এবার সুলভমূল্যে প্রেমিকা ভাড়া পাওয়া যাচ্ছে চীনে! দেশটিতে নিদিষ্ট পারিশ্রমিকের বিনিময়ে প্রেমিকা ভাড়া নিতে পারবেন যে কেউ!
যাকে পরিবারের সদস্যদের সামনে কিংবা সমাজের মানুষের কাছে নিজের প্রেমিকা, স্ত্রী কিংবা বান্ধবী হিসেবে পরিচয় দিতে পারবেন তারা।
তাদের নিয়ে ঘুরতে যেতে পারবেন, দুজন মিলে তুলতে পারবেন কাপল ছবিও! চাইলে ভাড়ায় নেয়া এসব প্রেমিকার সাথে বিয়ের আয়োজন করে ছবিও তুলতে পারবেন।
বর্তমানে চীনে প্রেমিকা ভাড়া দেয়া বেশ রমরমা ব্যবসায় পরিণত হয়েছে! অনেক তরুণীই এই পেশায় জড়িত হচ্ছে অতিরিক্ত অর্থ উপার্জনের আশায়।
তবে শখের বসেই যে প্রেমিকা ভাড়া নিচ্ছেন চীনের তরুণরা বিষয়টি আসলে তেমনও নয়।
আমাদের দেশে যেমন বিয়ের বয়স পার হলেই, পাড়া প্রতিবেশী থেকে পরিবারের লোকজন সবাই বিয়ের জন্য চাপ দিতে থাকে। চীনও তার ব্যাতিক্রম নয়।
কিন্তু চীনের অধিকাংশ যুবক যুবতী বর্তমানে বিয়েতে তেমন আগ্রহী হয়। এমনকি, বিয়ের মত সন্তান নেয়ার ব্যাপারেও তাদের আগ্রহ নেই। বর্তমানে বিশ্বব্যাপী চীনা নারীদেরই সন্তান নেয়ার আগ্রহ সবচাইতে কম।
চীনা তরুণ তরুণীদের বিয়ের এবং সন্তান নেয়ার প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলার কারন হিসেবে উচ্চ জীবনযাত্রার ব্যয়, কম মজুরি, দীর্ঘ কর্মঘন্টাকে দায়ী করা হয়।
অন্যদিকে দেশটিতে দিনদিন কমছে জনসংখ্যার পরিমানও। দীর্ঘদিন ধরে চলা এক সন্তান নীতির কারনে দেশটিতে জনসংখ্যার অনুপাতেও পার্থক্য দেখা দিয়েছে।
বর্তমানে চীনে পুরুষের সংখ্যা অনুপাতে নারীদের সংখ্যা কম। ফলে অনেকে বিয়ের জন্য পাত্রীও খুঁজে পাচ্ছেন না।
যার কারণে, পরিবার ও সমাজের চাপ থেকে বাঁচতে প্রেমিকা ভাড়া নেয়াকেই সহজ এবং সময় উপযোগী উপায় হিসেবে গন্য করছেন চীনা তরুণরা।
সম্প্রতি South china morning post এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উঠে আসে প্রেমিকা ভাড়া নেয়ার এই খবর।
প্রতিবেদন একজন স্থানীয় গনমাধ্যম কর্মীর নকল প্রেমিকা ভাড়া নেয়ার বিষয়টি তুলে ধরা হয়। একটি ওয়েবসাইট থেকে নিজের জন্য প্রেমিকা ভাড়া নেন তিনি।
দৈনিক ১ হাজার ইউয়ানের বিনিময়ে মুমু ছদ্মনামের ২৯ বছর বয়সী এক তরুণীকে ভাড়া নেন তিনি। বাংলাদেশি টাকায় যা প্রায় ১৫ হাজার ৫৫০ টাকা।
ভাড়ায় নেয়া সেই তরুণীকে নিয়ে ঘুরতে যেতে চাইলে গুনতে হবে আরো ৩৫০ ইউয়ান। পরিচিত হওয়ার পর তার মূখ দেখতে হলে গুনতে হবে ২০ ইউয়ান।
মুম জানান, তার বেশিরভাগ ক্লায়েন্টই তাকে পরিবারের সাথে সাক্ষাতের জন্য ভাড়া করেন। কেউ কেউ ভাড়া করেন ওয়েডিং ফটোশুট করার জন্য। কেউ কেউ তো আবার নকল ম্যারেজ সার্টিফিকেটও তৈরি করেন।
আবার কোনো কোনো ক্লায়েন্ট আছেন, যারা গ্রামাঞ্চলে থাকেন। গ্রামের মানুষকে নিজের প্রেমিকা আছে সেটি দেখানোর জন্য তাকে ভাড়া নেন।
তবে ভাড়া খাটার ক্ষেত্রে তার প্রথম রুলস হচ্ছে ক্লায়েন্টের সাথে প্রেম করা যাবে না। নিজের ক্লায়েন্টেরে হাত ধরতে পারবেন তিনি। যদি তারা পর্যাপ্ত পরিমানে টাকা দেয় তবে অন্য কাজ গুলো করবেন তিনি।
মুমুর মত অনেকেই প্রেমিকা হিসেবে ভাড়া খাটেন। পরিবার বিয়ের চাপ থেকে বাঁচতে তরুণরা ভাড়া করে তাদের পরিবারের কাছে নিয়ে যান।
চীনে দিন দিন রমরমা হয়ে উঠছে এই ব্যবসা। প্রতিনিয়ত প্রেমিকা বাড়া নেয়ার সংখ্যা বাড়ছে চীনা তরুণদের মাঝে।
মজার ব্যাপার হলো, ভাড়াটে প্রেমিকার মত ভাড়াটে প্রেমিকও পাওয়া যায় দেশটিতে!