আন্তর্জাতিক


আল-জাজিরার এক্সপ্লেইনার: ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান: কোন অস্ত্র ব্যবহৃত হচ্ছে, কত খরচ পড়ছে?


দূরবিন ডেস্ক

দূরবিন ডেস্ক

প্রকাশিত:০৩ মার্চ ২০২৬, ১০:৫৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার

আল-জাজিরার এক্সপ্লেইনার: ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান: কোন অস্ত্র ব্যবহৃত হচ্ছে, কত খরচ পড়ছে?

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার পর ধোঁয়ার বিশাল কুণ্ডলী। বিস্ফোরণের বিকট শব্দে আতঙ্কিত হয়ে উড়ে যাচ্ছে পাখি। গতকাল ইরানের রাজধানী তেহরানে । ছবি: রয়টার্স


ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বৈরিতা নতুন মাত্রা পেয়েছে গত শনিবারের হামলার পর। ওই দিন ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে বিমান হামলা চালায়। এতে দুই দেশের প্রকাশ্য সামরিক শত্রুতা নতুন করে উসকে ওঠে। জবাবে ইরানও উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি দেশে মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালাচ্ছে।

 

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতিমধ্যে ইঙ্গিত দিয়েছেন, এই সামরিক অভিযান চার থেকে পাঁচ সপ্তাহ পর্যন্ত চলতে পারে। তাঁর এমন বক্তব্যের পর প্রশ্ন উঠেছে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে শুরু হওয়া এই যুদ্ধ কতদিন চালিয়ে যেতে পারবে ওয়াশিংটন? আর এতে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য ব্যয় কত?



২৮ ফেব্রুয়ারি ট্রাম্প নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে আট মিনিটের একটি ভিডিও পোস্ট করে ইরানে ‘বড় যুদ্ধাভিযান’ শুরুর ঘোষণা দেন। পরে পেন্টাগন ‘এক্স’-এ জানায়, অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’।

 

ট্রাম্পের দাবি, ইরান যাতে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে, সেটাই এই অভিযানের প্রধান উদ্দেশ্য। তিনি বলেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ও সংশ্লিষ্ট শিল্প ‘সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস’ করা হবে।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, অভিযান শুরুর পর থেকে ইরানের ১,২৫০টির বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। পৃথক বিবৃতিতে বলা হয়, হামলায় ১১টি ইরানি জাহাজ ধ্বংস করা হয়েছে।

 

এই অভিযানে বিমান হামলার পাশাপাশি সমুদ্র থেকে ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ এবং পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে সমন্বিত আঘাত হানা হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রতিরক্ষা সংশ্লিষ্ট উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তিদের লক্ষ্য করেও হামলা চালানো হচ্ছে।

 

ব্রাউন ইউনিভার্সিটির ২০২৫ সালের ‘কস্ট অব ওয়ার’ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর থেকে ইসরায়েলকে যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ২ হাজার ১৭০ কোটি ডলার সামরিক সহায়তা দিয়েছে।

 

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইয়েমেন, ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে সামরিক সহায়তা দিতে গিয়ে মার্কিন করদাতাদের প্রায় ৯৬৫ কোটি থেকে ১ হাজার ২০৭ কোটি ডলার ব্যয় হয়েছে। এতে যুদ্ধ ও সংঘাতসংক্রান্ত মোট ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩ হাজার ১৩৫ থেকে ৩ হাজার ৩৭৭ কোটি ডলারে।

 

তুরস্কের আনাদোলু সংবাদ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র প্রথম ২৪ ঘণ্টাতেই প্রায় ৭৭ কোটি ৯০ লাখ ডলার ব্যয় হয়েছে। সামরিক প্রস্তুতি যেমন যুদ্ধবিমানের অবস্থান পরিবর্তন, নৌযান মোতায়েন ও আঞ্চলিক সম্পদ একত্র করা এসব খাতে অতিরিক্ত প্রায় ৬৩ কোটি ডলার খরচ হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর নিউ আমেরিকান সিকিউরিটির হিসাবে, ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ডের মতো একটি বিমানবাহী রণতরি পরিচালনায় প্রতিদিন প্রায় ৬৫ লাখ ডলার ব্যয় হয়। এর সঙ্গে সরঞ্জাম ক্ষতির ব্যয় যুক্ত হবে।



মার্কিন সেন্টকমের তথ্য অনুযায়ী, এই অভিযানে আকাশ, সাগর, ভূমি ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা মিলিয়ে ২০টির বেশি অস্ত্রব্যবস্থা ব্যবহার করা হচ্ছে।



বি-১ ও বি-২ স্টিলথ বোমারু বিমান ইরানের সামরিক ও পারমাণবিক স্থাপনায় হামলায় ব্যবহৃত হচ্ছে। এছাড়া এফ-৩৫, এফ-১৫ ও এফ-১৬ ফ্যালকন যুদ্ধবিমান মোতায়েন রয়েছে।

 

এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন নজরদারি ও আক্রমণে ব্যবহৃত হচ্ছে। লুকাস ড্রোন, এম১৪২ হিমার্স রকেট সিস্টেম এবং সমুদ্র থেকে নিক্ষেপযোগ্য টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রও ব্যবহৃত হচ্ছে।

 

প্যাট্রিয়ট ও থাড (THAAD) ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শত্রুপক্ষের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করতে ব্যবহৃত হচ্ছে। ইরানি ড্রোন মোকাবিলায় কাউন্টার-ড্রোন প্রযুক্তিও মোতায়েন রয়েছে।

 

বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড ও ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন মোতায়েন রয়েছে। পি-৮ পসেইডন টহল বিমান নজরদারিতে কাজ করছে। যুদ্ধসরঞ্জাম পরিবহনে সি-১৭ গ্লোবমাস্টার ও সি-১৩০ হারকিউলিস ব্যবহৃত হচ্ছে।

 

স্টিমসন সেন্টারের জ্যেষ্ঠ ফেলো ক্রিস্টোফার প্রেবেল বলেন, পেন্টাগন যুদ্ধের বিস্তারিত ব্যয় প্রকাশ না করায় সুনির্দিষ্ট হিসাব করা কঠিন। যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রতিরক্ষা বাজেট প্রায় এক ট্রিলিয়ন ডলার; সেটি দেড় ট্রিলিয়নে উন্নীত করার প্রস্তাব রয়েছে।

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, আর্থিক ব্যয়ের চেয়ে বড় প্রশ্ন হলো যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জামের মজুত কতটা টেকসই থাকবে।

 

সূত্র: আল-জাজিরা 


সম্পর্কিত

আন্তর্জাতিক খবরআল-জাজিরা

জনপ্রিয়


আন্তর্জাতিক থেকে আরও পড়ুন

হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ায় ইরানকে ধন্যবাদ জানালেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প

হরমুজ প্রণালিকে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য পুরোপুরি উন্মুক্ত ঘোষণা দিয়েছে ইরান। এ সিদ্ধান্তের পর যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ও বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ইরানকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

গাজা যুদ্ধবিরতি ইস্যুতে প্রথমবার সরাসরি আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র–হামাস

গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর রাখার লক্ষ্যে প্রথমবারের মতো সরাসরি আলোচনায় বসেছে যুক্তরাষ্ট্র ও হামাস। মিশরের রাজধানী কায়রোতে অনুষ্ঠিত এই গোপন বৈঠককে মধ্যপ্রাচ্যের কূটনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

লেবাননেও যুদ্ধবিরতি ইরানের মতোই অগ্রাধিকার: বাঘের গালিবাফ

লেবাননেও যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠা ইরানের জন্য নিজ দেশের মতোই গুরুত্বপূর্ণ- এমন মন্তব্য করেছেন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। লেবাননের পার্লামেন্ট স্পিকার নাবিহ বেরির সঙ্গে ফোনালাপের পর বৃহস্পতিবার (১৪ এপ্রিল) টেলিগ্রামে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এ কথা জানান।

হরমুজে মার্কিন অবরোধ: তিন দিনে ১০ জাহাজ ফিরিয়ে দিল সেন্টকোম

হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন অবরোধ শুরুর পর গত তিন দিনে অন্তত ১০টি জাহাজকে ফিরে যেতে বাধ্য করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির সামরিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকোম) জানিয়েছে, অবরোধ কার্যকরের পর এখন পর্যন্ত কোনো জাহাজই তা ভেঙে পার হতে পারেনি।