আন্তর্জাতিক


আবারো রহস্যজনক বস্তু, এফ-৩৫ পাঠিয়ে ধ্বংস করলো যুক্তরাষ্ট্র


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ০৫:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার

আবারো রহস্যজনক বস্তু, এফ-৩৫ পাঠিয়ে ধ্বংস করলো যুক্তরাষ্ট্র

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বলয় ফাঁকি দিয়ে, আবারও রহস্যময় একটি বস্তু ঢুকে পড়েছে যুক্তরাষ্টের আকাশ সীমায়। 

এর জেরে রীতিমতো এফ-16 যুদ্ধবিমান দিয়ে ভূপাতিত করা হয়েছে ওই বস্তুটি। চীনা গোয়েন্দা বেলুন শনাক্ত ও তা ধ্বংস করা নিয়ে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই ঘটলো এমন অপ্রত্যাশিত ঘটনা। 

কিছুদিন আগেই চীন থেকে পাঠানো একটি বেলুন যুক্তরাষ্ট্রের আকাশসীমায় প্রবেশ করে। আমেরিকার দাবী অনুযায়ী বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় নাকি নজরদারি করছিল এটি। 

চীনের ওই গোয়েন্দা বেলুনটি আকাশে থাকা অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের নজরে আসে। এরপর যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে ধ্বংস করা বেলুনটিকে।

যুক্তরাষ্ট্রে উত্তেজনা সৃষ্টি করা রহস্যময় এই বেলুন কাণ্ডে ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে চলমান উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়। 

এ ঘটনার জেরে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের পূর্ব নির্ধারিত চীন সফরও বাতিল করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন।
 
এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই আবার এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। পৃথিবীর সবচেয়ে সুরক্ষিত আকাশ সীমা যুক্তরাষ্ট্রের, তবুও কীভাবে এমন ঘটনা ঘটছে তা নিয়ে ইতিমধ্যে প্রশ্ন উঠছে মার্কিন নাগরিকদের মনে।

এবারের বস্তুটি বেলুনের অবয়বের না হলেও এটিকে ‘রহস্যজনক বস্তু' বলে সংবাদমাধ্যমে খবর এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে আলাস্কার আকাশে ওই বস্তুকে উড়তে দেখা যায়। আকাশে অনেক ওপর দিয়ে উড়ছিল রহস্যময় এই বস্তু। এরপরেই  যুদ্ধবিমান পাঠিয়ে সেটা ধ্বংস করে মার্কিন সামরিক বাহিনী।

হোয়াইট হাউস থেকে বিবৃতিতে বলা হয়, আলাস্কার আকাশে শনাক্ত করা উড়ন্ত বস্তুটি আসলে কী ছিল, সেটা এখনো জানা যায়নি। সেটার উদ্দেশ্য কি কিংবা কোথা থেকে এসেছে - এসব প্রশ্নের উত্তরও এখন পর্যন্ত অজানা।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের আকাশে শনাক্ত হওয়া নতুন বস্তুটি চীনা গোয়েন্দা বেলুনটির তুলনায় আকারে বেশ ছোট ছিল। এটি আকার একটি ছোট প্রাইভেট কারের সমান ছিল। 

প্রায় ৪০ হাজার ফুট ওপর দিয়ে উড়ছিল এটি। তাই উড়োজাহাজ চলাচলে ঝুঁকি বিবেচনায় সেটিকে ভূপাতিত করা হয়েছে।

নতুন এই রহস্যময় বস্তু দৃষ্টিগোচর হওয়ার পর সামরিক বাহিনীকে এটিকে ধ্বংসের নির্দেশ দেন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। বাইডেনের নির্দেশ পাওয়ার পর আলাস্কার আকাশে এফ-22 র‌্যাপ্টর যুদ্ধবিমান ওড়ানো হয়। পরে সেটি এআইএম-9 এক্স ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে ধ্বংস করা হয়।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের ‘অত্যন্ত সংবেদনশীল’ সামরিক ও পারমাণবিক স্থাপনার ওপর দিয়ে উড়ছিল চীনা বেলুন। এটি প্রায় ২০০ ফুট  লম্বা ছিল বলে বিবৃতি দেয় হোয়াইট হাউস। 

বেলুনটির ধ্বংসাবশেষ আটলান্টিক মহাসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের জলসীমায় পড়ে। ভূপাতিত করার পর সেই বেলুনের ধ্বংসাবশেষ দাবি করে বসে চীন। 
পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়ে দেয়, ওই ধ্বংসাবশেষ তারা চীনকে ফেরত দেবে না । যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, ধ্বংস করা চীনা বেলুনটি গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করতে সক্ষম যেটি একটি নৌবহরের অংশ। 

যুক্তরাষ্টের আকাশসীমায় প্রবেশের আগে বেলুনটি পাঁচটি মহাদেশজুড়ে ৪০টির বেশি দেশের ওপর দিয়ে উড়েছে।

এ ঘটনার পর তলানিতে পৌঁছেছে বেইজিং - ওয়াশিংটনের সম্পর্ক। তবে চীন ইচ্ছাকৃতভাবে আমেরিকার আকাশে বেলুন পাঠানোর অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছে এবং অনাকাঙ্ক্ষিত এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশও করেছে বেইজিং।

চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, মূলত আবহাওয়া পর্যবেক্ষণের জন্য বেলুনটি আকাশে উড়িয়েছিলেন তারা। কিন্তু নির্দিষ্ট পথে না গিয়ে বাতাসের প্রভাবে সেটি যুক্তরাষ্ট্রে চলে গেছে। 

দেশটির আকাশসীমায় অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে বেলুনটি উড়ে যাওয়ার এ ঘটনার জন্য বেইজিং অনুতপ্ত বলেও অফিশিয়ালি বিবৃতি দেওয়া হয়।

তবে ধ্বংস প্রাপ্ত বেলুন পরীক্ষা নিরীক্ষার আগ পর্যন্ত চীনের মোটিভ সম্পর্কে সঠিক ধারণা লাভ করা সম্ভব নয়, এখন দেখার বিষয় হচ্ছে- এই বেলুন কান্ড আর কতদূর গড়ায়? 








জনপ্রিয়


আন্তর্জাতিক থেকে আরও পড়ুন

৪০ দিনের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ- কোন দেশে কত নিহত, বাংলাদেশির সংখ্যা কত?

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর পর পাল্টা জবাব দিয়েছে ইরান। শুধু ইসরায়েল নয়, ইরানের পক্ষ থেকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায়ও হামলা চালানো হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের সম্পূর্ণ ও সর্বাত্মক বিজয় হয়েছে: ডোনাল্ড ট্রাম্প

ইরান-এর সঙ্গে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, এই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ‘সম্পূর্ণ ও সর্বাত্মক বিজয়’ অর্জন করেছে।

যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে ‘ইরানের বিজয়’

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের উত্থাপিত ১০ দফা দাবি মেনে নিয়েছেন বলে দাবি করেছে তেহরান। এর পরিপ্রেক্ষিতে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে নিজেদের কূটনৈতিক বিজয় হিসেবে দেখছে ইরান।

যুক্তরাষ্ট্র ‘রেড লাইন’ পার হলে সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে ছড়িয়ে পড়বে: ইরান

যুক্তরাষ্ট্র যদি তেহরানের নির্ধারিত ‘রেড লাইন’ অতিক্রম করে, তাহলে চলমান সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে ছড়িয়ে পড়তে পারে- এমন কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।