আন্তর্জাতিক


আসন্ন বৈশ্বিক মন্দার সবচেয়ে বড় ঝুঁকিতে চীন-যুক্তরাষ্ট্র


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:০৮ এপ্রিল ২০২২, ০৪:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার

আসন্ন বৈশ্বিক মন্দার সবচেয়ে বড় ঝুঁকিতে চীন-যুক্তরাষ্ট্র


করোনা মহামারি কাটিয়ে বৈশ্বিক অর্থনীতি আবার যখন গতিশীল হচ্ছিলো তখনই রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে যুদ্ধ শুরু। এ অবস্থায় বিশ্ব অর্থনীতিতে এখন সবচেয়ে আলোচিত দুটি শব্দ হচ্ছে বাণিজ্যযুদ্ধ ও বিশ্বমন্দা। যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে বাণিজ্যযুদ্ধ এখন তীব্র আকার ধারণ করেছে। এর রেশ ধরে সবার মনে এখন প্রশ্ন, তাহলে কি আবার বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দা ফিরে আসছে?

 

বিশ্ব আরও একটি মন্দা দেখবে কি না সে বিষয় নিয়ে জল্পনা-কল্পনা চলছে। ফলে বিশ্ব অর্থনীতির আকাশে মেঘ নেমে আসার শঙ্কা দেখছেন অনেকেই। যদিও অধিকাংশ অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন চলতি বছরে মন্দা তুলনামূলকভাবে কম।

 

এদিকে, রাশিয়া-ইউক্রেনের মধ্যে যুদ্ধ, মস্কোর ওপর নিষেধাজ্ঞা, চীনে করোনার উপর ‘জিরো’ নীতি, মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বগতি ও যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার বৃদ্ধি ২০২২ সালে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ওপর আরোও চাপ বৃদ্ধি করবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে । প্রশ্ন এখন- এমন খারাপ পরিস্থিতি ও বিভিন্ন ভুল নীতি ধীর অর্থনীতিকে সংকোচনের দিকে নিয়ে যেতে পারে কি না।

 

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক তারা সিনক্লেয়ার মত, মন্দার বিষয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করা অবিশ্বাস্যভাবে কঠিন। এমনকি ভালো পূর্বাভাসকারীদের জন্যও। এর আগের বার মন্দা শুরু হওয়ার পরেই আমরা বুঝতে পারি।

 

যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি বেড়ে গত ৪০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ হয়েছে। দেশটিতে লাফিয়ে বাড়ছে ভোগ্য পণ্যের দাম। ফলে বিশ্বের বড় অর্থনীতির দেশটিতে সংকট তৈরি হওয়ায় শঙ্কা দেখা দিয়েছে। কারণ এর প্রভাব বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়তে পারে। কমে যেতে পারে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি। করোনা মহামারিতে বিশ্ব অর্থনীতি সংকোচিত হয় চার দশমিক তিন শতাংশ।

 

গত মাসে নিউ ইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ডুডলি এক মতামতে সতর্ক করে বলেন, একটি মন্দা এখন কার্যত অনিবার্য।

 

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে আরেকটি সতর্কতা সংকেত হলো স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি মার্কিন ট্রেজারি বন্ডগুলোর ওপর নতুন নিয়ম আরোপ করা। যা বিনিয়োগকারীদের হতাশ করেছে।

 

ক্যাম্পবেল আর হার্ভে নামের একজন অর্থনীতিবিদ জানান, ফেডের নীতির কারণে মন্দার ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে। যারা মনে করেন চলমান মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে ফেড ধীর গতিতে এগোচ্ছে তাদের সঙ্গেও একমত পোষণ করেন তিনি।

 

এদিকে, চলতি বছরে মন্দার সম্ভাবনা রয়েছে বলে বিশ্বাস করেন ৮১ শতাংশ মার্কিন প্রাপ্তবয়স্করা ।গত মাসে সিএনবিসির পক্ষ থেকে পরিচালিত একটি জরিপে এমন তথ্য উঠে আসে।

 

এছাড়া, ইউক্রেনে হামলার পর রাশিয়ার উপর একের পর এক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছে পশ্চিমা বিশ্ব। রাশিয়ার জ্বালানি আমদানি নিষিদ্ধ করেছে বাইডেন প্রশাসন। ইউরোপীয় ইউনিয়নও একই পথে হাঁটছে। রাশিয়ারও সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে অনেক দেশকে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। এতে বিশ্বজুড়ে জ্বালানিতে প্রভাব পড়েছে। এরই মধ্যে বিশ্বব্যাপী সংকট দেখা দিয়েছে। দেশে দেশে মূল্যস্ফীতি রেকর্ড ছুঁয়েছে। নাগরিকদের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে গেছে।

 

অন্যদিকে করোনা মহামারি থামতে চীনের কঠোর নীতি বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলেছে। কারণ দেশটিতে এখনো লকডাউন, সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ অব্যাহত রয়েছে। এতে সরবরাহ ব্যবস্থায় ঘাটতি দেখা দিয়েছে।

 

হংকং ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির চীনা অর্থনীতির বিশেষজ্ঞ কারস্টেন হোলজ বলেন, চীন এই বছরের জন্য যে পাঁচ দশমিক পাঁচ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে তা পূরণ করা সম্ভব নাও হতে পারে।তবে এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের জন্য অর্থনৈতিক যে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে তা অনেকাংশেই ইতিবাচক।

 

এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক এক প্রতিবেদনে জানায় চলতি বছরে এশিয়ার প্রবৃদ্ধি হতে পারে পাঁচ দশমিক দুই শতাংশ। আগামী বছরে যা বেড়ে দাঁড়াতে পারে পাঁচ দশমিক তিন শতাংশে। যদিও এই হার গত বছরের পূর্বাভাসের চেয়ে কম।



জনপ্রিয়


আন্তর্জাতিক থেকে আরও পড়ুন

৪০ দিনের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ- কোন দেশে কত নিহত, বাংলাদেশির সংখ্যা কত?

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর পর পাল্টা জবাব দিয়েছে ইরান। শুধু ইসরায়েল নয়, ইরানের পক্ষ থেকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায়ও হামলা চালানো হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের সম্পূর্ণ ও সর্বাত্মক বিজয় হয়েছে: ডোনাল্ড ট্রাম্প

ইরান-এর সঙ্গে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, এই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ‘সম্পূর্ণ ও সর্বাত্মক বিজয়’ অর্জন করেছে।

যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে ‘ইরানের বিজয়’

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের উত্থাপিত ১০ দফা দাবি মেনে নিয়েছেন বলে দাবি করেছে তেহরান। এর পরিপ্রেক্ষিতে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে নিজেদের কূটনৈতিক বিজয় হিসেবে দেখছে ইরান।

যুক্তরাষ্ট্র ‘রেড লাইন’ পার হলে সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে ছড়িয়ে পড়বে: ইরান

যুক্তরাষ্ট্র যদি তেহরানের নির্ধারিত ‘রেড লাইন’ অতিক্রম করে, তাহলে চলমান সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে ছড়িয়ে পড়তে পারে- এমন কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।