আন্তর্জাতিক


তথ্য ফাঁস, সর্বাত্মক যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে ছিল ন্যাটো-রাশিয়া


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:১১ এপ্রিল ২০২৩, ০১:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার

তথ্য ফাঁস, সর্বাত্মক যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে ছিল ন্যাটো-রাশিয়া
সর্বাত্মক যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে পৌঁচ্ছে গিয়েছিল রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ন্যাটো। এক রিপোর্টে এ তথ্য জানিয়েছে ওয়াশিংটন পোস্ট। 

সম্প্রতি পেন্টাগন থেকে বিভিন্ন সামরিক বিষয়ে যে তথ্য ফাঁস হয়েছে, তা থেকে ওয়াশিংটন পোস্ট এ রিপোর্ট তৈরি করেছে।মার্কিন দৈনিকটিতে প্রকাশিত রিপোর্ট অনুসারে, সেই সময় রাশিয়ার একটি যুদ্ধবিমান ব্রিটেনের একটি গোয়েন্দা বিমানকে প্রায় ভূপাতিত করে ফেলে। ব্রিটিশ যুদ্ধবিমানটি ভূপাতিত হলেই রাশিয়া এবং ন্যাটো জোটের মধ্যে শুরু হয়ে যেত সর্বাত্মক যুদ্ধ।ওয়াশিংটন পোস্ট যে ডকুমেন্ট হাতে পেয়েছে, তাতে বলা হয়েছে যে, আমেরিকার রাজকীয় বিমান বাহিনীর গোয়েন্দা বিমান প্রায় ভূপতিত হওয়ার কাছাকাছি চলে গিয়েছিল। 

গত অক্টোবরে ব্রিটিশ সরকার জানায় যে, রাশিয়ার দুটি সুখোই এসইউ-২৭ বিমান কৃষ্ণ সাগরের আকাশে ব্রিটেনের ওই গোয়েন্দা বিমানকে বাধাঁ দেয়। সে সময় রাশিয়ার একটি বিমান থেকে ব্রিটিশ বিমানের কাছেই ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়া হয়।রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে যদি ব্রিটিশ বিমানটি ভূপাতিত হতো, তাহলে ন্যাটো জোটের সামনে আর্টিকেল ফাইভ বাস্তবায়নের প্রশ্ন এসে পড়তো। তাতে রাশিয়ার সঙ্গে ন্যাটো জোটের সংঘাত অনিবার্য হয়ে উঠত।

পত্রিকার তথ্যমতে, ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর মাসের শেষ দিকে এ ঘটনা ঘটে। অক্টোবর মাসে ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী বেন ওয়ালেস এ ঘটনা পার্লামেন্টকে জানান।বেন ওয়ালেস এর মতে, রাশিয়া দাবি করেছে তাদের যুদ্ধবিমানের কারিগরি ত্রুটির কারণে ব্রিটিশ গোয়েন্দা বিমানের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ছুটে গেছে, ওই ঘটনা ইচ্ছাকৃত ছিল না।

ওয়াশিংটন পোস্ট বলছে, এ ঘটনার পর কৃষ্ণ সাগরের আকাশে ব্রিটেন গোয়েন্দা বিমান পরিচালনার ক্ষেত্রে আরও সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেয়। এর আওতায় ব্রিটিশ গোয়েন্দা বিমানগুলোকে ক্রিমিয়া উপদ্বীপ থেকে দূরে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়।

ফাঁস হওয়া নথিতে ইউক্রেন যুদ্ধের পাশাপাশি চীন এবং যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের সম্পর্কিত স্পর্শকাতর তথ্য রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। পেন্টাগন কর্মকর্তারা বলছেন, জ্যেষ্ঠ নেতাদের কাছে পাঠানো নথির সঙ্গে ফাঁস হওয়া ফাইলগুলোর মিল রয়েছে। 

ফাঁস হওয়া অন্য নথিগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যের পাশাপাশি ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তার বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে। ইতোমধ্যেই কোন উৎস থেকে নথিগুলো ফাঁস হয়েছে তা নিশ্চিত হতে তদন্ত শুরু হয়েছে। এসব নথি প্রথমে টুইটার ও টেলিগ্রামের মতো আরও কয়েকটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা যায়। এদিকে, মার্কিন গোয়েন্দা তথ্য ফাঁসের নেপথ্যে রাশিয়া জড়িত কিনা এ বিষয়ে রুশ প্রেসিডেন্টের কার্যালয় বলেছে, সব সময় সব কিছুর জন্য রাশিয়াকে দোষারোপ করা একটি সাধারণ প্রবণতা।

তবে ইউক্রেনসহ বেশ কয়েকটি দেশ সম্পর্কে ফাঁস হওয়া এই মার্কিন নথিগুলোকে ‘রুশ অপপ্রচার কর্মসূচি’ হিসেবে উল্লেখ করেছে কিয়েভ।দুই মার্কিন কর্মকর্তা বলেছেন, সরকারের সংবেদনশীল তথ্য আদান-প্রদান এবং অন্যান্য দেশের সঙ্গে সম্পর্কের ওপর প্রভাব বিস্তারকারী কয়েক ডজন গোপন নথি ফাঁস হওয়ার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো উৎস শনাক্তের চেষ্টা করছে। 

কিছু জাতীয় নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ এবং মার্কিন কর্মকর্তারা বলেছেন, তারা সন্দেহ করছেন যে নথিপত্রে উল্লেখিত বিষয়গুলোর বিস্তৃতি দেখে ফাঁসকারী যুক্তরাষ্ট্রের হতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তারা রুশপন্থী ব্যক্তিদের ভূমিকার কথা উড়িয়ে দিচ্ছেন না।সিআইএ-র সাবেক এক কর্মকর্তা বলেছেন, ওয়াশিংটন এবং তার মিত্রদের মধ্যে বিভ্রান্তি এবং সম্ভাব্য বিভাজনের বীজ বপন করতে মস্কো হয়ত এই নথি ফাঁসের ঘটনাটি সাজিয়েছে।নথি ফাঁসে রাশিয়া দায়ী হতে পারে, এমন অভিযোগ সম্পর্কে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ কোনো ধরণের মন্তব্য করতে রাজি হননি। একইভাবে, রাশিয়ার বৈদেশিক গোয়েন্দা সংস্থা - এসভিআর মার্কিন তথ্য ফাঁস সম্পর্কে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

জনপ্রিয়


আন্তর্জাতিক থেকে আরও পড়ুন

খামেনি ও তার ছেলেকে হত্যার পরিকল্পনা

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘিরে নতুন করে যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে একটি নতুন চুক্তিতে রাজি হওয়ার আহ্বান জানিয়ে সতর্ক করেছেন শর্ত না মানলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। চুক্তিতে সম্মত হওয়ার জন্য ইরানকে ১০ দিনের সময়সীমা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

গাজার পুনর্গঠনে ৭০০ কোটি ডলার: ‘শান্তি পর্ষদ’ বৈঠকে ট্রাম্পের ঘোষণা

ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত তথাকথিত ‘শান্তি পর্ষদ’–এর প্রথম বৈঠকে ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজা উপত্যকার পুনর্গঠনের জন্য ৭০০ কোটি ডলারের তহবিল প্রতিশ্রুতির কথা জানান। তাঁর দাবি, ৯টি সদস্যরাষ্ট্র প্রাথমিকভাবে এ তহবিলে অর্থ দিতে সম্মত হয়েছে। একই সঙ্গে গাজায় একটি আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েনে পাঁচটি দেশ নীতিগত সম্মতি দিয়েছে।

‘হাড় না ভাঙা’ পর্যন্ত স্ত্রীকে মারার অনুমোদন- আফগানিস্তানে নতুন আইন ঘিরে বিতর্ক

নারীদের বিরুদ্ধে নতুন কড়া আইন জারির অভিযোগ উঠেছে আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের বিরুদ্ধে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেন্ডেন্ট-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির নতুন ফৌজদারি আইনে স্বামীদের স্ত্রী ও সন্তানদের শারীরিকভাবে শাস্তি দেওয়ার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যা পারিবারিক সহিংসতাকে কার্যত বৈধতা দিচ্ছে বলে সমালোচকরা দাবি করছেন।

ভোটে হেরে বাড়ি বাড়ি ঘুরে টাকা ফেরত চাইছেন প্রার্থীর স্ত্রী

ভারতের তেলেঙ্গানা রাজ্যে পৌর নির্বাচনে পরাজয়ের পর এক প্রার্থীর পরিবারের কর্মকাণ্ড ঘিরে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, এক প্রার্থীর স্ত্রী বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের কাছ থেকে টাকা ফেরত চাইছেন বলে অভিযোগ