তুরস্কের ধ্বংসস্তুপ থেকে, একই পরিবারের চারজনকে উদ্ধার করেছে বাংলাদেশের উদ্ধারকারী দল।
মঙ্গলবার রাতে আট ঘণ্টার অভিযানে, দুই সন্তানসহ এক দম্পতির মরদেহ উদ্ধার করেন তারা।
তুরস্কে নিজেদের উদ্ধার অভিযানের প্রথম দিনেই, আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছিলো বাংলাদেশের উদ্ধারকারী দল। বিপর্যস্ত অঞ্চলে আলোর মুখ দেখাতে শুরু করেছিলো লাল-সবুজের পতাকা।
৫ম দিনে এসেও নিজেদের কৃতিত্বের সাক্ষর রেখেছে বাংলাদেশের উদ্ধারকারীরা। একই পরিবারের ৪ জনকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে দলটি।
তুরস্কের আদিয়ামান শহরের হেরিয়াত মাহেল্লিসি এলাকায় একটি ধ্বসে পড়া ভবন থেকে, ওই চারজনকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয় বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল।
তবে তাদের কাউকেই জীবিত অবস্থায় পাওয়া যায়নি।
উদ্ধারকাজের ৫ম দিন পর্যন্ত, ২০ জনকে ধ্বংসস্তুপ থেকে বের করে আনতে সক্ষম হয়েছে, সেনা ও ফায়ার সার্ভিসের সমন্বয়ে গড়া ওঠা, বাংলাদেশের উদ্ধারকারী দলটি।
এদের মাঝে একজন জীবিত ছিল, যাকে প্রথম দিনেই উদ্ধার করে, আলোচনার জন্ম দিয়েছিলো বাংলাদেশ। এছাড়া বাকি ১৯ জনকেই মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।
ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ৮ ঘন্টার চেষ্টায় দুই সন্তান এবং বাবা মায়ের মৃতদেহ, বের করে আনতে সক্ষম হয় বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল।
এরপর মধ্যরাতেই লাশগুলো স্বজনকদের কাছে বুঝিয়ে দেয়া হয়। সারাদিনের কাজের পর, রাত সাড়ে এগারটা নাগাদ সেদিনের মতো উদ্ধারকাজের সমাপ্তি ঘোষণা করেন সমন্বয়কারী দল।
দূর্ঘটনার এতদিন পর জীবিত কাউকে উদ্ধারের আশা অনেকটাই কমে এসেছে। এখন কেবল স্বজনদের মৃতদেহ পাবার আশায়, ধ্বংসস্তুপের পাশে অপেক্ষা করছেন বেঁচে ফেরা মানুষেরা।
বাস্তবতা মেনে নিয়েই তুরস্ক এবং সিরিয়া, দুই দেশ থেকে বিস্তীর্ণ আকারে উদ্ধারকাজ গুটিয়ে নিচ্ছে আন্তর্জাতিক মহল।
তবে এখনই নিজেদের কাজ থামাচ্ছে না, বাংলাদেশ থেকে যাওয়া প্রতিনিধি দল। সারাদিনের ক্লান্তির পর উদ্ধারকাজে সন্তুষ্টি নিয়েই তাঁবুতে ফিরছেন তারা।
গত ৬ ফেব্রুয়ারি তুরস্কের গাজিয়ানতেপে ঘটে যাওয়া ভূমিকম্পের প্রভাবে, ক্ষতিগ্রস্থ দুই দেশ, তুরস্ক এবং সিরিয়ায় দুর্গত মানুষের সেবা প্রদানের উদ্দেশ্যে, বর্তমানে সেখানে অবস্থান করছে, বাংলাদেশের আলাদা দুটি প্রতিনিধি দল।
বাংলাদেশ থেকে যাওয়া দল দুটি নিজেদের সাথে বড় ও ছোট তাবু, পর্যাপ্ত সংখ্যক কম্বল, বিপুল পরিমাণ শুকনো খাবার এবং ঔষধসহ, অন্যান্য জীবনরক্ষাকারী সরঞ্জাম নিয়ে দূর্গত অঞ্চলে সেবা প্রদান করে চলেছে।
এদিকে প্রলংকারী ভূমিকম্পের সাতদিন পরেও থেমে নেই তুর্কি মিরাকল। চাপা পড়ার ১৬৩ ঘন্টা পর, আরও দুইজনকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে উদ্ধারকর্মীরা।
এদের মাঝে একজন ৬২ বছরের বৃদ্ধা, অন্যজন ৭ বছরের শিশু। দুজনকেই তুরস্কের দক্ষিণ পূর্বের হাতায় প্রদেশ থেকে উদ্ধার করা হয়। ব্রিটিশ উদ্ধারকারী দলের ধারণা, ওই প্রদেশে আরো প্রাণের অস্তিত্ব রয়েছে।
গতকালের অভিযান শেষে এখন পর্যন্ত ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত দুই দেশ থেকে, ৪১ হাজার মানুষের মৃতদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তবে জাতিসংঘ সতর্ক করে দিয়েছে, প্রাণহানির সংখ্যা আরো বাড়তে পারে।
এদের মাঝে তুরস্কেই প্রাণহানির সংখ্যা ৩৫ হাজার ৪১৮ জন। সিরিয়ায় প্রাণহানির সংখ্যা ৫ হাজার ৮০০ ছাড়িয়ে গিয়েছে।
ভূমিকম্পের পর সবশেষ প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, তুরস্কে এখন পর্যন্ত ১০ লাখ মানুষ গৃহহীন অবস্থায় দিন পার করছেন। সিরিয়ায় এই সংখ্যা আরও বেশি হবার আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।
তবে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটিতে সীমান্ত বন্ধ থাকায়, এখন পর্যন্ত হতাহত কিংবা অন্যান্য বিষয়ে সঠিক খবর পাওয়া অনেকটাই কঠিন হয়ে পড়েছে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে তুর্কি প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান জানান, ভূমিকম্পের পর থেকে এখন পর্যন্ত, ১ হাজার ৭০০ টি আফটার শক রেকর্ড করা হয়েছে। যদিও বিজ্ঞানীদের ধারণা, আগামী কয়েক মাস ধরে এটি চলতে পারে।