

আবারো পরমাণু বোমা ফাটাতে চলেছে উত্তর কোরিয়া! যুক্তরাষ্ট্রের এই দাবি যদি সত্যি হয়, তবে এটি হবে পিয়ংইয়ংয়ের সপ্তম নিউক্লিয়ার টেস্ট বা পরীক্ষামূলক আণবিক বিস্ফোরণ। গণমাধ্যমে একনায়ক কিম জং উনের উত্তর কোরিয়াকে নিয়ে এমনই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রদপ্তরের মুখপাত্র নেড প্রাইস। তাঁর মতে, ‘‘সপ্তম নিউক্লিয়ার টেস্টের জন্য সমস্ত প্রস্তুতি সেরে ফেলেছে পিয়ংইয়ং। এমনটা হলে তা ভয়ানক উসকানিমূলক কাজ হবে। এমন পদক্ষেপ আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও শান্তিকে প্রবলভাবে বিঘ্নিত করবে।’’একনায়ক কিম জং উনের উসকানির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক মঞ্চের সম্মিলিত পদক্ষেপের দাবি জানিয়ে নেড প্রাইস আরও বলেন, ‘‘নিউক্লিয়ার টেস্ট হলে গোটা বিশ্বের উচিত হবে একসঙ্গে জবাব দেয়া। বিশেষ করে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্যদের থেকে কড়া পদক্ষেপ আশা করা হচ্ছে।’’এদিকে, পরিস্থিতি জটিল করে , ফের দু’টি স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক মিসাইল উৎক্ষেপণ করেছে উত্তর কোরিয়া। চলতি সপ্তাহের মধ্যে দ্বিতীয় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়লো কিম প্রশাসন।অবশ্য এরমধ্যেই যৌথ সামরিক মহড়া শুরু করেছে আমেরিকা ও দক্ষিণ কোরিয়ার ফৌজ। এ মহড়া চলবে ২৩ মার্চ পর্যন্ত। তাই পালটা চাপ তৈরি করতেই পরপর মিসাইল উৎক্ষেপণ করছে কিমের সেনা। বিশ্লেষকরাও বলছেন একই কথা; দক্ষিণ কোরিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার মাধ্যমে মহড়ার জেরে নজরদারি ও সতর্কতা জোরদার করেছে কিম।পরমাণু অস্ত্রের ব্যবহার নিশ্চিতে গত বছরেই নিজেদের পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করে কিমের দেশ। এ সংক্রান্ত আইনও পাস করেছে দেশটি। ওই আইনে বলা হয়েছে, নিজ প্রতিরক্ষায় পারমাণবিক অস্ত্রের হামলা চালানোর অধিকার রয়েছে তাঁদের। সমর বিশ্লেষকদের মতে, এই আইনের মাধ্যমে উত্তর কোরিয়া অনেকটা সুরক্ষিত হয়েছে।উত্তর কোরিয়ার সরকারি সংবাদ মাধ্যমের তরফে জানানো হয়, শত্রুদের বিনাশে ও দেশকে সুরক্ষিত রাখতে এই আইনের সাহায্য দেশটির প্রশাসন নেবে। যার ফলে উত্তর কোরিয়া পারমাণবিক হামলা যে কোনও মুহুর্তে করতে পারে বলে প্রমাদ গুনতে শুরু করেছে আন্তর্জাতিক মহল।নিজদেশে পরমাণু অস্ত্রের পরীক্ষা নিয়ে কিম জং উন বলেন, ‘‘কোনওভাবেই দেশে অস্ত্র গবেষণা ও পরীক্ষা বন্ধ করা হবে না।’’বরং তিনি আশঙ্কা করেন, যে কোনও মুহূর্তে আমেরিকা উত্তর কোরিয়ার পতন ঘটাতে পারে। সেই কারণেই দেশে এই আইন আনা হয়েছে। এছাড়াও কিম আরো বলেন, ‘‘পরমাণু অস্ত্র নিরস্ত্রীকরণের কোনও প্রশ্ন নেই। কোনও সমঝোতা নেই। দেশের সুরক্ষার স্বার্থে কোনওভাবে পরমাণু অস্ত্র ত্যাগ করা যাবে না।’’কেবল পরমাণু অস্ত্রই নয়, অন্যান্য সমরাস্ত্রেও পিয়ংইয়ং যথেষ্ট এগিয়েছে। তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলো আমেরিকায় আঘাত হানতে সক্ষম।শেষবার উত্তর কোরিয়া পারমাণবিক বোমা পরীক্ষা করেছিল ২০১৭ সালে। সেবার পরীক্ষার স্থানের বিস্ফোরণের তীব্রতা ছিল একশ থেকে তিনশ’ ৭০ কিলোটন।১৯৪৫ সালে হিরোশিমায় যুক্তরাষ্ট্রের নিক্ষেপ করা আণবিক বোমার চেয়ে ছয়গুণ বেশি ক্ষমতাধর একটি একশ কিলোটনের বোমা। একটি মাত্র বোমায় গোটা হিরোশিমা ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়েছিল।উত্তর কোরিয়া জানিয়েছিল, ২০১৭ সালে চালানো পরীক্ষাটি ছিল তাদের প্রথম থার্মোনিউক্লিয়ার অস্ত্র। এটিকেই সবচেয়ে বেশি শক্তিধর পারমাণবিক অস্ত্র ধরা হয়।এর আগে উত্তর কোরিয়ার পুঙ্গে-রি এলাকার ভূ-গর্ভে ছয়টি পরীক্ষা করা হয়েছিল। তবে ২০১৮ সালে খবর আসে, পারমাণবিক সক্ষমতার পরীক্ষা হয়ে যাওয়ায় উত্তর কোরিয়া সাইটটি বন্ধ করে দিচ্ছে। আন্তর্জাতিক মহলকে আশ্বস্ত করতে ওই সাইটের কিছু ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গ বিদেশি সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে গুড়িয়েও দেওয়া হয়। তবে, গত বছরের শুরুর দিকে প্রকাশিত স্যাটেলাইটের ছবিতে দেখা গেছে, জায়গাটিতে ফের পরীক্ষা বিষয়ক কাজ শুরু করেছে উত্তর কোরিয়া। সেখানে আবার কোনো পারমাণবিক পরীক্ষা হলে তা হবে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের নির্দেশনার লঙ্ঘন।



