আন্তর্জাতিক


ফেসবুক দুই দেশে থাকা মা-মেয়েকে মিলিয়ে দিলো


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:০৫ মে ২০২৪, ১০:৩৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার

ফেসবুক  দুই দেশে থাকা মা-মেয়েকে মিলিয়ে দিলো
১৯৭১ সালের মহান  মুক্তিযুদ্ধে আলাদা হয়ে গিয়েছিলো মা ও মেয়ে। ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে মাইয়ের ঠাই হয় পাকিস্তানে আর ২ মেয়ে থেকে যান বাংলাদেশে। ফেসবুকের কল্যাণে অবশেষে দীর্ঘ ৫৩ বছর পর দেখা হলো সেই মা-মেয়ের।

ফেসবুকের মাধ্যমে মেয়েদের সন্ধান পেয়ে গেলো শুক্রবার (৪ মে) রাতে পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশে আসেন মা চেমন আরা বেগম। এ সময় বিমানবন্দরে তৈরি হয় এক আবেগঘন পরিবেশের । মা-মেয়ে ভিন্ন ভাষায় কথা বললেও বাধ মানেনি ভাষার ভিন্নতা। ভাষার ভিন্নতা বাধা হয়নি আবেগ প্রকাশেও।

পরিবারের সদস্যরা জানান, মুক্তিযুদ্ধের আগে পাকিস্তান এয়ারলাইন্সে চাকরি করতেন দিনাজপুরের এস এম মুসলিম। চাকরির সুবাদে তিনি বিয়ে করেন তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানের নাগরিক চেমন আরা বেগমকে। মুক্তিযুদ্ধ শুরুর সময়ে তিন মেয়েকে নিয়ে তারা ছিলেন দিনাজপুরের গ্রামের বাড়িতে। হঠাৎ বাবা এসএম মুসলিম এবং কোলের সন্তানসহ তার স্ত্রী স্যামন আরাকে ধরে নিয়ে যায় পাকিস্তানি বাহিনী। পরে চেমন আরা বেগমকে পাঠিয়ে দেওয়া হয় ভারতের শরণার্থী শিবিরে। মা-বাবাহীন দুই মেয়েকে রাস্তার পাশে কাঁদতে দেখে আশ্রয় দেন এক ট্রাক ড্রাইভার। যদিও যুদ্ধের পর পাকিস্তান থেকে মুক্তি পেয়ে নিজের মেয়েদের খুঁজে বের করেন এস এম মুসলিম। কিন্তু খুঁজে পাননি তার স্ত্রীকে। বড় হয়ে মেয়েরা বিষয়টি জানলেও মাকে খুঁজে পাওয়ার কোনো মাধ্যম পাননি তারা। 

নাতিন জামাই জাহিদুল ইসলাম নিটুলের উদ্যোগে স্যামন আরার খোঁজ শুরু হয় ২০১৩ সাল থেকে। শাশুড়ির মুখে তার মা হারানোর গল্প শুনে তাদের ছোট কালের একটি ছবিসহ বিভিন্ন দেশের ফেসবুক গ্রুপগুলোতে গিয়ে পোস্ট করতে থাকেন নিটুল। দীর্ঘ প্রায় ১০ বছরের চেষ্টায় ২০২২ সালে পাকিস্তানি এক ইউটিউবারের মাধ্যমে সন্ধান মিলে স্যামন আরার। তারপর নানান চড়াই উৎরাই পেরিয়ে অবশেষে হলো সরাসরি দেখা।


পরিবার হারিয়ে পাকিস্তান যাওয়ার পর সেখানে আবারও বিয়ে হয়েছিল চেমন আরার। সেখানেও তার সন্তান ও নাতিনাতনী থাকলেও মারা গেছেন স্বামী। তাই বাংলাদেশের সন্তান ও নাতি নাতনীদের প্রত্যাশা মুক্তিযুদ্ধের কারণে পরিবার হারানো চেমন আরা যেন ট্যুরিস্ট হিসেবে নয়, এ দেশের বধূ হিসেবে সন্তানদের কাছে নিয়মিত আসা যাওয়া করতে পারেন। রাষ্ট্রের কাছে এই সুযোগটি চান তারা।

চেমন আরার মেয়ে উম্মে সেলিনা বলেন, আমরা যখন হারিয়ে যায় তখন আমার বয়স ছিলো মাত্র ৪ বছর। খুব বেশি কিছু মনেও নাই। শুধু মনে আছে রাস্তার পাশে কাঁদছিলাম। পরে ট্রাক চালক আমাদের গাড়িতে করে নিয়ে গেছেন। পরে বাবাকেও পেয়েছি, মাকে না পেয়ে বাবা আমাদের জন্য অন্য মা এনেছিলেন। সেই মা আমাদের বড় করেছেন। কিন্তু নিজের মাকেতো পাইনি। এখন পেলাম, কিন্তু ছমাস পরে মাকে চলে যেতে হবে এটা মানতেই কষ্ট হচ্ছে। আমরা মাকে রেখে দিতে চাই।

চেমন আরাকে ফেরত আনার উদ্যোগ নেওয়া নাতিন জামাই জাহিদুল ইসলাম নিটুল বলেন, উনার যেহেতু সেখানে পরিবার আছে সেখানেও উনাকে যেতে হবে। তবে আমরা চেষ্টা করবো উনাকে ট্যুরিস্ট হিসেবে নয়, এ দেশের বধূ হিসেবে যৌথ নাগরিকত্বের বিষয়ে কিছু করা যায় কিনা। সরকার চাইলে এটা হয়তো সম্ভব হবে।



জনপ্রিয়


আন্তর্জাতিক থেকে আরও পড়ুন

কোরবানি নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের উদাহরণ টানলেন হায়দরাবাদের ইসলামিক স্কলার

ভারতের হায়দরাবাদ–এর ইসলামিক স্কলার মাওলানা মোহাম্মদ জাফর পাশা কোরবানির পশু নিয়ে মুসলিমদের হেনস্তার অভিযোগ তুলে পশ্চিমবঙ্গের মুসলিমদের উদাহরণ অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছেন।

আল-আকসা প্রাঙ্গণে পশু জবাইয়ের চেষ্টায় আটক ১৩

পবিত্র আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে ইহুদি ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী পশু জবাইয়ের চেষ্টা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় জড়িত অভিযোগে ১৩ জনকে আটক করেছে ইসরায়েলি পুলিশ। শুক্রবার ইহুদিদের ধর্মীয় উৎসব শাভুত উপলক্ষে এ ঘটনা ঘটে।

এএপিআই হেরিটেজ মাসে নিউ জার্সি সিনেটের সম্মাননা পেলেন বাংলাদেশি-আমেরিকান অধ্যাপক শোয়েব ভূঁইয়া

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে এশিয়ান আমেরিকান অ্যান্ড প্যাসিফিক আইল্যান্ডার (এএপিআই) হেরিটেজ মাস উপলক্ষে বিশেষ সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন বাংলাদেশি-আমেরিকান অধ্যাপক শোয়েব আহমেদ ভূঁইয়া। নিউ জার্সি স্টেট সিনেট ও জেনারেল অ্যাসেম্বলির পক্ষ থেকে তাকে যৌথ আইনসভা প্রস্তাবনার (Joint Legislative Resolution) মাধ্যমে এ সম্মাননা দেওয়া হয়। তিনি প্রথম বাংলাদেশি-আমেরিকান হিসেবে এই মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতি অর্জন করলেন।

বিজেপিকে ছাড়িয়ে ভাইরাল “তেলাপোকা পার্টি”

ভারতে হঠাৎ করেই তুমুল আলোচনায় উঠে এসেছে একটি ব্যতিক্রমধর্মী অনলাইন আন্দোলন “ককরোচ জনতা পার্টি” বা সিজেপি। কয়েকদিন আগেও যেটিকে অনেকে নিছক মিম, ট্রল কিংবা ব্যঙ্গাত্মক ক্যাম্পেইন হিসেবে দেখছিলেন, সেটিই এখন দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে অস্বস্তির বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে ফলোয়ার সংখ্যার দিক থেকে এই নতুন আন্দোলন ইতোমধ্যেই ক্ষমতাসীন বিজেপিকেও ছাড়িয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত সিজেপির অনুসারী সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ কোটি ২২ লাখে, যেখানে বিজেপির অফিশিয়াল ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে রয়েছে প্রায় ৮৭ লাখ ফলোয়ার। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে এমন বিস্ফোরক উত্থান ভারতের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।