আন্তর্জাতিক
সৌদি যুবরাজের চাপেই কি ইরানে হামলার সিদ্ধান্ত নেন ট্রাম্প?

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওয়াশিংটন ডিসির হোয়াইট হাউসে নিজের ডেস্কে । ছবি: রয়টার্স
দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট–এর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইরানে সামরিক হামলার সিদ্ধান্ত নিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প–এর ওপর মধ্যপ্রাচ্যের মিত্র দেশ সৌদি আরব–এর উচ্চপর্যায়ের চাপ ছিল। বিশেষ করে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান কয়েক সপ্তাহ ধরে ইরানে হামলার পক্ষে যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের কাছে লবিং চালান বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সৌদি যুবরাজ প্রকাশ্যে কূটনৈতিক সমাধানের কথা বললেও গোপনে মার্কিন সামরিক অভিযানের পক্ষে অবস্থান নেন। একই সময় ইসরায়েল–এর সরকারও ইরানকে তাদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হিসেবে বিবেচনা করে যুক্তরাষ্ট্রকে চাপ দিয়ে আসছিল।
গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে ওয়াশিংটন পোস্ট জানায়, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি–এর অবস্থান শনাক্ত করে পরিকল্পিত হামলার সুযোগ খুঁজছিল। পরে বিমান হামলা চালানো হলে প্রথম দফার অভিযানে খামেনিসহ কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা নিহত হওয়ার দাবি করা হয়, যদিও স্বাধীনভাবে এই তথ্য যাচাই করা যায়নি।
মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়নে বলা হয়েছে, ইরানের সামরিক বাহিনী যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডের জন্য তাৎক্ষণিক কোনো হুমকি ছিল না। তবুও হামলা চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যা কয়েক দশক ধরে অনুসৃত মার্কিন সামরিক নীতিতে পরিবর্তন নির্দেশ করে।
হামলার সময় ট্রাম্প এক ভিডিও বার্তায় বলেন, তাঁর সিদ্ধান্ত ইতিহাসে ব্যতিক্রমী হতে পারে। তিনি মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন।
বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি আরবের অবস্থানের পেছনে দুটি কৌশল থাকতে পারে ইরানের সম্ভাব্য পাল্টা হামলা থেকে নিজেদের তেল অবকাঠামো রক্ষা এবং মধ্যপ্রাচ্যে আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা বজায় রাখা।
এদিকে ইরান ও পশ্চিমা বিশ্বের মধ্যে চলমান উত্তেজনা আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সম্পর্কিত
জনপ্রিয়
সর্বশেষ
আন্তর্জাতিক থেকে আরও পড়ুন
কুয়েতের ‘ভুল’ নিশানায় যুক্তরাষ্ট্রের ৩ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত, দাবি যুক্তরাষ্ট্রের
ইরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত মার্কিন সামরিক অভিযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ চলাকালে কুয়েতে এক ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান। সোমবার কুয়েতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থেকে ‘ভুলবশত’ ছোড়া গোলার আঘাতে এফ-১৫ই (F-15E) স্ট্রাইক ইগল যুদ্ধবিমানগুলো ভূপাতিত হয়। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী এই তথ্য নিশ্চিত করে একে ‘ফ্রেন্ডলি ফায়ার’ বা মিত্রবাহিনীর ভুল হিসেবে অভিহিত করেছে।

খামেনির কম্পাউন্ডে ৩০টি বোমা হামলার দাবি, ইরানে যৌথ অভিযান নিয়ে চাঞ্চল্য
ইসরায়েল–এর যুদ্ধবিমান থেকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি–এর কম্পাউন্ড লক্ষ্য করে প্রায় ৩০টি বোমা ফেলা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এ তথ্য প্রকাশ করে। হামলার ফলে ওই কম্পাউন্ডে ব্যাপক অগ্নিকাণ্ড ও ধ্বংসের ঘটনা ঘটে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

কুয়েতের আকাশে মার্কিন এফ–১৫ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের দাবি
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরান–এর মিসাইল হামলায় কুয়েতের আকাশে এফ–১৫ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়েছে। সোমবার (২ মার্চ) দুপুরে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিওতে আকাশে উড়ন্ত অবস্থায় থাকা যুদ্ধবিমানটি হঠাৎ আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে নিচে পড়ে যেতে দেখা গেছে।

খামেনিকে লক্ষ্য করে ৩০টি বোমা হামলার দাবি, ইরানে ব্যাপক ধ্বংসের তথ্য
ইসরায়েল ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি–কে লক্ষ্য করে প্রায় ৩০টি বোমা নিক্ষেপ করেছে বলে দাবি করা হয়েছে। যুদ্ধবিমান থেকে এই হামলা চালানো হয় এবং এতে ইরানের বিভিন্ন সামরিক ও প্রশাসনিক স্থাপনায় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্র উল্লেখ করেছে।


.jpg)





