চীন-রাশিয়ার যুদ্ধ বিমানকে টেক্কা দিতে এবার আমেরিকার নতুন চমক! চমকের নাম বি-21 রেইডার! ইউক্রেন যুদ্ধের অস্থিরতার মধ্যেই এই সর্বাধুনিক বোমারু বিমান উম্নোচন করলো দেশটি!
গত ৩০ বছর ধরে যতগুলো বোমারু বিমান বানিয়েছে আমেরিকা, এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে দ্রুতগতি সম্পন্ন বিমান এটি।
অন্যসব যুদ্ধবিমানের চেয়ে বি-21 রেইডার অনেক বেশি শক্তিশালী ..কারণ এর সবগুলো কারিগরি দিক এমনভাবেই আপগ্রেড করা হয়েছে যার সামনে মাথা নত করবে যেকোনো যুদ্ধবিমান!
অত্যাধুনিক সব ফিচারের মিশেলে তৈরি প্রত্যেকটি বিমানের দামও বেশ চড়া। এর একটি যুদ্ধবিমান সামরিক বহরে যোগ করতে চাইলে গুনতে হবে ৭০ কোটি মার্কিন ডলার।
২০১০ সালে এই বোমারু বিমান তৈরির জন্য বরাদ্দ করা হয়েছিল ২ হাজার ৫১০ কোটি টাকা।পরমাণু অস্ত্র বহনে সক্ষম এই বিমান যেকোনো অত্যাধুনিক রাডারের চোখে ধুলো দিতে সক্ষম!
সব থেকে আধুনিক আকাশ সুরক্ষা ব্যবস্থাও আকাশে বি-21 রেইডারকে চিহ্নিত করতে হিমশিম খেয়ে যাবে। জানা যায়, আকাশ থেকে গুপ্তচরের মতো নজরদারি চালাতে পারবে এটি।
রাডার জ্যাম করার ও প্রতিপক্ষের যোগাযোগে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির সক্ষমতাও রয়েছে এই বিমানের। যে কোনও ক্ষেত্রে পালটা আঘাত হানার জন্য এটি অত্যন্ত উপযোগী।
এ বিমানের প্রধান মিশন হবে দূরপাল্লার আক্রমণ। আরোহী নিয়ে বা আরোহী ছাড়াই উড়তে পারে এটি।
মার্কিন পরিষেবাতে বিদ্যমান রকওয়েল বি-1 ল্যান্সার, নরথ্রপ গ্রামেন বি-2 স্পিরিট, বোয়িং বি-52 স্ট্রাটোফোর্ট্রেস বোমারু বিমানের পরিপূরক এই বি-21 রেইডার।
নির্মাতা কোম্পানি নরথ্রপ গ্রুমানের দাবি, সর্বকালের সর্বাধুনিক সামরিক বিমান এটি। বি-21 রেইডারের পূর্বসূরী স্টিলথ বোমারু বিমান 'বি-2 স্পিরিট' এর নকশাও করেছিল নরথ্রপ গ্রুমান।
সামরিক ও বেসামরিক মিলিয়ে বিশ্বের সবচেয়ে দামী বিমান বি-2 স্পিরিট। অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ভারী এই বোমারু বিমানটি স্টেল্থ বোম্বার নামেও পরিচিত।
সারাবিশ্বে এই মডেলের মাত্র ২০টি বিমান সার্ভিসে রয়েছে। আর এর সবকটিই যুক্তরাষ্ট্রের বিমান বাহিনী পরিচালনা করছে।
বি-2 স্পিরিট একটি লংরেঞ্জ স্ট্র্যাটেজিক বোম্বার। দূর আকাশ থেকে নিজের অবস্থান গোপন রেখে মাটিতে নির্দিষ্ট লক্ষমাত্রায় বোমা ছুড়তে পারে এটি।
এর অদ্ভুত জ্যামিতিক ডিজাইন আর স্টেলথ সুবিধার কারণে এটি রাডার দ্বারা সহজে শনাক্তও করা যায় না। ৫০ হাজার ফুট বা ১৫ কি.মি. উচ্চতা দিয়ে উড়তে সক্ষম এই বিমান যেকোনো রাডারের পক্ষে শনাক্ত করা প্রায় অসম্ভব একটা ব্যাপার।
ঘন্টায় সর্বোচ্চ ১০১০ কিলোমিটার গতিতে ১১ হাজার কিলোমিটার দূরে গিয়ে শত্রুদেশের বুকে ঢুকে নিখুতভাবে বোমা হামলা চালাতে সক্ষম এটি!
এর দানব আকৃতির ফুয়েল ট্যাংক ৭৫,৭৫০ লিটার জ্বালানি ধারণ করতে পারে। মাঝ আকাশে ট্যাংকার বিমান থেকে একাধিকবার ফুয়েল নিয়ে সারা পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তে হামলা চালিয়ে আবার যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে আসতে পারবে এটি।
এটি প্রচলিত ও নিউক্লীয় উভয় প্রকার বোমা বহন ও বর্ষণ করতে পারে। ১৮-২৩ টনের বিভিন্ন ধরনের বোমা বহন করতে সক্ষম এটি।
বি-2 স্পিরিটের দুটি ইন্টারনাল ওয়েপন বে রয়েছে। স্টেলথ সক্ষমতা রাখতে বিমানটি ডানার বদলে পেটের ভেতর তার অস্ত্রশস্ত্র লুকিয়ে রাখে।
এক একটি বি-2 স্পিরিট উড়াতে ঘন্টাপ্রতি গড় খরচ হয় ১.৩৫ লাখ ডলার। শুধুমাত্র রক্ষণাবেক্ষণ করতেই প্রতিটি বিমানের ক্ষেত্রে বছরে ৩.৪ মিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হয়।
সব মিলিয়ে প্রতিটি বি-2 এর পিছনে মার্কিন সরকার অন্তত ২.২ বিলিয়ন ডলার খরচ করেছে। যে কারণে বি-2 কে বলা হয় বিশ্বের সবচেয়ে দামী বিমান।
এছাড়াও বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আছে, বি-1 ল্যান্সার, বি-52 বোমারু বিমান। এগুলোর চেয়ে অত্যাধুনিক এবং রাডার ফাঁকি দিয়ে শত্রুপক্ষের অবস্থানে দ্রুত হামলা করতে সক্ষম যুক্তরাষ্ট্রের নতুন বোমারু বিমান বি21।