্যান্সের প্যারিসে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে অলিম্পিক গেইমের পরবর্তী আসর। আর এই আসরে যদি রাশিয়া ও বেলারুশ অংশগ্রহণ করে তবে কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ ৪০'টি দেশ প্যারিস অলিম্পিকে অংশগ্রহণ করবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন পোল্যান্ডের ক্রীড়া ও পর্যটন মন্ত্রী কামিল বোর্নিজুক।
মূলত ইউক্রেনের সাথে যুদ্ধে জড়ানোর কারনেই বিভিন্ন আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকে ছিটকে পড়েছে রাশিয়া! আর বেলারুশ বাদ পড়ছে রাশিয়াকে সমর্থনের দায়ে!
ফলে ইউরোপের কয়েকটি দেশ ইতোমধ্যেই বেলারুশকে বয়কট করেছে। তবে এ ধরনের সিদ্ধান্ত মানতে নারাজ আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি (আইওসি)।
এই কমিটি ২০২৪ সালের অলিম্পিকে রাশিয়া ও বেলারুশের খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণের সুযোগ দিতে চায়। আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির দাবী অনুযায়ী এ ধরনের বয়কট যেকোন ক্রীড়াবিদদের জন্য ক্ষতিকর।
যদিও আইওসি এ ব্যাপারে পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে যে, রাশিয়া ও বেলারুশের প্রতিযোগীরা অলিম্পিকে অংশগ্রহণ করতে পারবে, তবে তারা নিজ দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পারবে না। তারা কেবল নিরপেক্ষ প্রতিনিধি হিসেবেই অলিম্পিকে অংশগ্রহণ করতে পারবেন।
আর এই শর্তে, যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারিন জিন-পিয়েরে আইওসির সঙ্গে সহমত প্রকাশ করেছেন। যদি রাশিয়া ও বেলারুশের প্রতিযোগীরা তাদের দেশের প্রতিনিধিত্ব না করে অলিম্পিকে অংশগ্রহণ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে আমেরিকার পক্ষ থেকেও কোন দ্বিমত থাকবে না।
তবে লিথুনিয়া, এস্তোনিয়া ,লাটভিয়া ও পোল্যান্ড আইওসির এই পরিকল্পনা যৌথভাবে প্রত্যাখ্যান করে দিয়েছে।
এদিকে ইন্টারন্যাশনাল অলিম্পিক কমিটির এমন সিদ্ধান্তে বেজায় চটেছেন ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রী ভলোদিমির জেলেনস্কি। রাশিয়া ও বেলারুশের ক্রীড়াবিদদের প্যারিস অলিম্পিকে নিষিদ্ধ করার দাবিতে তিনি আইওসির কাছে ভিডিও বার্তার মাধ্যমে আবেদন জানিয়েছেন।
জেলেনস্কির মতে, যদি রাশিয়ার ক্রীড়াবিদরা প্যারিস অলিম্পিকে অংশগ্রহণ করেন তাহলে তো সারাবিশ্বের কাছে এটাই প্রকাশ পাবে যে সন্ত্রাসবাদ গ্রহণযোগ্য।
রাশিয়ার মতো একটি সন্ত্রাসী রাষ্ট্র অলিম্পিকের মাধ্যমেই বিশ্ববাসীর কাছে তাদের প্রোপাগান্ডা ছড়াতে পারবে। আর এই ক্ষেত্রে আইওসি কিভাবে চুপ থাকতে পারে? তাই সঠিক সিদ্ধান্তের জন্য ফ্রান্সের রাষ্ট্রপতিকে হস্তক্ষেপ করার দাবী জানান জেলেনস্কি।
ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি পোল্যান্ডের ক্রীড়া মন্ত্রী কামিল বোর্নিজুকও প্যারিস অলিম্পিক বয়কট করার হুমকি দিয়েছেন।
তাঁর মতে ইন্টারন্যাশনাল অলিম্পিক কমিটি যদি রাশিয়া ও বেলারুশের ব্যাপারে তাদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন না করে তবে ইউক্রেন, পোল্যান্ডসহ বাকি দেশ গুলো প্যারিস অলিম্পিক বয়কট করার জন্য জোট গঠন করবে।
আর তাদের এই পদক্ষেপ বিশ্ববাসীর কাছে অলিম্পিকের কদর শূন্যে নামিয়ে আনতেই যথেষ্ট। তবে এই মুহূর্তেই তারা এমন কঠিন সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন না। ভবিষ্যতে আইওসি যদি তাদের পরিকল্পনা বাতিল না করেন কেবল তখনই এমন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
এর আগেও " ইউরোভিশন songকনটেস্ট " নামক একটি গানের প্রতিযোগিতা থেকে বাদ পড়েছিল রাশিয়া। যেই রাশিয়ার কারণে ইউক্রেন আজও সংকটের মুখে পড়ে আছে। সেই রাশিয়ার কোন প্রতিযোগীকে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের সুযোগ দিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি করতে চায়নি ইউরোপিয়ান ব্রডকাস্টিং ইউনিয়ন।
মূলত আন্তর্জাতিক মহলে আয়োজিত অনুষ্ঠানগুলো বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে মেলবন্ধন ঘটায়। তবে রাশিয়ার এই যুদ্ধের কারণেই জাতিগোষ্ঠীর মেলবন্ধনে বিচ্ছেদ ঘটছে বলে ধারণা করা হয়।
এসব কারণেই আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের অনেকেই মনে করেন রাশিয়ার কাউকে এসব আয়োজনে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া মানেই বাকি প্রতিযোগীদের অসম্মান করা।