আন্তর্জাতিক


যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে ‘ইরানের বিজয়’


দুরবীন ডেস্ক

দুরবীন ডেস্ক

প্রকাশিত:০৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:২৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার

যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে ‘ইরানের বিজয়’

ছবি: সংগৃহীত


যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের উত্থাপিত ১০ দফা দাবি মেনে নিয়েছেন বলে দাবি করেছে তেহরান। এর পরিপ্রেক্ষিতে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে নিজেদের কূটনৈতিক বিজয় হিসেবে দেখছে ইরান

 

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন এবং সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল-এর বক্তব্যে এমন ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের উত্থাপিত শর্তসমূহে সম্মতি দেওয়ায় এই চুক্তিকে ‘বিজয়’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

 

এক বিবৃতিতে সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল জানায়, চুক্তিটি ইরানের কৌশলগত অবস্থানকে শক্তিশালী করেছে এবং এটি দেশের জন্য একটি বড় কূটনৈতিক সাফল্য।

 

প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করার আগেই তেহরান এতে সম্মতি দিয়েছিল। ফলে আলোচনায় ইরানের অবস্থানকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

 

১. হরমুজ প্রণালিতে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা:
হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিয়ন্ত্রিত নৌযাতায়াত নিশ্চিত করতে চায় ইরান। এর মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ এই আন্তর্জাতিক নৌপথে নিজেদের ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে।

 

২. মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার:
পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি ও সেনা মোতায়েন সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে তেহরান।

 

৩. মিত্র শক্তির নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ:
ইরান তাদের মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ, হামাস ও হুতিদের ওপর হামলা বন্ধের দাবি জানিয়েছে।

 

৪. নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও সম্পদ ফেরত:
ইরানের ওপর আরোপিত সব ধরনের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা বাতিল এবং বিদেশে আটকে থাকা সম্পদ ফেরত দেওয়ার দাবি তোলা হয়েছে। পাশাপাশি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদআন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা-এর নেতিবাচক প্রস্তাব প্রত্যাহারের কথাও বলা হয়েছে।

 

৫. যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ:
গত বছরগুলোর সামরিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতির জন্য পূর্ণাঙ্গ ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে ইরান।

 

৬. আন্তর্জাতিক আইনি নিশ্চয়তা:
চুক্তির সব শর্তকে জাতিসংঘের বাধ্যতামূলক প্রস্তাব হিসেবে পাস করার দাবি জানিয়েছে তেহরান, যাতে ভবিষ্যতে কোনো পক্ষ তা লঙ্ঘন করতে না পারে।

 

বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে মধ্যপ্রাচ্যের শক্তির ভারসাম্যে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের প্রভাব বৃদ্ধি এবং মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের বিষয়টি বৈশ্বিক রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

তবে চুক্তির বাস্তবায়ন ও আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা এখনো নির্ভর করছে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর আনুষ্ঠানিক অবস্থান ও জাতিসংঘের সিদ্ধান্তের ওপর।

 

সূত্র: আল জাজিরা


সম্পর্কিত

আন্তর্জাতিক খবরআন্তর্জাতিকমধ্যপ্রাচ্যে

জনপ্রিয়


আন্তর্জাতিক থেকে আরও পড়ুন

১১ মাসের কন্যাসন্তানকে হত্যা, দুর্ঘটনা বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টাকালে বাবা-মা গ্রেফতার

ভারতের বেঙ্গালুরুতে মাত্র ১১ মাস বয়সী এক কন্যাশিশুকে হত্যার পর ঘটনাটি দুর্ঘটনা বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে শিশুটির বাবা ও মাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে মৃত্যু বেড়ে ৩ হাজার ৫৩৫

ভেনেজুয়েলায় গত সপ্তাহে আঘাত হানা দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩ হাজার ৫৩৫ জনে পৌঁছেছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ১৬ হাজার ৭৪০ জন এবং প্রায় ১৮ হাজার মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছেন। দুর্যোগ-পরবর্তী পরিস্থিতিতে দেশটিতে ভয়াবহ স্বাস্থ্য সংকট দেখা দিতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

বালোগানের নিষেধাজ্ঞা পুনর্বিবেচনায় ফিফাকে অনুরোধ করেছিলেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় ফুটবল দলের স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগানের এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা পুনর্বিবেচনার জন্য ফিফাকে অনুরোধ করেছিলেন বলে নিশ্চিত করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার ভাষ্য, নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকলে তা চলমান বিশ্বকাপের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলত।

ট্রাম্পকে ‘ফিফা শান্তি পুরস্কার’ দেওয়ায় ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ফিফার ‘ফিফা শান্তি পুরস্কার’ দেওয়াকে কেন্দ্র করে ফিফা সভাপতি জিয়ানি ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন ইউরোপীয় পার্লামেন্টের ৫০ জন সদস্য। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ফিফার নৈতিকতা কমিটির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা।